০৭:৪২ পি.এম
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়ে এক নারী থানার ভেতরেই পুলিশ সদস্যের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সেরাইকেলা-খারসাওয়ান জেলায় ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর রাতে ওই নারী থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। সেখানে পুলিশ কনস্টেবলের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন তিনি। এই ঘটনার জন্য দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গামহারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হংকংয়ে বাংলাদেশি পোশাক খাতের সক্ষমতা তুলে ধরল এইচএসবিসি ও বিজিএমইএ
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর শারীরিক নির্যাতনের ভয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে নিজের মোবাইল ফোন থেকে থানায় যোগাযোগ করেন।
পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল যান ওই রাতেই তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে বিশ্রামের জন্য থানার ভেতরেই একটি কক্ষের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তিনি ওই কক্ষে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত কনস্টেবল তার ওপর হামলে পড়েন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর সেরাইকেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসপি) মনোজ স্বর্গিয়ারী বিষয়টি তদন্তের জন্য সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) অনুভব ভরদ্বাজকে নির্দেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা মেলায় এসডিপিওর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: চীন-জাপানের প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণে প্রভাব ফেলছে
দায়িত্বে অবহেলা, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও চরম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এসপি গামহারিয়া থানার ওসি এবং অপর চার কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বরখাস্তকৃত পাঁচ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তের পরিহিত পোশাক আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ এবং তা পরীক্ষার জন্য রাঁচির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ন্যাকারজনক এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি বলেছে, পুলিশ প্রশাসন কাউকে ভয় না পাওয়ায় ঝাড়খণ্ডে এ ধরনের ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে।
ঝাড়খণ্ড রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য আদিত্য সাহু সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় পোস্টিং নেন। তিনি বলেন, এসব পুলিশ কর্মকর্তা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ছত্রচ্ছায়ায় বালু, লৌহ আকরিক ও কয়লা চুরির সুযোগ করে দিচ্ছেন। আর এসব কারণে রাজ্যের শাসক জোট জেএমএম, কংগ্রেস ও আরজেডির ওপর থেকে সাধারণ মানুষ পুরোপুরি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে।
আরও পড়ুন: মুহাম্মদ বিন সালমানের জন্য কিছুই ভালো যাচ্ছে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন