১১:০২ পি.এম
ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জাতির স্বকীয়তা দুর্বল করার প্রচেষ্টা চলছে। এই ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের তরুণদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে মরমি সাধক লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’ নামক সংগঠন।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ৭টি সেনাবাহিনী ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন
রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার গ্যারান্টি হচ্ছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক গভীরতার উন্মোচন, চর্চা ও অনুশীলন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে দেশকে একমুখী করার চেষ্টা হয়েছে। এই সময়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে এবং স্বাধীনতার কথা বলে অন্য দেশের দাসত্ব করা হয়েছে। তবে আশার বিষয় হলো, তরুণেরা এসব বিষয় উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার কথা বলা হলেও কার্যত দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। বাংলাদেশের সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমা অবাধে প্রদর্শনের উদ্যোগও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি উদাহরণ। একটি জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার সার্বভৌমত্ব, এবং সেই সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদী চেতনা ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার যে বিকাশ ঘটেছে, তার প্রকাশ ঘটে জুলাই আন্দোলনে। নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যখন মানুষ জেগে ওঠে, তখন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অমানবিক শাসনের পতন ঘটে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল মাঠে ট্রাক ঢুকে নিহত ২, আহত ১০
বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, লালন শাহ, মুকুন্দরামসহ বাংলার লোককবিদের চিন্তায় মানবতাবাদী দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। তাদের দর্শন সহজ ভাষায় মানুষের মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও মানবিকতার কথা বলেছে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতেও এই ধারার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, লালনের গান ও বাউল সুর বাংলা সাহিত্য-সংগীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও বাউল সুরের প্রভাব বিদ্যমান। তাই সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতীয় চেতনায় মানবতাবাদী দর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন