ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোহাম্মদপুরের পর রসুলপুরে আস্তানা, ড্রোনে মাদক সরবরাহের অভিযোগ মান্না সুমন-শিল্পীর বিরুদ্ধে


মোহাম্মদপুরের পর রসুলপুরে আস্তানা, ড্রোনে মাদক সরবরাহের অভিযোগ মান্না সুমন-শিল্পীর বিরুদ্ধে

বরিশাল মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মহানগরীর পলাশপুর, রসুলপুর, রাজ্জাক স্মৃতি কলোনি ও বালুর মাঠ এবং স্টেডিয়াম কলোনি এলাকায় মাদক বেচাকেনা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরিশাল নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত সুমন হাওলাদার ওরফে মান্না সুমন এবং তার স্ত্রী শিল্পী বেগমকে ঘিরে মাদক কারবারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে অতীতে তাদের মাদক, অস্ত্র ও নগদ অর্থসহ আটক হলেও। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একাধিক অভিযানে আটক, জব্দ হয়েছে মাদক ও নগদ অর্থ

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানাধীন মোহাম্মদপুর এলাকার নিজ বসতঘর থেকে মান্না সুমন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগমকে আটক করা হয়। ওই সময় তাদের আস্তানা থেকে বিভিন্ন মালামাল ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে বিভিন্ন অভিযানে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, দেশীয় মদ ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও রয়েছে। মাদক বিক্রির অর্থ হিসেবে ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০ টাকা উদ্ধারের কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও স্থানীয় কাউনিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলার কয়েকটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সড়ক পাকা না হওয়ায় কৃষকদের সমস্যা

তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হলেও পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারও মাদক কারবারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

আস্তানা বদলে ‘নতুন কৌশল’?
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বর্তমানে মান্না সুমন ও শিল্পী বেগম মোহাম্মদপুর এলাকার আগের অবস্থান ছেড়ে পোর্ট রোডের বালুরঘাট থেকে নৌপথে রসুলপুরের অপেক্ষাকৃত নির্জন এলাকায় নতুন আস্তানা গড়ে তুলেছেন।
সূত্রগুলোর দাবি, দুর্গম ও নির্জন অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই এলাকায় অভিযান চালানোর আগেই তাদের কাছে অভিযানের খবর পৌঁছে যায়—এমন অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, মাদক সরবরাহে তারা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের কৌশল নিয়েছেন। অনুসন্ধানী সূত্রের দাবি, ঢাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি উন্নতমানের ড্রোন সংগ্রহ করা হয়েছে। ক্রেতারা আগের দিন সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদকের জন্য টাকা পরিশোধ করে অর্ডার দেন। এরপর ভোররাত থেকে সকাল হওয়ার আগের সময়ের মধ্যে ড্রোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে মাদকের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রের দাবি, রাজ্জাক স্মৃতি কলোনির বালুর মাঠসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে সেখানে থাকা তাদের প্রতিনিধিরা প্যাকেট গ্রহণ করে ক্রেতাদের কাছে মাদক পৌঁছে দেন।
তবে ড্রোন ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের অভিযোগের বিষয়ে তালাশ বিডি একটি সূত্রের কাছ থেকে পাও খবর। স্বাধীনভাবে ড্রোনটির অস্তিত্ব, ব্যবহার বা সরবরাহ কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তালাশ বিডির ড্রোনের ব্যাপারে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, সহায়তায় প্রতিমন্ত্রী টুকু

বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
চেকপোস্ট ও সড়কে অভিযান, আড়ালে মাদক কারবার?
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান ও বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালিত হলেও অভিযোগ রয়েছে, নগরীর পরিচিত কয়েকটি মাদক স্পটে কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশপুর, রসুলপুর, রাজ্জাক স্মৃতি কলোনি ও বালুর মাঠ এবং স্টেডিয়াম কলোনির বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির তৎপরতা রয়েছে। ফলে শুধু সড়ক ও চেকপোস্টকেন্দ্রিক অভিযান নয়, মাদকের মূল সরবরাহকারী ও অর্থের উৎস শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযানের খবর ফাঁসের অভিযোগ
এদিকে মাদক কারবারিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের যোগাযোগ থাকার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের খবর আগেই মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় অনেক সময় মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
আসাদু কর্মকর্তাদের মৃত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরেও নজরদারি বাড়ানোর।
বরিশালের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও কার্যকর করতে হলে শুধু মাদক বিক্রেতাদের আটক করলেই হবে না; অভিযানের তথ্য কীভাবে বাইরে যাচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের ভেতরে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
‘

