১১:০৩ এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সংকট মোকাবিলার জন্য, মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বদলীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
এই উদ্দেশ্যে, তারা জাতীয় সংসদে উপকূলবিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং উপকূলের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন।
আজ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম’-এর ‘কোস্টাল ক্লাইমেট ডায়ালগ’-এ বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। আগামী কপ-৩১ সম্মেলনে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে সংলাপে ‘উপকূল ঘোষণা’ বিষয়টি আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম কারাগারে
সংলাপের উদ্বোধন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুল লতিফ।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট এবং জীবিকার অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক উপকূলের সমস্যা নিয়ে সংসদীয় ককাস গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে জনগণের মতামত নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, তিনজন গ্রেফতার
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ উপকূলীয় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি সুন্দরবনের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে সেখানে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অপেক্ষায় না থেকে দেশে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সংলাপে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ, নিরাপদ পানি, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমিনুর রসুল। তিনি উপকূলের সংকট মোকাবিলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন