ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

তুলির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে খুলনা, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ


তুলির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে খুলনা, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ

খুলনা নগরী যেন নতুনভাবে জেগে উঠেছে। পুরোনো স্থাপনার ওপর তুলির নিপুণ আঁচড়ের পাশাপাশি সড়ক বিভাজকে রঙের বর্ণিল ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে। আবার কোথাও ধুলোময় সড়ক পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সাজসজ্জার কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রতিদিনের পরিচিত নগরী ধীরে ধীরে নতুন রূপ ধারণ করছে। ভোরের প্রথম আলোতে পরিবর্তনের ছাপ দৃশ্যমান হচ্ছে। নগরীর এই নতুন সাজে উৎসবের আবহ যুক্ত হয়েছে, আর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে খুলনা বর্ণিল সাজে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ৫ নভেম্বর তাঁর খুলনা সফর উপলক্ষে নগরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মীরা দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রশাসনিক তৎপরতা, রাজনৈতিক প্রস্তুতি এবং নগরসজ্জার সমন্বয়ে খুলনা এখন যেন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নগরী।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে বিশেষ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। পুরোনো স্থাপনায় নতুন রঙের প্রলেপ, সড়ক বিভাজকে রংতুলির কারুকাজ, পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও চলছে দেয়াল ও স্থাপনা রঙের কাজ, আবার কোথাও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্ত পদচারণা। সব মিলিয়ে নগরীর চেহারায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় জমি বিরোধে গৃহবধূ নাসিমা খাতুন নিহত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি খুলনায় দ্বিতীয় সফর। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর এ সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে খুলনা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সুযোগই পাবে না, বরং সারা দেশের সঙ্গে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও সুসংহত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আগমনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খুলনার উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও নাগরিক প্রত্যাশার বিষয়গুলোও নতুন করে গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফরকে সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে প্রস্তুতি ও সমন্বয়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাজসজ্জার পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনাকে প্রস্তুত করছেন। প্রধানমন্ত্রী যতবার খুলনা সফর করবেন, খুলনার উন্নয়ন ততই ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, খুলনা থেকে সারা দেশের জন্য এ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে, যা কর্মসূচিটিকে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু অতিথিকে বরণ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নয়, বরং আমাদের প্রিয় নগরীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। আমরা চাই, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন স্মরণীয় হয়ে থাকুক। একই সঙ্গে নগরীর এই সৌন্দর্য যেন সফর শেষ হওয়ার পরও স্থায়ী থাকে এবং নগরবাসী এর সুফল ভোগ করতে পারেন। খুলনার উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন।

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

সব মিলিয়ে ৫ নভেম্বরকে সামনে রেখে খুলনা এখন অপেক্ষার নগরী। রঙের পরশে, পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়ায় আর উৎসবের আবহে বদলে যাচ্ছে চিরচেনা নগরীর দৃশ্যপট। নগরীর পথে পথে যেন একটাই প্রস্তুতি, অতিথিকে বরণ করার। নতুন সাজে সজ্জিত খুলনা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে

পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা নিরসনের লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণের জন্য জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বৈঠক রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী এবং শ্রম উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

এর আগে রবিবার, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার, গাজীপুর এবং রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে এসব এলাকায় তিন শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭৭টি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। অন্যদিকে, গাজীপুরে শতাধিক কারখানা বন্ধ ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে কিশোরদের স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, গ্রেফতার ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে কিশোরদের স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, গ্রেফতার ৪

কুমিল্লায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশীয় অস্ত্র হাতে তরুণদের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে পুলিশ ‘এসবিএস’ (SBS) নামে পরিচিত একটি গ্রুপের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত ওই গ্রুপের সদস্যদের শনাক্ত করতে ভিডিওটি নজরে আসার পর অভিযান পরিচালনা করে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার উনাইসার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের রোববার (১ নভেম্বর) আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে প্রায় ২২ জন তরুণকে দেশীয় অস্ত্র হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তারা নিজেদের ‘এসবিএস’ গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। নিজেদের তৈরি গ্রুপের নামে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করে এলাকায় ভীতি সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর জড়িতদের শনাক্তে একাধিক টিম কাজ শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের সহায়তায় গ্রুপটির কয়েকজন সদস্যের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর উনাইসার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে ইয়াছিন আহমেদ আকাশ (১৭), কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার এগারো গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. শাওন (১৯), নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (১৭) এবং কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ফারবাইন মসজিদবাড়ি এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মো. হাবিব (১৭)। তারা সবাই সদর দক্ষিণের উনাইসার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে আসে। এরপর একাধিক টিম কাজ শুরু করে। জড়িতদের শনাক্ত করে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা নিজেরাই একটি গ্রুপ তৈরি করে এর নাম দিয়েছে এসবিএস। ওসি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শন ও দলীয় পরিচয়ে স্লোগান দেওয়ার এমন ঘটনা তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। গ্রুপটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোটের ধাক্কায় টালমাটাল বায়ার্ন শিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


চোটের ধাক্কায় টালমাটাল বায়ার্ন শিবির

বায়ার্ন মিউনিখে চোটাক্রান্ত ফুটবলারদের তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে। শনিবার বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ২-২ গোলে ড্র ম্যাচে দলের দুই তারকা ইসমাইল সাইবারি ও সার্জ জিনাব্রি চোট পেয়েছেন।

