মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৪ পি.এম
প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেও এই কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
চাঁদপুরের কচুয়ায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায়।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ নাহিদ ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু নাসির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিনা আক্তার এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৃণালিনী কর্মকার।
এছাড়া কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী শিশুরাও সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথ শিক্ষা, পরিচর্যা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারাও সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তাই তাদের প্রতি সহানুভূতির পাশাপাশি অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পরিবারের আর্থিক সংকট যেন কোনো শিশুর শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির সুযোগ সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের ভিঙ্গাইর বাজার (টুকেরবাজার) পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে বাজার উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমাজসেবী জাহেদ আহমদ ফারহানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সভাটি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) টুকেরবাজারে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহেদ আহমদ ফারহান। বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাসুক আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বীরশ্রী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মুরব্বি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা সভায় ভিঙ্গাইর বাজারের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তারা বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজারের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বীরশ্রী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের উপস্থিত জনতা জাহেদ আহমদ ফারহানের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহেদ আহমদ ফারহান বলেন, "বীরশ্রী ইউনিয়নের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি গ্রামে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে পাকা রাস্তা, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের জন্য সহজ ও বিনামূল্যে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যুসনদসহ প্রয়োজনীয় সেবা সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করতে হবে। যুব ও নারী উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি ও কর্মসংস্থান উন্নয়নে আধুনিক কৃষি, সেচব্যবস্থা, কৃষক সহায়তা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
জাহেদ আহমদ ফারহান আরও বলেন, "স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে একটি সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তোলা প্রয়োজন।" তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরিষদের কার্যক্রম ও তথ্য নিয়মিত জনগণের সামনে প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিতে বলেন।
এ সময় জকিগঞ্জে অনুষ্ঠিত শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টে বীরশ্রী ইউনিয়ন দলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান জাহেদ আহমদ ফারহান। তিনি বলেন, "বীরশ্রী ইউনিয়ন দলের ওপর অন্যায়ভাবে এ জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।" এ ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বীরশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখেন ২নং ওয়ার্ডের রফিক উদ্দিন, ৯নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালিক, ১নং ওয়ার্ডের নজরুল ইসলাম ও সঞ্জন বিশ্বাস, ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুর রাজ্জাক ও মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, শিঙ্গাইরকুড়ীর মাওলানা শাহিদুর রহমান চৌধুরী, ৫নং ওয়ার্ডের সাব্বির আহমদ ও কাজী আব্দুল হালিম, ২নং ওয়ার্ডের লায়েক আহমদ ও রুবেল আহমদ, ৬নং ওয়ার্ডের ছালিম আহমদ, মাওলানা আফতাব উদ্দিন নোমানী, আলী আকসার জিহাদী, ৭নং ওয়ার্ডের নজরুল ইসলাম এবং ছানুহর আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বীরশ্রী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের দাবি, সভায় প্রায় হাজারখানেক মানুষের উপস্থিতি ছিল। পরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমাজসেবী জাহেদ আহমদ ফারহানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সমাজে যে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, তা মোকাবেলার জন্য বিশ্বের কোনো সরকারই যথেষ্ট প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এআই নিয়ে সামনে থাকা বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
বিল গেটস দীর্ঘদিন ধরে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্যে উদ্বেগের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন, প্রযুক্তিটির অপব্যবহার করে হামলার ঝুঁকি এবং এআইভিত্তিক ভার্চুয়াল সঙ্গীর প্রতি মানুষের অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। গেটস বলেন, “আমি মনে করি না, কোনো সরকারই এই বিষয়টি নিয়ে যতটা গভীরভাবে কাজ করা দরকার, ততটা করছে।” তার মতে, এআই সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা গেলে এবং ধনী-গরিব সবার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এটি বিশ্বের দরিদ্র মানুষের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে। তবে এ জন্য সরকারগুলোকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। গেটস বলেন, “এই বিষয়ে সরকারগুলো অনেক পিছিয়ে আছে।”
বিল গেটসের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, আগামী দুই বছরে এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে অন্তত ১০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি রিঙ্গিত। ফাউন্ডেশনের এই অর্থ মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতে কাজ করা বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করা হবে। এআই ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরিতেও কাজ করবে ফাউন্ডেশনটি। এর মধ্যে এমন ব্যবস্থা তৈরির বিষয় রয়েছে, যাতে বড় ভাষাভিত্তিক এআই মডেলগুলো বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এআইয়ের সুবিধা শুধু ধনী দেশ বা মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র মানুষের ব্যবধান যেন আরও না বাড়ে, বরং এই প্রযুক্তি সেই ব্যবধান কমাতে কাজে লাগানো উচিত।
স্বাস্থ্য খাতে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষভাবে আশাবাদী গেটস। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি স্বাস্থ্য খাতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা বোঝাতে গেলেও এর সম্ভাবনাকে কম করে বলা হবে। তার মতে, এআই ব্যবহার করে একদিকে যেমন প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ সহজ করা সম্ভব, অন্যদিকে নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির গবেষণাও দ্রুত করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। গেটসের ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এআই নিয়ে ১০০ কোটি ডলারের এই পরিকল্পনা তাদের আগে ঘোষণা করা বছরে ৯০০ কোটি ডলার ব্যয়ের বড় পরিকল্পনার অংশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন গেটস। তিনি এআইয়ের দ্রুত বিকাশকে হলিউডের দুর্যোগ বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির সিনেমার সঙ্গে তুলনা করেছেন। গেটস বলেন, এসব সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায়, ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী পৃথিবীতে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের বিরোধ ভুলে একসঙ্গে সেই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করে। তার মতে, এআই অনেকটা সেই ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তার মতো। তবে পার্থক্য হলো, এআই ভবিষ্যতে আসবে না; এটি ইতিমধ্যে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। গেটস বলেন, “এআই অনেকটা সেই ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তার মতো। এটি ইতিমধ্যেই আমাদের মধ্যে এসেছে। তাই ওই সিনেমাগুলোতে যেমন দেখানো হয়, আমাদেরও তেমনভাবেই কাজ করা উচিত।”
এআই নিয়ে নিজের উদ্বেগের বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন গেটস। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে তার দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে। গেটসের মতে, এআই নিয়ে একেক দেশ একেকভাবে কাজ করলে ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন হবে। তাই বড় দেশগুলোসহ সব সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এদিকে সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবমূর্তি নিয়েও কথা বলেছেন গেটস। বিশেষ করে প্রয়াত ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত জুনে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন গেটস। গেটসের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য তিনি একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গেটস জানিয়েছেন, তিনি আশা করেছিলেন এপস্টেইন বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে অর্থ দান করবেন। কিন্তু পরে তার দাবি, এপস্টেইন গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয় ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন।
এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে তার ফাউন্ডেশনও একটি স্বাধীন পর্যালোচনা করিয়েছিল। ওই পর্যালোচনায় এপস্টেইনকে ফাউন্ডেশন থেকে কোনো অর্থ দেওয়ার বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গেটস বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে তার নিজের বা তার ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, “সরকারের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে, কিংবা সাংবাদিকরা আমার সাক্ষাৎকার নিতে আগ্রহী কি না- আমি কোনো কমতি দেখতে পাচ্ছি না।” গেটস আরো বলেন, শিশুদের মৃত্যু কমানো এবং ম্যালেরিয়া নির্মূলের মতো কাজে তার ফাউন্ডেশনের দক্ষতা ব্যবহার করার আগ্রহও একটুও কমেনি। তার বক্তব্য, এআই নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা অনেক বড়। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এখনই দায়িত্বশীলভাবে কাজ শুরু করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববিখ্যাত ‘টাইটানিক’ সিনেমার ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ গানটির মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কানাডিয়ান পপসংগীতশিল্পী সেলিন ডিওন বর্তমানে একটি বিরল ও জটিল স্নায়বিক রোগের সাথে লড়াই করছেন। দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকার কারণে তিনি কয়েক বছর ধরে মঞ্চ থেকে দূরে ছিলেন।
অবশেষে, সকল বাধা অতিক্রম করে সেলিন ডিওন কনসার্টে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর প্যারিস লা ডিফেন্স অ্যারেনায় তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
প্রায় ৩০ হাজার দর্শকের করতালিতে পুরো ভেন্যু মুখরিত হয়ে ওঠে। মঞ্চে ফিরে আবেগ সামলাতে পারেননি ৫৮ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পী। গান শেষে দর্শকদের ভালোবাসায় তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবেশনা শেষে মঞ্চেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলিন ডিওন।
আবেগঘন কণ্ঠে সেলিন ডিওন বলেন, ‘আমি একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কথা দিয়েছিলাম— আমি আবার মঞ্চে ফিরব। আজ আমি এখানে-আপনাদের জন্য এবং নিজের জন্য গাইছি। আপনারা আমাকে ভালোবেসেছিলেন বলেই আজ আমি এ জায়গায়।’
এর আগে, ২০২২ সালে সেলিন ডিওনের শরীরে ‘স্টিফ পারসন সিন্ড্রোম’ নামক এক বিরল স্নায়বিক রোগ ধরা পড়ে। সাধারণত এই রোগের কারণে শরীরের পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং তীব্র খিঁচুনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং গান গাওয়াও কঠিন হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেলিন ডিওন এই রোগের তার কণ্ঠ ও শরীরে প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, অনেক সময় তার মনে হতো যেন কেউ গলা টিপে ধরছে। স্বরযন্ত্রে তীব্র চাপ পড়ায় উঁচু কিংবা নিচু সুরে গান গাওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল।
এ সংগীতশিল্পী আরও বলেন, শুধু কণ্ঠ নয়, শরীরের বিভিন্ন অংশেও ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল। কখনো কখনো হাত-পায়ের আঙুল এমনভাবে শক্ত হয়ে যেত যে, তা সোজা করাও সম্ভব হতো না। রোগের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে একবার তার বুকের পাঁজরও ভেঙে গিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে পরমাণু বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতি দেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বক্তব্যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আইএইএ-এর ৭০তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিকে ধন্যবাদ জানান, পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার জন্য।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ফকির মাহবুব আনাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ-এর টেকনিক্যাল কোঅপারেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুফল পেয়ে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ২০২৬–২০৩২ মেয়াদের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষর করেছে, যা আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বিজ্ঞানমন্ত্রী বলেন, ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে আইএইএ-এর ‘রেজ অব হোপ’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে টেকসই উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বক্তব্যের শেষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