০৯:৪৬ এম
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিওনিয়ার এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদের অভিযোগকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে চলা সমালোচনার প্রেক্ষিতে নিজেকে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, আমি বর্ণবাদী নই।
এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইলন মাস্ক মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গী শিভন জিলিস অর্ধেক ভারতীয়, এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে। এ কারণে তিনি মনে করেন, নিজেকে বর্ণবাদী বলা ঠিক নয়।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটিতে মাস্ক জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে এক সন্তানের নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত ভারতীয় বংশোদ্ভূত পদার্থবিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের সম্মানে। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে মাস্ক ও জিলিসের যমজ ছেলে একটির মধ্যনাম রাখা হয়েছে ‘শেখর’।
আরও পড়ুন: সৌদিতে চারটি ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে মিসর
তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রসঙ্গও তুলে ধরে জানান, তার কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ কাজ করছেন এবং সেখানে তিনি বর্ণবাদের কোনো উপস্থিতি দেখছেন না।
সম্প্রতি পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের মহাকাব্যিক ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’র কাস্টিং নিয়ে বিতর্কের জের ধরে ইলন মাস্ককে ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কেউ কেউ। গত মাসে স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর মাস্কের সম্পদ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ট্রিলিয়নের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছিলেন, যদিও স্পেসএক্স-এর শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তার সম্পদ এক ট্রিলিয়নের নিচে নেমে গেছে।
সাক্ষাৎকারে ইলন মাস্ককে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি ‘মুসলিম-বিদ্বেষী’ কিনা— জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে হ্যাঁ বা না বলেননি। কিন্তু তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি পশ্চিমা সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কোনো দেশে আসে, তবে আমি তার বিরুদ্ধে। আমি ধর্ষণ ও খুনের বিরুদ্ধে। পশ্চিমা বিশ্বে আমরা যে নিয়ম ও আইনগুলো মেনে অভ্যস্ত, তার বিরোধী কোনো নিয়ম বা আইন চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমি।’
ক্রিস্টোফার নোলান ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’-তে বৈচিত্র্যময় কাস্টিং করার কারণে মাস্ককে ’শ্বেতাঙ্গ-বিদ্বেষী বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। নোলান অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি নিজের সততা হারিয়েছেন। ‘দ্য ওডিসি’তে হেলেনের চরিত্রে অস্কার জয়ী কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা ইয়ংকে কাস্ট করা নিয়ে বিতর্কের শুরু।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত করেছে
একজন এক্স ব্যবহারকারী উল্লেখ করেন, হোমারের মূল টেক্সটে হেলেনকে ‘ফর্সা চামড়ার’ এবং ‘সোনালী চুলের’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর মাস্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, নোলান তার ‘সততা হারিয়েছেন’ এবং তিনি ‘হোমারের কবরে প্রস্রাব করছেন’। কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী নেওয়ায় মাস্ক একে ‘ঐতিহাসিকভাবে ভুল’ বলে আখ্যা দেন।
মাস্ক দাবি করেন, ক্রিস্টোফার নোলান অস্কার পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতেই সিনেমায় এই ‘ডাইভারসিটি’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমালোচনার জবাবে লুপিটা ইয়ংও মনে করিয়ে দেন, হেলেন কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র নন। বরং গ্রিক পুরাণের একটি কাল্পনিক বা পৌরাণিক চরিত্র। তাই এখানে যেকোনো বর্ণের মানুষ অভিনয় করতেই পারেন।
বিতর্ককে আরো উস্কে দেওয়ার জন্য মাস্ক জানিয়েছেন, তার এআই ভিডিও টুল ‘গ্রক ইমাজিন’ দিয়ে চলতি বছরের শেষের মধ্যে ‘দ্য ওডিসি’র একটি সম্পূর্ণ এবং ’ঐতিহাসিকভাবে নিখুঁত’ চলচ্চিত্র বানাবেন।
আরও পড়ুন: তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন