০৭:৪৩ পি.এম
খুলনা নগরী যেন নতুনভাবে জেগে উঠেছে। পুরোনো স্থাপনার ওপর তুলির নিপুণ আঁচড়ের পাশাপাশি সড়ক বিভাজকে রঙের বর্ণিল ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে। আবার কোথাও ধুলোময় সড়ক পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সাজসজ্জার কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রতিদিনের পরিচিত নগরী ধীরে ধীরে নতুন রূপ ধারণ করছে। ভোরের প্রথম আলোতে পরিবর্তনের ছাপ দৃশ্যমান হচ্ছে। নগরীর এই নতুন সাজে উৎসবের আবহ যুক্ত হয়েছে, আর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে খুলনা বর্ণিল সাজে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ৫ নভেম্বর তাঁর খুলনা সফর উপলক্ষে নগরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মীরা দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রশাসনিক তৎপরতা, রাজনৈতিক প্রস্তুতি এবং নগরসজ্জার সমন্বয়ে খুলনা এখন যেন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নগরী।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে বিশেষ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। পুরোনো স্থাপনায় নতুন রঙের প্রলেপ, সড়ক বিভাজকে রংতুলির কারুকাজ, পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও চলছে দেয়াল ও স্থাপনা রঙের কাজ, আবার কোথাও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্ত পদচারণা। সব মিলিয়ে নগরীর চেহারায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় জমি বিরোধে গৃহবধূ নাসিমা খাতুন নিহত
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি খুলনায় দ্বিতীয় সফর। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর এ সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে খুলনা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সুযোগই পাবে না, বরং সারা দেশের সঙ্গে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও সুসংহত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আগমনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খুলনার উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও নাগরিক প্রত্যাশার বিষয়গুলোও নতুন করে গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফরকে সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে প্রস্তুতি ও সমন্বয়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাজসজ্জার পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনাকে প্রস্তুত করছেন। প্রধানমন্ত্রী যতবার খুলনা সফর করবেন, খুলনার উন্নয়ন ততই ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, খুলনা থেকে সারা দেশের জন্য এ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে, যা কর্মসূচিটিকে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু অতিথিকে বরণ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নয়, বরং আমাদের প্রিয় নগরীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। আমরা চাই, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন স্মরণীয় হয়ে থাকুক। একই সঙ্গে নগরীর এই সৌন্দর্য যেন সফর শেষ হওয়ার পরও স্থায়ী থাকে এবং নগরবাসী এর সুফল ভোগ করতে পারেন। খুলনার উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার
সব মিলিয়ে ৫ নভেম্বরকে সামনে রেখে খুলনা এখন অপেক্ষার নগরী। রঙের পরশে, পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়ায় আর উৎসবের আবহে বদলে যাচ্ছে চিরচেনা নগরীর দৃশ্যপট। নগরীর পথে পথে যেন একটাই প্রস্তুতি, অতিথিকে বরণ করার। নতুন সাজে সজ্জিত খুলনা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন