ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভৈরবে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন


ভৈরবে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আরমান হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি ভাতা বিতরণে অনিয়ম, গ্রাম পুলিশের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্তও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকারি সম্মানী ভাতা বিতরণের সময় “উপর মহলে দিতে হবে” বলে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম পুলিশের সদস্যদের বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু নারী সেবাগ্রহীতার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন,
“তার বিভিন্ন অনিয়ম দেখে আমি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি চাই, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আরমান হোসেন বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আজ তদন্ত হয়েছে। আমি যদি অভিযুক্ত প্রমাণিত হই, তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ বলেন,
“বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই এ মুহূর্তে আমার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্ধগলিত মরদেহ দেখে চিনতে পারেননি স্বজনরা, গ্রেপ্তার ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


অর্ধগলিত মরদেহ দেখে চিনতে পারেননি স্বজনরা, গ্রেপ্তার ৬

জামালপুরের ইসলামপুরে লাগেজবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহটিকে প্রথম দফায় শনাক্ত করতে পারেননি নিহতের পরিবারের সদস্যরাও। তবে পরে মরদেহের সাথের পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে তারা মরদেহটি শনাক্ত করার নির্ধারণ করেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত নায়েব আলী (৩৫) মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার অধিবাসী ছিলেন। পেশায় ছিলেন রিকশাচালক।

পিবিআই জানাই, গত ২১ জুন নায়েব আলী নিখোঁজ হয়ে পড়েন। এনিয়ে তাঁর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। দুই দিন পরে, ২৩ জুন ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে পুলিশ লাগেজবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে প্রথম দফাতে পরিবারের সদস্যরা সেটি শনাক্ত করতে পারেননি। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর নিখোঁজ ব্যক্তির জিডির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে স্বজনদের আবার মর্গে নেওয়া হলে তারা পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে মরদেহটি নায়েব আলীর বলে নিশ্চিত হন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আবদুল কাদের (৫৪), রাসেল হোসেন (৩৪) এবং সাগর পাশা (২৬)। তারা সবারই বাসস্থান মেলান্দহ এলাকায়।

জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানিয়েছেন, তদন্তের এক পর্যায়ে নাহিদুল ইসলামের ওপর সন্দেহ বেড়ে যায়। পরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাহিদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি নিহতের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এরপর পরিকল্পনার অনুযায়ী নায়েব আলীকে একটি ভাঙারির দোকানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পেছন থেকে জিআই তার দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ একদিন একটি ড্রামে রাখা হয়। এরপর অটোরিকশাটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা স্থানে বিক্রি করা হয় এবং পরবর্তীতে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ইসলামপুরের বেনুয়ারচর এলাকার মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, আদালতেও তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেড় মাস আগে বদলির আদেশ, এখনো মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরেই তন্ময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


দেড় মাস আগে বদলির আদেশ, এখনো মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরেই তন্ময়

মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরের সুপার (সংযুক্ত পোস্টমাস্টার) তন্ময় দে চৌধুরী।

তন্ময় দে চৌধুরীকে মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘর থেকে গত ৬ মে পোস্টমাস্টার জেনারেল, পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রামের নির্দেশে বদলি করা হয়। বদলি আদেশ অনুযায়ী, তার নতুন কর্মস্থল রাঙামাটি প্রধান ডাকঘরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার (সংযুক্ত সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল, বৈদেশিক ডাকঘর, সিলেট) হওয়া কথা।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বদলি আদেশ জারির প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তন্ময় দে চৌধুরী যথা স্থানে যাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গ্রাহকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকে মনে করেন, কোনো অদৃশ্য প্রভাব বা বিশেষ সুবিধার জন্য তন্ময় দে চৌধুরী বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে পূর্বের কর্মস্থলেই রয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এছাড়া, তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মৌলভীবাজার থেকে বদলির আদেশ পাওয়ার পর, নতুন কর্মস্থলে কেন যোগদান করছেন না—এ প্রশ্নের জবাবে তন্ময় দে চৌধুরী বলেন, 'আমার কাছ থেকে যিনি দায়িত্ব বুঝে নেবেন, তিনি এখনও আসেননি। দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে আমার কিভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করব?'

এ বিষয়ে সিলেটের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল সুজিত চক্রবর্তী বলেন, 'তন্ময় দে চৌধুরীর বদলির আদেশ প্রায় দেড় মাস আগে জারি হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এতদিন পরও তিনি পূর্বের কর্মস্থলে একই পদে বহাল রয়েছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।'

তিনি আরও বলেন, 'তন্ময় দে চৌধুরী কেন নতুন কর্মস্থলে যোগদান করছেন না, সে বিষয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, পোস্টমাস্টার জেনারেলের (পিএমজি) সঙ্গে কথা বলব।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে এবং সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে জেলা যুবদলের উদ্যোগে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি জেলার যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মাহমুদের নেতৃত্বে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি রাশেদুল হক, সহসভাপতি নাসির আহমেদ, সহসভাপতি রাশেদ কবীর আকন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমান, সৈয়দ তৈমুর, রুমেল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল হক জালাল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আরিফুল হক মাসুদ, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইয়াছিন মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে নেতারা অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দেন। তাদের বক্তব্য ছিল, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে যুবদল সাংগঠনিক কার্যক্রমকে জোরদার করছে। তারা আরও বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা সৃষ্টি করছে। দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার এই কার্যক্রম প্রতিহত করতেই যুবদল সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে। সমাবেশে জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহ রুটে ঘন ঘন ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল-লাইনচ্যুতি, নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


ময়মনসিংহ রুটে ঘন ঘন ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল-লাইনচ্যুতি, নেপথ্যে কী?

যাত্রাপথে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল বা লাইনচ্যুতি যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে ঢাকা–ময়মনসিংহ–জামালপুর রেলপথে। একটির পর এক এই ধরনের ঘটনায় ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো ইঞ্জিন আর দুর্বল লাইনের সামগ্রিক সমস্যা হচ্ছে বড় কারণ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরে সিন্ডিকেটের কারণে রেলপথে উন্নয়ন না হওয়ায় রেলসেবা থেকে জনগণকে অবরুদ্ধ করাও হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, রেলপথের মানোন্নয়নে সরকার সচেষ্ট হয়েছে এবং প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

লোকোশেড থেকে ট্রেন ছাড়ার আগে ইঞ্জিনের ব্রেক, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, জ্বালানি ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় পরীক্ষা করা হয়। যাকে রেলওয়ের পরিভাষায় বলা হয় লোকোমেটিভ। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ–জামালপুর রেলপথে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা বেড়েছে। কখনও চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে, কখনও ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝপথে থেমে গেছে, আবার কখনও হুক ভেঙে ইঞ্জিন থেকে বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এই রুটে চলতি জুন মাসেই তিনটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ১৫ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গফরগাঁও এলাকায় আন্তনগর জামালপুর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ও বগির সংযোগস্থলের হুক ভেঙে ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই দিন সন্ধ্যার আগে চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন লাগে। ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে বিকল্প ইঞ্জিনে ট্রেনটি চালানোর চেষ্টা হলেও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের সরারচর এলাকায় সেটিও বিকল হয়ে পড়ে। ইঞ্জিনের সংকটের কারণে সেদিন চট্টগ্রামগামী ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনের যাত্রাও বাতিল হতে হয়েছিল।

এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৮টি এবং ২০২৫ সালে ২৫টি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়েছিল। এমন ঘটনার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে আটকে থাকে ট্রেন। বিপরীতে ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

কিন্তু কেন বারবার এই বিকল দশা? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের অধিকাংশ ইঞ্জিনের বয়স পেরিয়েছে ৩০ থেকে ৪৫ বছর। এর মধ্যে দুটি ৭৩ বছরের পুরনো ইঞ্জিনও রয়েছে। ২০ বছরের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ায় মাঝপথেই এগুলো অচল হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, রেলপথে পাথর, স্লিপার ও নাট–বল্টুর ঘাটতি এবং লাইনের দুর্বল অবস্থার কারণে ধীরগতিতে ট্রেন চালাতে হয়। তবে প্রায়ই ঘটছে লাইনচ্যুতি। সম্প্রতি লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ অঞ্চলের অধিকাংশ ইঞ্জিনই পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। চলাচলের সময় অতিরিক্ত গরম হলে অনেক ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। অন্যদিকে, রেলপথে পাথর, স্লিপার ও নাট–বল্টুর ঘাটতি এবং লাইনের দুর্বল অবস্থার কারণে ট্রেন ধীরগতিতে চালাতে হয়। নতুন ইঞ্জিন সংযোজন ও রেলপথ সংস্কার ব্যতীত পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

ময়মনসিংহ লোকোশেডের পরিদর্শক শফিউল হাসান বলেছেন, পুরোনো ইঞ্জিন ও দুর্বল রেলপথের কারণে নির্ধারিত গতিতে ট্রেন চলালে এসব সমস্যা হয়। অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ মেরামতের আগেই ইঞ্জিন আবার চলাচলে নিয়ে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। রেলপথ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে একাধিক বার চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা, জামালপুর, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম রুটে ১৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। তবে ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে ভাওয়াল ও ধলেশ্বরী নামে দুটি মেইল ট্রেন এবং মোহনগঞ্জগামী দুটি লোকাল ট্রেন ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী একটি লোকাল ট্রেন বন্ধ রয়েছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সিন্ডিকেটের কারণে রেলপথে উন্নয়ন না হওয়ায় রেলসেবা থেকে জনগণকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ জানান, রেলপথে দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ বিষয়ে অবহেলা করছেন। দীর্ঘদিন রেলপথ সংস্কার না হওয়া, নিয়মিত পাথর না ফেলা এবং পুরোনো ইঞ্জিন যথাযথভাবে মেরামত না করায় যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাঁর দাবি, রেলের উন্নয়নে অবহেলার কারণে জনগণ যেমন নিরাপদ যাতায়াত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেলপথের মানোন্নয়নে সরকারের নজর রয়েছে, তারা প্রকল্প প্রণয়নের কাজ করছে। রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, লাইনচ্যুতির ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও তারা নিয়মিত ইঞ্জিন বিকলের সমস্যায় পড়ে যাচ্ছেন। অধিকাংশ ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ। নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্রীপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে বিদ্যাগঞ্জ, গৌরীপুর, আঠারবাড়ি, মোহনগঞ্জ ও জারিয়া পর্যন্ত রেলপথ সংস্কার জরুরি। পাথর কমে যাওয়ায় চাপ পড়ে এসব রেলপথে লাইন ভেঙে যায়। এখন লাইন সংস্কার হলে লাইনচ্যুতির ঘটনা কমে আসবে এবং ট্রেনের গতিও বাড়বে। এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ করছে।

শুধুমাত্র মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন আর নড়বড়ে লাইনের কারণে এই রুটের এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো যেন চলে লোকালের গতিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পেতে হলে ইঞ্জিন সংকট ও ফিটনেস সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার। সেই সঙ্গে ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজন ডুয়েল গেল ডাবল লাইন স্থাপন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%