এ বিষয় নিয়ে তালাশ বিডির পক্ষ থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম বার, এর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে অভিযোগগুলো জানানো হয় এবং তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশও চিন্তিত এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের কিছু সদস্যের মাধ্যমে অভিযানের খবর আগেই মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে শিগগিরই সফলতা আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বরিশালে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এখন প্রয়োজন শুধু নিয়মিত অভিযান নয়; মাদকের সরবরাহের উৎস, অর্থের লেনদেন, কথিত নেটওয়ার্ক এবং অভিযানের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ—সবকিছুর সমন্বিত তদন্ত। বিশেষ করে ড্রোন ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা যাচাই হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও উন্মোচিত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ এম


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে তেলের দাম। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এরইমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় বাজারে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৩৪ ডলার হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেরে ওয়েস্ট টেক্সাস মিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.৫৫ ডলারে।

এদিকে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের মজুতও কমছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)  চলতি ও আগামী বছরের তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

 

ইআইএ’র নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম হতে পারে ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলার। 

আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম ৮৪.৬৫ ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইআই’র এই পূর্বাভাস গত ৩ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ফলে আগামী দিনে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি ও দাম কোন দিকে যায়, তা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের স্বার্বভৌম স্বার্থে জরুরি তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


ভারতের স্বার্বভৌম স্বার্থে জরুরি তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি দিল্লি আসার পরিকল্পনা করছেন? দিল্লিতে আসার তারিখ নির্ধারিত হওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার ভারত সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দিল্লির সাউথ ব্লকে এক অফিসারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ওই অভিজ্ঞ অফিসারটি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফরে দিল্লি আসা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং ভারতের সার্বভৌম স্বার্থের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিন সফরে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি সরাসরি চিনে না গিয়ে মালয়েশিয়া হয়ে গিয়েছিলেন, তবুও তখন ভারতে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ভারতে না এসে চিনে গেলেন? এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে বাংলাদেশ কি বার্তা দিল? সাউথ ব্লকের অফিসারদের মধ্যে একাংশের ধারণা, শেখ হাসিনার পর বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি চীন-পাকিস্তান অক্ষের দিকে ঝুঁকছে।

এ কারণে তারেক ভারতে আসতে আগ্রহী নন। তবে আমি মনে করি, এটি সঠিক নয়! তারেকের জন্য ভারত সফর অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু তিনি ভারতে এসে শূন্য হাতে ফিরতে চান না। এতে ঢাকা ফিরে তার সমস্যার পরিমাণ বাড়বে।

ওই অফিসারটি বলছিলেন, কূটনীতিতে অনেক স্তর থাকে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিন সফরে গিয়েছিলেন। পদ্মা সেতুর নির্মাণের সময় চিনের ইঞ্জিনিয়াররা সেখানে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন।

চিনের সঙ্গে ভারতও সীমান্ত আলোচনা বেশ কয়েক দফায় চালাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চিনে যাচ্ছেন বলেই, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নয়াদিল্লি চাইবে না, এটি কখনোই হতে পারে না।

আমি দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় ধরে দিল্লিতে কর্মরত ছিলাম। আমি একজন বাঙালি সাংবাদিক এবং আনন্দবাজার পত্রিকার দিল্লি সম্পাদক ছিলাম।

শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার বা নেপালে কী ঘটছে তা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশের বিষয়ে আমার আগ্রহ ১৬ আনার ওপর ১৮ আনা। মাতৃভাষা বাংলা, দিল্লিতে থাকলেও আমি একজন অনাবাসী বাঙালি সাংবাদিক। তাই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অটুট থাকুক, মধুর হোক- সেটাই আমার কাছে সবসময় কাম্য! আমি একজন ভারতীয় সাংবাদিক। বাংলাদেশের বিএনপি, জামায়াত-আওয়ামী লীগ এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলীয় ব্যবস্থায় আমি কোনো দলের সমর্থক বা কোনো দলের বিশেষ সমালোচক নই।

ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারেকের ভারত সফরটি শুধু তারেক সাহেবের জন্য নয়, বরং নরেন্দ্র মোদির জন্যও বিশেষ প্রয়োজন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি আয়তনে ছোট হতে পারে, কিন্তু এর জিও-স্ট্র্যাটেজিক পজিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের এই জিও-স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও বুঝেছিলেন। তিনি অবসর গ্রহণের আগে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন, সঙ্গে কলকাতা সফরও করেছিলেন। বাংলাদেশের এই ভূখণ্ড নিয়ে চিন এবং আমেরিকার কিছু নিজস্ব কায়েমি স্বার্থ থাকতে পারে। এই কায়েমি স্বার্থের মধ্যে সংঘাত রয়েছে, বাংলাদেশ সরকারকে মুনশিয়ানার সঙ্গে এই দুটি দেশের টানাপড়েনের মধ্যে নিজেদের টিকিয়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

শেখ হাসিনার বাংলাদেশের রাজনৈতিক চালচিত্র থেকে বিদায় নেওয়ার পর ভারতের কাছে তারেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারেক ইউনূস নন! তিনি নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন! বাংলাদেশে দিনেশ ত্রিবেদীর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাই কমিশনার করে যে পাঠানো হয়েছে, তাকে ক্যাবিনেট র‍্যাঙ্ক দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, বিদেশমন্ত্রী এবং বিভিন্ন স্তরের মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলছেন। নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ঐক্যবদ্ধ করছেন। বাংলা ভাষা কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। ঢাকায় দুদেশের মধ্যে টি২০ ক্রিকেট হবে! ভিসা নিয়েও নীতি শিথিল করেছে, টুরিস্ট ভিসা থেকে মেডিক্যাল ভিসা যথেষ্ট উদার হওয়ার চেষ্টা করেছে ভারত। কাজেই ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করা কখনোই অগ্রাধিকার নয়।

শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতাচ্যুত হলেন, সেই ঘটনার আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বারবার ঢাকায় গিয়ে শেখ হাসিনাকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করাটা শুধুমাত্র একটি সামরিক এবং বিএনপি-জামায়াতের ক্যু অথবা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ষড়যন্ত্র-এভাবে বিশ্লেষণ করাটাকেও আমি অতি সরলীকরণ বলে মনে করি। নানান কায়েমি স্বার্থ সবসময়ই একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করতে চায়, বদল করতে চায়, কিন্তু সেটার মোকাবিলা করার জন্য যে রাজনৈতিক ইমিউনিটি, সেটি শাসকদলের থাকা প্রয়োজন। চিনে যখন তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে ছাত্রদের বিদ্রোহ হয়েছিল, তখন অনেকে বলেছিলেন, আসলে চিন উদার হতে গিয়ে জানলা খুলতে গিয়ে মশা ঢুকে পড়েছে, আর তাই ম্যালেরিয়া হয়ে গেছে, জানলা বন্ধ রাখা প্রয়োজন ছিল। এখানে প্রশ্নটা জানলা খোলা-বন্ধ করার নয়, মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া যাতে না হয় তার ইমিউনিটির ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি ছিল।

শেখ হাসিনার রাজত্বের শেষের দিকে তাঁর আওয়ামী লীগ এবং সরকারের যে ভয়াবহ দুর্নীতি দেখা যায়, যেভাবে মানুষ কর্মহীনতা, মূল্যবৃদ্ধি ও নানা আর্থিক সমস্যায় বিরূপ হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী অসন্তোষ ভারত বিরোধী অসন্তোষে পরিণত হয়েছে- সেই নির্মম সত্যগুলোকেও স্বীকার করতে হবে।

১৯৭১ সালের যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, তার যে স্মরণীয় ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে ঐতিহাসিক অবদান, বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে তাঁর যে ভূমিকা- এ সবই শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারত মনে করে। তবে এর মানে এই নয় যে, কংগ্রেস এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রিজমে আজও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কটাকে দেখতে হবে। সময়ের হাত ধরে কূটনীতিকে দিল্লি আপডেট করতে চায়! অতীতের পুনরাবৃত্তি নয়, প্রয়োজনে ভবিষ্যৎকে ‘রি ইনভেন্ট’ করতে হয়!

