শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২২ পি.এম
ভারতের কলকাতায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের স্মরণে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি আবেগঘন স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে কাঙাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহযোগিতার চেক তুলে দেন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৯ আগস্ট ভোররাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি এবং তাঁর পরিবার নিহত হন। স্মরণসভায় দেবাশীষ দত্তের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত এবং তাঁর ছয় বছর বয়সী শিশুকন্যা মহিমা দত্ত উপস্থিত থাকায় পুরো মিলনায়তনে এক হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্মৃতিচারণ পর্বে অংশ নিয়ে সহকর্মী ও অতিথিরা বলেন, দেবাশীষ দত্ত ছিলেন একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল, সাহসী ও মানবিক গণমাধ্যমকর্মী।
তিনি এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগের চিত্র তাঁর লেখনীর মাধ্যমে নিপুণভাবে তুলে ধরতেন। কর্মনিষ্ঠা ও সদালাপী আচরণের কারণে তিনি খুব অল্প সময়েই সবার কাছে আপন হয়ে উঠেছিলেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, তাঁর এই আকস্মিক বিদায় সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। এ সময় অনেক সহকর্মী তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে কুমারখালী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক বকুল চৌধুরী, সভাপতি লিপু খন্দকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদ শরীফ, সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মাহমুদসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি লিপু খন্দকার প্রয়াত সাংবাদিকের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত ও কন্যা মহিমা দত্তের হাতে আর্থিক সহায়তার একটি চেক তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা যেকোনো প্রয়োজনে শোকসন্তপ্ত এই পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন-২-এর ৫৩তম ম্যাচে গ্লস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে ৩৭ রানে ৩ উইকেট দখল করেছেন কেন্টের বাংলাদেশি পেসার খালেদ আহমেদ। তার অসাধারণ বোলিংয়ের সাথে সাথে আরেক পেসার ম্যাট মিলনেসের ৪ উইকেট শিকারের ফলে গ্লস্টারশায়ার প্রথম দিনেই ২২৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।
প্রথম দিনের শেষে ১ উইকেটে ৭১ রান সংগ্রহ করেছে কেন্ট। তারা ৯ উইকেট হাতে রেখে ১৫৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
ক্যান্টারবারির সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গ্লস্টারশায়ার ১৪৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারায়। এই সময় খালেদ কোনো উইকেট পাননি।
ইনিংসের ৪৯তম ও নিজের ষষ্ঠ ওভারে এসে প্রথম উইকেটের দেখা পান খালেদ। ৪ রান করা ডারিউশ আহমেদকে বোল্ড করে তিনি প্রথম উইকেট লাভ করেন। এরপর শাই কিশোরকে রানের খাতা খুলতে দেননি তিনি।
গ্লস্টারশায়ারের লোয়ার অর্ডার ব্যাটার চি সিমন্সকে ৪ রানে বোল্ড করেন খালেদ। ১১ ওভার বল করে ৩৭ রানে ৩ উইকেট দখল করেন তিনি। মিলনেস ৫৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন।
এর আগে, কেন্টের হয়ে খালেদ দুই ম্যাচ খেলেছেন। ডার্বিশায়ারের বিরুদ্ধে ৩ এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের বিরুদ্ধে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫ ও ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বৈঠকটিকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যদিও জমকালো আনুষ্ঠানিকতা ও আড়ম্বরে বৈঠকটি সম্পন্ন হয়েছে, তবে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো বড় ধরনের প্রকাশ্যে চুক্তির ঘোষণা আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার আগে আজ দুই শীর্ষ নেতার ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, “অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বেশ কিছু দারুণ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।”
কথোপকথনের এক পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) নিয়ে আলোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, চীন প্রধানসহ উপস্থিত প্রায় সকলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘এআই’ না বলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ডাকার প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “অত্যন্ত ভুল ও দুর্বলভাবে নাম দেওয়া ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর বদলে আরও সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি সবাই পছন্দ করেছেন। এটি সত্যিই অসাধারণ হতে যাচ্ছে।”
এদিকে, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এআই খাতের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা জোরদার করার আহ্বান জানালেও, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে কঠোর নীতিমালার বিরোধিতা করে আসছে। এর মাঝেই এআই-এর পুনর্নামকরণের এই বক্তব্য সামনে এলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দাম্পত্য জীবন সুখী রাখতে শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। বলিউড তারকা শাহরুখ খান দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে কীভাবে আরও সুন্দর রাখা যায়, সে বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, দুজনকেই একে অপরের জন্য কিছুটা বদলাতে এবং মানিয়ে নিতে হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে এক নেটাগরিক শাহরুখকে প্রশ্ন করেন, দাম্পত্য জীবন সুখী রাখার রহস্য কী? উত্তরে শাহরুখ বলেন, ‘একে অপরের রঙে রঙিন হয়ে উঠুন। একে অপরকে সুখী করার জন্য দুজনেই অল্পবিস্তর মানিয়ে নিন।’