রোববার বায়ার্ন মিউনিখ একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, দুজনকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য হারাতে হচ্ছে। মরক্কোর মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারির ডান গোড়ালি মচকে যায় এবং পরীক্ষায় লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ইতোমধ্যে তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর তাকে ক্রাচে ভর দিয়ে স্টেডিয়াম ত্যাগ করতে দেখা যায়।

সাইবারি মাঠ ছাড়ার দুই মিনিট পর বদলি হন জিনাব্রি। বায়ার্ন জানায়, জার্মান উইঙ্গারের বাম উরুর পেছনের অংশে পেশিতে চোট লেগেছে।

এছাড়া, ম্যাচের শেষ দিকে ফরাসি প্লেমেকার মাইকেল অলিসেও চোটে পড়েছেন, যার চোটটিও পেশিসংক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বায়ার্ন মিউনিখ এক বিবৃতিতে জানায়, "সাইবারি ও জিনাব্রি আপাতত এফসি বায়ার্নের হয়ে খেলতে পারবেন না। সাইবারির ডান গোড়ালির সিন্ডেসমোসিস লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে এবং তার সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। অন্যদিকে জিনাব্রির বাম উরুর পেছনের অংশে পেশিতে চোট ধরা পড়েছে।"

এই নতুন চোটগুলো বায়ার্ন মিউনিখের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে, কারণ মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ফিটনেস সমস্যা নিয়ে জার্মান ক্লাবটি ভুগছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


বাংলাদেশ ব্যাংক এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করছে

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নতুন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে সৃষ্ট সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এ উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। দেশের আর্থিক খাতের পরিবর্তিত সাইবার নিরাপত্তার চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই নীতিমালা তৈরি করা হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে শক্তিশালী করা, সাইবার হামলা শনাক্ত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং জটিল সাইবার আক্রমণ মোকাবেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হাসান বাসসকে জানান, ‘আমরা শিগগিরই নীতিমালাটি প্রণয়ন করে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেব। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা হালনাগাদ করবে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

জাকির হাসান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে। সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর জন্য সার্বক্ষণিক সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়মিত হালনাগাদ প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৯ মার্চ ‘সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক, ভার্সন ১.০ (২০২৬)’ জারি করেছে। এই কাঠামোর আওতায় তফসিলি ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রদানকারী এবং পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি অভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

এই কাঠামোতে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ, তথ্য ও প্রযুক্তি অবকাঠামোর সুরক্ষা, সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তাজনিত ঘটনা মোকাবিলা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও আউটসোর্সিং কার্যক্রমের ঝুঁকি মোকাবিলা, নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং নির্দেশনা পরিপালন পর্যবেক্ষণের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কাঠামোটি ছয়টি মূল কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো—ঝুঁকি ও দুর্বলতা শনাক্ত করা, সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, হুমকি শনাক্ত করা, আক্রমণ মোকাবিলা করা, স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন তৈরি করা। এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার হামলার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া, হামলার সময় সম্ভাব্য ক্ষতি সীমিত রাখা এবং হামলার পর দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় নানা চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে। এআইভিত্তিক প্রযুক্তি বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, লেনদেনের অস্বাভাবিক ধরন শনাক্ত এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, সাইবার অপরাধীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া বার্তা তৈরি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার হামলা পরিচালনা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নকল এবং গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে পারে। এমনকি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের চেষ্টাও হতে পারে।

এ কারণে ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিগত সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যারের সময়মতো হালনাগাদ এবং সাইবার হামলা মোকাবিলার সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যমান প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবে। তবে নীতিমালার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো কমিটির সুপারিশ ও চূড়ান্ত নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে।

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা গত ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনায় আরও স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই দিন ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির কয়েকটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। গত ২১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ সতর্কবার্তায় বলা হয়, এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা আক্রান্ত সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করার পর গত ২৫ অক্টোবর সকাল ৮টায় ওয়েবসাইটটি আবার চালু করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ওই সময় বাসসকে বলেন, কোনো ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়নি। ডিজিটাল লেনদেনসহ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায়ও কোনো ঝুঁকি নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার হামলার ঘটনা নিশ্চিত না হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, সময়মতো নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির গুরুত্ব তুলে ধরেছে ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ রাখার এ ঘটনা।

এদিকে, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে তাদের ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করছি। এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সাইবার হুমকি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই ব্যাংকগুলোকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং নিয়মিত নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু উন্নত প্রযুক্তি থাকলেই হবে না; দক্ষ জনবল, নিয়মিত কর্মী প্রশিক্ষণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা এককালীন কোনো উদ্যোগ নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ব্যাংকগুলোকে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে, সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংকিং সেবার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি বাড়ানো এবং নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে উদীয়মান ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য বিনিময়ে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের আর্থিক খাত ক্রমেই ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন পেমেন্ট এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এসব সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা, লেনদেনের নিরাপত্তা এবং আর্থিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বড় ধরনের সাইবার হামলায় ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হতে পারে, সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হতে পারে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সাইবার হামলা মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

এআইভিত্তিক নতুন সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা এবং বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো দেশের আর্থিক খাতকে দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি পদক্ষেপ। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য নতুন প্রযুক্তি আর্থিক সেবার ধরন বদলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আস্থাশীল ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%