ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

শিল্পাঞ্চলে চলমান সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


শিল্পাঞ্চলে চলমান সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিল্পাঞ্চলে চলমান সহিংসতা ও অশান্তির বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইনের খসড়া পর্যালোচনা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘শ্রমিক নয়, এমন কিছু ব্যক্তি আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং কোথাও কোথাও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। কিছু ইন্ডাস্ট্রির মালিকও রয়েছেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তারা এর সঙ্গে জড়িত। অশান্তি সৃষ্টি করতে তাদের একটা রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তারা দেশে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।’

আরও পড়ুন: উপাচার্য পুর্নবহালের দাবিতে বিএনপি মহাসচিবের কাছে চুয়েট শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হয়তো কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করছে। আর সেটা এখানে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা কঠোর হাতে সেটা দমনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’

শ্রমিকদের যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করার জন্য সরকার প্রস্তুত জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যেকোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়ার পক্ষে আমরা সবসময় কথা শুনতে রাজি। এজন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে, তারা সেখানে যাবে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সবাই স্বীকার করেছেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়। বিভিন্নভাবে একটা রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির জন্য কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে, শ্রমিকদের ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন করা। সেটা যথেষ্ট সময়ের আগে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির নাম দিতে কিছুটা সময় নিয়েছিল। তা না হলে আরও দু’সপ্তাহ আগেই বোর্ড গঠন করতে পারতাম।’

মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ এবং অন্যান্য যারা রয়েছেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান সবার বক্তব্য শুনবেন। অতীতে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর যে মজুরি নির্ধারণ হতো, তার মধ্যে কী হারে বৃদ্ধি হয়েছিল, সেটাকে পাঁচ দিয়ে ভাগ করবেন, তারপরে তিন দিয়ে গুণ করবেন। ইকোনমিক ভ্যালু কীভাবে হয়েছে, কীভাবে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নেবেন।’

আরও পড়ুন: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব জোট, কোণঠাসা নেতানিয়াহু

তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক সঙ্গতি, মালিকপক্ষের যুক্তি, শ্রমিকপক্ষের যুক্তি মিলে একটা যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।’

মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা মজুরি বোর্ড দেখবে। তবে আমরা বলেছি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যেন সেটা ঘোষণা হয়। যাতে শ্রমিকদের জানুয়ারি থেকে এটা কার্যকর হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা প্রস্তাব, পিএসসি সংস্কার ও সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা প্রস্তাব, পিএসসি সংস্কার ও সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা দাবি

জুলাই সনদের আলোকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পেশ করেছে ১৩ দফা প্রস্তাব, যা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের দাবি করে। সংগঠনটি সরকারি নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাকসু ভবনের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনের সময় ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, "ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা।" তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে এবং গণভোটে ৬৯ শতাংশ মানুষের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিচার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করা হচ্ছে।" প্রশ্নফাঁস, মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর বৃদ্ধি, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের বাদ দেওয়া এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের সংস্কৃতি রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি মন্তব্য করেন, "সরকারি চাকরিকে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত কর্মীদের পুরস্কৃত করার সুযোগ নয়।" এটি রাষ্ট্রের সেবা করার দায়িত্ব। তাই নিয়োগ হতে হবে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে। তিনি বলেন, "কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা তার পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যেন নিয়োগে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।"

পিএসসির সংস্কার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোডভিত্তিক লিখিত খাতা মূল্যায়ন, কম্পিটেন্সি বেইজড ইন্টারভিউ, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার এবং ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি নিয়োগব্যবস্থাকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, "এসব উদ্যোগ বহাল রাখার পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত পদায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।"

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে এক হাজার ২০০ জনের বেশি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, "রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য সৃষ্টি সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতার সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থি।"

সংবাদ সম্মেলনে পেশকৃত ১৩ দফা প্রস্তাবের মূল দিকসমূহ

১. পিএসসি সংস্কার: জুলাই সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার এবং চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন করা।

২. পিএসসির আওতা সম্প্রসারণ: নবম ও দশম গ্রেডসহ সব সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া পিএসসির অধীনে সম্পন্ন করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখা।

৩. নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ: লিখিত পরীক্ষার কোডভিত্তিক মূল্যায়ন, ১০০ নম্বরের ভাইভা, ডিজিটালি প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ ও ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি বহাল রাখা। শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ করে সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা এবং ১২ মাসের মধ্যে পদায়ন সম্পন্ন করা।

৪. সহজ ও নিরপেক্ষ ভেরিফিকেশন: পুলিশ ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড লিখিতভাবে প্রকাশ, এনআইডি ও অফিশিয়াল অপরাধ রেকর্ডের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। নেতিবাচক তথ্য থাকলে প্রার্থীকে লিখিতভাবে জানানো এবং আপিলের সুযোগ প্রদান করা।

৫. ভাইভায় স্বচ্ছতা: অসংগতি রোধে ভাইভার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা এবং লিখিত পরীক্ষায় এগিয়ে থাকা প্রার্থীর নম্বর ভাইভায় ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি করার প্রবণতা বন্ধ করা।

৬. আইন সংস্কার: সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৮, ১৯ ও ২০ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করে রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে মেধা, সততা ও পেশাদারিত্বকে চাকরির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজির হোছাইন জুয়েল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক সুমন সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খানসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীন আকস্মিক দিক পরিবর্তনকারী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


চীন আকস্মিক দিক পরিবর্তনকারী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল

চীন পিপলস লিবারেশন আর্মার্ড/এয়ার ফোর্সের একটি এইচকিউ-৯বি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দুটি লক্ষ্যবস্তু ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এই পরীক্ষার সফলতা চীনের প্রধান দূরপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা প্রকাশ করে।

পরীক্ষার সময় একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার নির্ধারিত গতিপথ পরিবর্তন করে হঠাৎ খাড়াভাবে নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলে আত্মরক্ষার দায়িত্বে থাকা ইউনিটটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হয়। অপ্রত্যাশিত ও জটিল গতিপথের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে চীনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর যে সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, এই মহড়া তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। লক্ষ্যবস্তুর এ ধরনের দিক পরিবর্তনের কারণে দ্রুত হুমকি চিহ্নিতকরণ ও আঘাত হানার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল গতিপথ পরিবর্তনকারী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা। সাধারণ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেটিকে আকাশেই ধ্বংস করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। গতিপথ পরিবর্তনকারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দেয়, কারণ এদের পরবর্তী দিক অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রথাগত গণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যায়।

এই মহড়াটি পরিচালনা করে পিএলএ বিমান বাহিনীর ‘শেনওয়েই মিসাইল ব্যাটালিয়ন’। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যাটালিয়নের কর্মীরা জানান, কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে হবে সে বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। হামলার মুখে থাকা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হঠাৎ করে দিক পরিবর্তন করে দ্রুত নিচে নেমে এলে ইউনিটটি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র এক বা দুই সেকেন্ড দেরি হলেও ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেত।

বর্তমান বিশ্বে গতিপথ পরিবর্তনে সক্ষম পুনর্প্রবেশকারী যান এবং উন্নত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি দেশ এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে বিনিয়োগ করছে, যা উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। চীন নিজেও ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিলসহ বেশ কিছু উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা প্রতিরক্ষা বেষ্টনী ভেদ করতে সক্ষম। ফলে মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনকারী এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের সক্ষমতা চীনের সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বড় ধরনের সুবিধা দেবে।

চীনের বিস্তৃত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এইচকিউ-৯বি। সম্প্রতি চীন নতুন প্রযুক্তির উচ্চ স্তরের বিধ্বংসী ব্যবস্থা যুক্ত করেছে—যার মধ্যে অন্যতম হলো এইচকিউ-১৯ এবং এইচকিউ-২৯। এর মধ্যে এইচকিউ-২৯ হলো রাশিয়ার বাইরে একমাত্র সড়ক-পরিবহনযোগ্য ব্যবস্থা, যা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ধ্বংস করতে সক্ষম।

এইচকিউ-৯ ব্যবস্থার ধারাবাহিক আধুনিকীকরণ দেখে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ও সফটওয়্যার যুক্ত করে ভবিষ্যতে এটিকে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিল ধ্বংসের উপযোগী করে গড়ে তোলা হতে পারে। হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিলগুলো অত্যাধিক গতির সাথে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতার সমন্বয় ঘটায়, যা রাডার ট্র্যাকিং জটিল করে তোলে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমিয়ে দেয়। তবে গতিপথ পরিবর্তনকারী ব্যালাস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে পারলেই যে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিল সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা যাবে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন সিনেটে জিতে ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী কাওয়াস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


মার্কিন সিনেটে জিতে ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী কাওয়াস

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২ নম্বর আসনে জয়লাভ করেছেন আবের কাওয়াস। নিউইয়র্ক টাইমস ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পর তার জয় নিশ্চিত করে। গণনা হওয়া ভোটের ৭৫ শতাংশ তিনি পেয়েছেন।

এই বিজয়ের মাধ্যমে কাওয়াস ইতিহাস গড়েছেন। তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী, যিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।

এখন আবের কাওয়াসের নাম যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হওয়া ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের ছোট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো।

জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ কাওয়াস একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পোস্ট করেন, "আমরা ইতিহাস গড়েছি।"

নির্বাচনী প্রচারে কাওয়াসের স্লোগান ছিল, "মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই।"

"মর্যাদায় বিনিয়োগ" বলতে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সাশ্রয়ী আবাসনের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, "ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই" স্লোগানের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং যুদ্ধের পেছনে অর্থ ব্যয় বন্ধের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন কাওয়াস।

কাওয়াস ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য। গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে সংগঠনটির সদস্য জোহরান মামদানি ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সংগঠনটি অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডিএসএর ক্রমবর্ধমান প্রার্থীদের তালিকায় কাওয়াসও ছিলেন। তার প্রতি সমর্থন জানান বেশ কয়েকজন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা। তাদের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব অন্তর্ভুক্ত।

কাওয়াসের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনপন্থী জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: রিজভী

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক এবং শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেবল দুই দেশের উন্নতির জন্য নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে আপনাদের এই সফর আমাদের দুই দেশের এবং দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং স্থায়ী অংশীদারিত্বকে প্রতিফলিত করে। বিএনপি সরকার একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যেখানে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’

চলতি বছরের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফরের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ওই সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফরের সুফল আগামী দিনে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

‘এক চীন নীতি’র প্রতি বিএনপির দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, বিশ্বে একটাই চীন এবং তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ–এই নীতিতে বাংলাদেশ অবিচল রয়েছে।

বাংলাদেশে উৎপাদন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানির ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্ভাব্য বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ উদ্যোগকে স্বাগত জানান, যা দেশে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের প্রসারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান রিজভী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%