১১:০১ পি.এম
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর ছাত্রী ফুটবল ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১–০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফুটবল দল। রানার্সআপ হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রতিযোগিতায় সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, যিনি চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে ট্রফি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
প্রতিযোগিতার দাবা ইভেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যাহা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে অর্জন করেছে। রানার্সআপ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। দাবা ইভেন্টে দেশের ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ফুটবল ও দাবা—দুই ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা।
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডও হারল পাকিস্তানের কাছে
১৪ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় দেশের ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১০৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দাবা প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের অরবিটাররা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায়।" তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ একসময় ছিল, কিন্তু তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। খেলাধুলাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ড. আমানুল্লাহ জানান, দেশের আটটি বিভাগে স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের স্বপ্ন আধুনিক ও বিশ্বমানের স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা।" বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রীড়াবিজ্ঞান শিক্ষা এবং বাংলাদেশের বিপিএড শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্সের সঙ্গে আমাদের বিপিএড এক নয়। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অলিম্পিক মানের স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়া দাবা, আর্চারি, গণিত ও ইংরেজি অলিম্পিয়াড আয়োজনের বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে সক্রিয় করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। মেয়েদের সব ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনার উড়তে থাকা জয়রথ থামাল পিএসজি, ৪-২ ব্যবধানে জয়
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও পরাজিত সব দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "খেলায় হার-জিত থাকবেই; অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় বিষয়।" এবারের আয়োজনের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, "খেলাধুলায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।" বর্তমানে এর গুরুত্ব আরও বেশি। খেলাধুলা এখন আর শুধু আনন্দ বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তরুণরাই আগামী দিনে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যতের আশার বাতিঘর হিসেবে অভিহিত করেন।
নারী ফুটবলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তাছলিমা আক্তার সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিয়া। আর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিমা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম এবং অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তরগুলোর পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন