ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ


নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তার নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ২৪০টি আসন পেয়ে সরকার গঠনের জন্য মোদিকে জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। যদিও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকার গঠন করে এবং মোদি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।

এই ফলাফল মোদির রাজনৈতিক প্রভাব, সরকারের কর্মসম্পাদন এবং ভোটারদের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। জনপ্রিয়তা হ্রাসের বিষয়টি বোঝার জন্য নির্বাচনী ফলের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, কৃষি, সামাজিক সম্প্রীতি, কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা এবং বিরোধী রাজনীতির পরিবর্তন বিবেচনায় নিতে হবে।

জনপ্রিয়তা কমার পেছনে আলোচিত দশটি কারণ

আরও পড়ুন: কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়, মার্কিন শেয়ারবাজারে চাঙা; কমল তেলের দাম

১. কর্মসংস্থানের সংকট ও শিক্ষিত বেকারত্ব

মোদির জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কর্মসংস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের বিপুলসংখ্যক তরুণ উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও প্রত্যাশিত চাকরি পাচ্ছেন না। সরকারি চাকরির সীমিত সুযোগ, প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষা এবং বেসরকারি খাতে মানসম্মত কাজের অভাব তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডে–সিভোটারের জনমত জরিপে ২৭ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা বেকারত্বকে মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

২. দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির নিশ্চয়তা দেয় না। খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। ২০২৬ সালের আগস্টের জনমত জরিপে ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশে পৌঁছানোর তথ্যও অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে।

আরও পড়ুন: স্মরণসভায় মির্জা আব্বাস / রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা

৩. তরুণদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান

মোদির রাজনীতির অন্যতম শক্তি ছিল তরুণ প্রজন্মকে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো। কিন্তু শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক গতিশীলতার মধ্যে প্রত্যাশিত সমন্বয় না ঘটলে সেই স্বপ্ন হতাশায় রূপ নিতে পারে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং দীর্ঘ নিয়োগপ্রক্রিয়া তরুণদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের শুরুতে প্রকাশিত লে মঁদের এক প্রতিবেদনে ভারতের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব সুযোগের ব্যবধান এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদী মনোভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।

৪. কৃষক অসন্তোষ ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাপ

ভারতের রাজনীতিতে কৃষকসমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, কৃষিঋণ, উৎপাদন ব্যয় এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের মুখে মোদি সরকার বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশসহ কয়েকটি কৃষিনির্ভর অঞ্চলে বিজেপির আসন কমার পেছনেও কৃষক অসন্তোষ, মূল্যস্ফীতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাপকে বিশ্লেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র দুই বছরের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক তীব্র সংকটের মুখোমুখি

৫. অগ্নিবীর নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য চালু করা অগ্নিবীর প্রকল্প তরুণদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। সেনাবাহিনীতে স্থায়ী চাকরি, পেনশন ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের প্রত্যাশা থাকা অনেক তরুণ নতুন ব্যবস্থাকে অনিশ্চিত হিসেবে দেখছেন। ২০২২ সালে এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনী বিশ্লেষণেও অগ্নিবীর প্রকল্পকে বিজেপির জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

৬. জাতপাত, সংরক্ষণনীতি ও সংবিধান নিয়ে উদ্বেগ

ভারতের নির্বাচনে জাতপাত ও সামাজিক সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধীরা প্রচার করেছিল, বিজেপি ৪০০ আসন পেলে সংবিধান ও সংরক্ষণব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারে। বিজেপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু তফসিলি জাতি, উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর জনগণের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন নির্বাচনী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। উত্তরপ্রদেশে দলিত, অনগ্রসর শ্রেণি ও মুসলিম ভোটের বিরোধী জোটের দিকে সরে যাওয়াও বিজেপির আসন কমার একটি ব্যাখ্যা।

আরও পড়ুন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে জেন-জিদের উত্থান

৭. সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্ন

মোদির রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে হিন্দুত্ববাদী পরিচয়ের গুরুত্ব রয়েছে। এই রাজনীতি একাংশের কাছে সমর্থন তৈরি করলেও অন্য অংশের মধ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ, সংখ্যালঘু অধিকার ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছে, মুসলিমসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ২০২৫ সালের আগস্টের জনমত জরিপে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতিকে সরকারের অন্যতম বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

৮. মণিপুর সংকট ও জাতিগত সহিংসতা মোকাবিলার প্রশ্ন

২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি জনগণের মধ্যে সংঘাত ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বড় সংকট তৈরি করে। দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা, প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি, নারীর ওপর নির্যাতন এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষত প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনা করেছে। এই সংকট উত্তর-পূর্ব ভারতের বাইরে জাতীয় পর্যায়েও সরকারের জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেন ইকবাল সোবহান, মুক্তি পেলেন রাজীব

৯. বিরোধী জোটের পুনরুত্থান ও বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান

২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া উল্লেখযোগ্য আসন অর্জন করে। কংগ্রেস এককভাবে ৯৯টি আসন পায় এবং সমাজবাদী পার্টিসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দল গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে। রাহুল গান্ধী বিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে দৃশ্যমানতা তৈরি করেন। বেকারত্ব, সংবিধান, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মূল্যস্ফীতিকে সামনে রেখে বিরোধীরা বিজেপির প্রচারের বাইরে একটি বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।

১০. দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা, স্থানীয় অসন্তোষ ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস

একই নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপরও এসে পড়ে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপির ৩৭০ এবং এনডিএর ৪০০ আসন অতিক্রমের প্রচার প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বিজেপি এককভাবে ২৪০ আসন পায়। এর অর্থ, দলটি সরকার গঠনের মতো অবস্থানে থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। স্থানীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং বিরোধীদের সংগঠিত প্রচার এই ফলাফলের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: হামের টিকা বিতরণে অনিয়মের তদন্তে কমিশন গঠন

জনপ্রিয়তা কি সত্যিই বড় মাত্রায় কমেছে?