শাহরুখের এই বক্তব্যের অর্থ শুধুমাত্র নিজের পছন্দ ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুজনের পছন্দ, অভ্যাস ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই তিনি উল্লেখ করেছেন। কারণ একই ছাদের নিচে বসবাস করলেও দুজন মানুষ আলাদা। তাঁদের চিন্তাভাবনা, অভ্যাস কিংবা জীবনযাপনের ধরন এক না হওয়াটাই স্বাভাবিক।
একজন হয়তো অবসর সময়ে একা থাকতে পছন্দ করেন, অন্যজন আবার সঙ্গীর সঙ্গে গল্প করতে বা সময় কাটাতে ভালোবাসেন। কেউ ছুটির দিনে ঘুরতে যেতে চান, অন্যজন হয়তো বাড়িতে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এমন ছোটখাটো পার্থক্য নিয়ে প্রতিদিন বিরোধে না গিয়ে পরস্পরের পছন্দকে সম্মান করাই সম্পর্ককে সহজ করে।
তবে মানিয়ে নেওয়ার অর্থ নিজের সব ইচ্ছা কিংবা ব্যক্তিসত্তা বিসর্জন দেওয়া নয়। একটি সুস্থ সম্পর্কে দুজনেরই নিজের মতো থাকার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। একজন সবসময় ছাড় দেবেন আর অন্যজন শুধু নিজের সুবিধা দেখবেন—এমন সমীকরণে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
জীবনের পরিস্থিতি অনুযায়ী অবশ্য এই ভারসাম্যে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। সঙ্গী অসুস্থ হলে, কাজের চাপ বাড়লে কিংবা কোনো কঠিন সময় এলে একজনকে হয়তো অন্যজনের চেয়ে বেশি দায়িত্ব নিতে হতে পারে। সেই সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়াই সম্পর্ককে আরও শক্ত করে।
দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলে একজনের প্রভাব অন্যজনের ওপর পড়াও স্বাভাবিক। খাবারের পছন্দ, পোশাকের ধরন, কথা বলার ভঙ্গি, ঘুরতে যাওয়ার জায়গা কিংবা অবসর কাটানোর অভ্যাস—অনেক কিছুতেই সঙ্গীর ছাপ দেখা যেতে পারে। তবে এই পরিবর্তন যেন চাপিয়ে দেওয়া না হয়, বরং স্বাভাবিকভাবেই দুজনের জীবনে জায়গা করে নেয়—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
শাহরুখের ‘একে অপরের রঙে রঙিন হয়ে উঠুন’ কথাটিও তাই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সম্পর্কের সৌন্দর্য হয়তো এখানেই—দুজনের আলাদা রং মুছে ফেলা নয়, বরং সেই রংগুলো মিলিয়ে নিজেদের মতো একটি সম্পর্ক তৈরি করা।
শাহরুখ খান ও গৌরী খানের দীর্ঘ দাম্পত্যও ভক্তদের আগ্রহের বিষয়। তাই নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা থেকে দাম্পত্য নিয়ে তার এই ছোট্ট পরামর্শ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের দক্ষিণ দিল্লির আস্থা কুঞ্জ পার্কে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে ছুরি দেখিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্টে (এফআইআর)। এই ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এফআইআরের তথ্য অনুসারে, গত সোমবার কিশোরীটি তার বান্ধবীর সঙ্গে কালকাজি মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিল। পূজা শেষে বিকাল পৌনে ছয়টার দিকে তারা পাশের ইসকন মন্দিরে যাওয়ার আগে আস্থা কুঞ্জ পার্কের একটি বেঞ্চে বসে ছিল।
রাত সাতটার দিকে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তিন ব্যক্তি হঠাৎ করে কিশোরীর বন্ধুকে ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে এলাকাটি ফাঁকা করতে বলে।
কিশোরীর বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের একজন বন্ধুকে পার্কের অন্য কোনায় নিয়ে যায়। একা পেয়ে কিশোরীটি আকুতি জানিয়ে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আসিফ নামের এক অভিযুক্তকে উদ্দেশ্য করে অন্য একজন বলে ওঠে, ‘আসিফ ভাই, বন্দুক বের করো।’
কিশোরী পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, আসিফ তাকে একটি কালো রঙের বন্দুক দেখিয়ে আবার পকেটে রেখে দেয়। এরপর দুজনই ছুরি বের করে তাকে একটি অন্ধকার স্থানে নিয়ে যায়।
পার্কের বেঞ্চে আসিফ তার গলায় ছুরি ধরে প্রথমে ধর্ষণ করে এবং হেমু নামের অপর অভিযুক্তকে পাহারা দিতে বলে। এরপর তাকে পর্যায়ক্রমে হেমন্ত ও মুকেশ নামের অন্য দুই অভিযুক্তও ধর্ষণ করে।
অভিযুক্তদের আসল নাম আসিফ, হেমন্ত (হেমু) ও মুকেশ (দিপু)। তাদের মধ্যে হেমন্ত ও মুকেশ দুই ভাই। ধর্ষণের পর কিশোরী ও তার বন্ধুকে হত্যার হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দেয়। এরপর তারা কিশোরীকে পার্ক থেকে বের করে দেয়। পার্ক থেকে বের হয়ে বন্ধুকে পুরো ঘটনা জানালে সে জরুরি সেবা নম্বরে (পিসিআর) কল করে এবং পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
ঘটনার পর আসিফ ওখলা সবজি বাজারে গিয়ে নিজের মোবাইল বন্ধ করে বাইকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মঙ্গলবার এক বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে হেমন্ত ও মুকেশ প্রমাণ মেটাতে নিজেদের পোশাক ধুয়ে ফেলে এবং পরবর্তী সময়ে শ্রীনিবাসপুরীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস করাতে ‘জনাব’-এর মতো পুলিশি শব্দ ব্যবহার করেছিল।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