ইতিহাসের বোঝা বইতে গিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নতুন পথ ভাবতে হবে। বিএনপিকে বলা হয় ‘ট্রেড ফ্রেন্ডলি পার্টি’। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল তখনও বিএনপি বারবার ভারতীয় শাসক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইত। যোগাযোগ বার্তা দিত যে আমরা বাণিজ্য চাই, ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়! সেদিন ভারত একটা ঝুড়িতেই সব ডিম রাখার ভ্রান্ত নীতি নিয়ে চলছিল! সুতরাং পাকিস্তানের হাতে তারেক তামাক খাচ্ছেন বলে তারেকের ভারত সফরের সম্ভাবনাকে নষ্ট করা, তাতে ভারতের লাভ কোথায়? ভারতের স্বার্থেই তারেককে ভারতের কূটনৈতিক দৌত্যে শামিল করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে যারা সরকার চালাচ্ছেন- প্রধানমন্ত্রী, বিদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আরো অনেক শীর্ষ নেতা - তারা কেউ ছেলেমানুষ নন। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কাকে বাংলাদেশের বেশি প্রয়োজন, এই সহজ-সরল সত্যটা বাংলাদেশের সরকারও জানে। বাংলাদেশের ভারতের ওপর নির্ভরতা অনস্বীকার্য। সেটা ডিজেল থেকে গঙ্গা পানি-চুক্তি অথবা পেঁয়াজ সহ নানান পণ্যের আমদানি-রপ্তানি, সড়ক সংযোগ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্য- সব বিষয়েই দুটো দেশের সম্পর্ক গভীরভাবে যুক্ত। ভারতেরও প্রয়োজন একইভাবে! কাজেই মুষ্টিযুদ্ধ কূটনীতির ব্যাকরণ নয়।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আবার প্রধানমন্ত্রী করা—এটাও কখনো ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য হতে পারে না। শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে যেতে চাইলে এবং বাংলাদেশের সরকারও তাকে ফেরত চাইলে, তারেক সাহেবের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির দেখা হলে এসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে। ব্রিকসের বৈঠকে বাংলাদেশের না আসা তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়। কারণ ব্রিকসের সম্মেলনটা হচ্ছে ‘বহু-পাক্ষিক’। সেখানে রাশিয়া, চিন, ভারত- তারা আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম থেকেই ব্রিকস নয়, দ্বিপাক্ষিক সফরের কথাই আলাপ-আলোচনার স্তরে ছিল।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বলা হয়, দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে যখন আলোচনা করে, তখন কিছু বিষয় থাকে যেগুলি হচ্ছে দুটি দেশের অ্যাসপিরেশন বা ডিজায়ার। সেই ডিজায়ার শতকরা ১০০ ভাগ পূরণ নাও হতে পারে, কিন্তু আলাপ-আলোচনার মধ্যে দুটি দেশের মধ্যে কিছু ডিজায়ারের প্রাপ্তি হয়। আর সেটাকেই বলা হয় অ্যাফেক্টিভ ডিজায়ার (কার্যকর আকাঙ্ক্ষা)। গঙ্গা চুক্তি ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে, তার আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে পারেন। শেখ হাসিনার বিষয়, এমনকি হাদীর হত্যাকাণ্ড, ভারত তার আততায়ীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে? এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতেই পারে।

সুতরাং আমরা যদি প্রথমেই ধরে নিই তারেক পাকিস্তান এবং চিনের স্বার্থরক্ষা করছেন-তিনি ভারত বিরোধী। তাহলে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর যে 'প্রতিবেশী প্রথম-বিদেশনীতির বাস্তবায়ন অসুবিধাজনক হয়ে যায়। নরেন্দ্র মোদি সেটা জানেন। কেননা এর সঙ্গে তার ‘অ্যাক্ট-ইস্ট পলিসি’ বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে আছে।‌ সেটা অনেক বেশি দ্রুত এগোতে পারে।