নির্বাচনে বিজেপির আসন কমে যাওয়া, মোদির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ—এই তিনটি বিষয় এক নয়।

২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডে–সিভোটারের ‘মুড অব দ্য নেশন’ জরিপে মোদিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা। জানুয়ারির জরিপে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় মাসে প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। একই জরিপে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের কর্মকাণ্ডকে ভালো বলেছেন ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা, যা জানুয়ারির তুলনায় ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে ভারতের উত্তরপ্রদেশে সিএমআইইর জনমত জরিপে মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কর্মকাণ্ডের প্রতি অনুমোদন ছিল ৪৬ দশমিক ১২ শতাংশ। এক বছর আগের তুলনায় সেখানে অনুমোদন কমেছে ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ পয়েন্ট। তবে এটি শুধু উত্তরপ্রদেশের পরিসংখ্যান, সমগ্র ভারতের নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারে মোংলা যাবেন এবং এরপর সেখান থেকে সড়ক পথে খুলনা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মোংলায় দুটি এবং খুলনায় একটি নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হয়রত খান জাহান আলী(রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। মোংলার কর্মসূচি শেষ করার পর সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী খুলনা যাবেন।

খুলনা স্টেডিয়ামে নুতন কুঁড়ি স্পোর্টস(সিজন-২) এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

এদিকে, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা উৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন। পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

জেলা স্টেডিয়াম ও তার আশ-পাশের সড়ক নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২) এর রং-বেরংয়ের ব্যানার-ফেষ্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। শিববাড়ী মোড় থেকে রেলস্টেশনের প্রধান ফটক পর্যন্ত দেয়ালে বিভিন্ন গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।

এসব গ্রাফিতিতে খুলনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্থান পেয়েছে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি, সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রভৃতির প্রতিকৃতি।

সরজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে লাগানো সব তোরণ ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের লাগানো ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এবারই প্রথম সরকার প্রধানের আগমনে যত্রযত্র তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে খুলনা মহানগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা আসছেন, তাই মহানগরকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও দৃষ্টি নন্দন করা হয়েছে। আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষায় আছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরমোনাই মাহফিল ঘিরে নিরাপত্তার কঠোর প্রস্তুতি, বিএমপি সদর দপ্তরে সমন্বয় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ পি.এম


চরমোনাই মাহফিল ঘিরে নিরাপত্তার কঠোর প্রস্তুতি, বিএমপি সদর দপ্তরে সমন্বয় সভা

মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ**


চরমোনাই মাদ্রাসার আসন্ন বাৎসরিক মাহফিলকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্ন যাতায়াতের ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এ উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।

সভায় আসন্ন মাহফিলকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত, জরুরি চিকিৎসাসেবা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় মাহফিল চলাকালে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগমকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের চলাচলে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বিশেষ করে মাহফিলস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার ওপরও আলোচনা করা হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএমসহ বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া বরিশালের সিভিল সার্জন, এসআরবি, ডিজিএফআই, এনএসআই, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি এবং মাহফিল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সমন্বয় সভায় মাহফিলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

চরমোনাইয়ের বাৎসরিক মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়টি এ সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, তিনজন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


ফরিদপুরে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, তিনজন গ্রেফতার

ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪), যিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার নান্দাহা গ্রামে বসবাস করেন। অপরজন, সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক, যিনি জাহাঙ্গীর (৫৫) নামেও পরিচিত, খুলনার লবণচরা থানার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ফরিদপুর শহরের রঘুন্দনপুরের মাজেদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। এছাড়া, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাখাওয়াত মুন্সি, যিনি সাকা (৩৬) নামে পরিচিত।

এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাসেরহাট এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করেন তারা। তখন তাদের এক সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে ইজিবাইকের চালককে ফরিদপুর ডিবি অফিসে যেতে বলেন। কিন্তু নির্জন স্থানে পৌঁছানোর পর চালক শহিদুল ইসলামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যান তারা। এ সময় চালকের কাছে থাকা মোবাইল ও নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেয়া হয়।

ইজিবাইক চালক কোতোয়ালি থানায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে ফরিদপুর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা লিমন মিয়া এবং তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ফরিদপুর শহরের রঘুন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, লিমনের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও বোয়ালমারী, রাজবাড়ীর পাংশা, মাদারীপুর সদর এবং ডিএমপির শ্যামপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ১১টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিএমপির শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া এবং রাজবাড়ী সদর ও পাংশা থানায় কমপক্ষে ৫টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, তারা দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও ডাকাতির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ১২ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় নিপুন সিনথেটিক লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় মোটরসাইকেল ও নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ ৬৪ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি করা হয়। জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ওই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং তারা ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানায়।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এ বিষয়ে জানান, এই চক্রের সঙ্গে একটি বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক জড়িত। গ্রেফতারকৃতদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে তদন্তের স্বার্থে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ফারুক আহম্মেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ফারুক আহম্মেদ
বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ফারুক আহম্মেদ। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এ পদে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ গত ৪ জুন অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৮ জুন তাঁকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছিল।

ফারুক আহম্মেদের আগে এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ। নতুন পদায়নে তাঁকে পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ফারুক আহম্মেদ এসআরবির মহাপরিচালক নিযুক্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছে। তাঁর এ অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে নতুন দায়িত্বে সফলতা কামনা করেছে রুয়েট পরিবার।#

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%