জামায়াত এখন বিরোধী দল। বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের জামাতের রাজনীতির সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু জামাতের শীর্ষ নেতারাও এবারে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতবিরোধী বক্তব্য কার্যত রাখছেন না। তারাও দেখতে চাইছেন, ভারত কীভাবে আগামীদিনে এগোয়। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যখন গিয়েছিলেন, তখনও সেখানে গিয়েও প্রধান জামাত নেতার সঙ্গে সৌজন্যমূলক বৈঠক করেছিলেন। সেটা কোনো গোপন বৈঠক নয়। প্রকাশ্যে সেই বৈঠক হতে আমরা দেখেছি। বিরোধী দল জামায়াত। তারেক সাহেবও বিরোধী দলকে দুরমুশ করে দেব, এই মনোভাব নিয়ে যে যাচ্ছেন না, সেটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালীই করছে। ভারতও মনে করে, আলাপ আলোচনা একমাত্র পথ। আফগানিস্তানে যদি তালিবানের সঙ্গে ভারত আলাপ আলোচনা করতে পারে, তালিবানের বিদেশমন্ত্রী যদি ভারতে আসতে পারেন, সেখানে বাংলাদেশকে অচ্ছুত করে রাখাটা সম্পূর্ণ ভুল বলে মনে করি।

সাউথ ব্লক থেকে বেরোনোর সময়ও অন্তত এই আশাটুকু নিয়ে বেরোলাম যে, এখনো তারেক সাহেবকে ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা সাউথ ব্লকের পক্ষ থেকে বন্ধ হয়নি। আশা করা হচ্ছে, এখন যিনি বাংলাদেশের বিদেশ সচিব তিনি ভারতের হাইকমিশনার হয়ে অক্টোবর মাসের মধ্যে দিল্লি পৌঁছে যাবেন। আর নভেম্বর মাসের শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে আসতে পারবেন। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কটি চিরস্থায়ী বিষয়। রাজনীতির চরিত্র আসবে-যাবে। দুদেশের সম্পর্ক অটুট রাখাই দুদেশের স্বার্থ। তাই তারেক সাহেবের ভারতে আসা শুধুমাত্র বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ নয়, ভারতেরও স্বার্থ। আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

লেখক :

জয়ন্ত ঘোষাল

ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক, আনন্দবাজার পত্রিকার সাবেক দিল্লি সম্পাদক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮৬

ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কোরনের কাছে সমুদ্রে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৮৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।

স্থানীয় সময় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কোরনের কাছাকাছি জলসীমায় এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পরপরই ফেরিটিতে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন থেকে বাঁচতে অনেকে পানিতে ঝাঁপ দেন বলে জানা গেছে।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ৮৬ জন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব ফেরিটিতে থাকা মানুষের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তৎপরতা চলছে।

 

কোরন ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেখানকার স্বচ্ছ নীল পানি, দ্বীপপুঞ্জ ও প্রবালপ্রাচীরের কারণে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এলাকাটি ব্যাপক জনপ্রিয়। ফলে ফেরিটিতে পর্যটকও থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং ফেরিটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে সমুদ্র এলাকায় উদ্ধারকারী দল ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্ঘটনার পর ফেরিটিতে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে নৌযান ও অন্যান্য উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের আক্রমণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের আক্রমণে

জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে প্রায় ৮টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে, পরবর্তীতে এসব বিমান মেরামত করে পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে, হামলায় একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট (ওয়ারথগ) যুদ্ধবিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে বিমানটির একটি ডানা ভেঙে যায়।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ইরান একটি মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করার পর তারা ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। এই ঘটনার পর ইরান পালটা হামলা শুরু করে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ৮টি তেলবাহী ট্যাংকার, ২টি যুদ্ধজাহাজ এবং জর্ডানের ওই মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

সিবিএসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য প্রজেক্টাইল ঠেকাতে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ৩০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%