আব্দুল আউয়াল মিছবাহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
০১:১৭ পি.এম
মাত্র ৩৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হলেই সুনামগঞ্জ জেলা শহর রেল যোগাযোগের আওতায় আসতে পারে। দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। ছাতক রেলস্টেশন থেকে আমবাড়ী হয়ে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার রেল লাইন রাস্তা নির্মাণ করলেই সুনামগঞ্জের ২৭ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতো।
বিভিন্ন সময়ে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি।
সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ছাতক পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথকে আমবাড়ী হয়ে ৩৫ কিলোমিটার সম্প্রসারণ করে জেলা শহর সুনামগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করা হোক। এতে জেলার লাখ লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
রেলওয়ের পরিকল্পনায় বিভিন্ন সময়ে ছাতক থেকে সুরমা নদী পেরিয়ে দোয়ারাবাজার-আমবাড়ী হয়ে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন নেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছিল। এ নিয়ে সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে নানা প্রতিকূলতার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে সিলেট-ছাতক রেলপথটি ১৯৫৪ সালে নির্মিত হয়। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি সুনামগঞ্জের ছাতককে সিলেটের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই রেলপথটি পুনর্বাসনে ২১৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হলেও এখনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ২০২৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
সুনামগঞ্জবাসীর দাবী শুধু ছাতক পর্যন্ত রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার নয়, এই রেলপথকে আমবাড়ী হয়ে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হউক। এতে জেলা সদর সরাসরি জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সরকারের অর্থনীতিতে যুক্ত হবে নতুন সম্ভবনা। সুনামগঞ্জের বিশিষ্টজনেরা
জানান সুনামগঞ্জবাসীর জন্য এই ৩৫ কিলোমিটার রেললাইন শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়; এটি জেলার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পর্যটনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একজন শিক্ষক ১৯৫৫ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছেন এবং তিনি নিজের এলাকার ইতিহাস লিখেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখযুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর চাকরি না পেয়ে গ্রামে গ্রামে শাঁখা বিক্রি করা এক ব্যক্তি পরবর্তীতে সবজি চাষে সাফল্য অর্জন করে অন্য কৃষকদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়েছেন। এমন কীর্তিমান ব্যক্তিদের সম্মাননা জানাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘নক্ষত্রের অভিবাদন’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন গুণী এবং পাঁচ সাংবাদিককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সংবর্ধিত পাঁচ সাংবাদিকের মধ্যে বছরের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন আমার দেশের শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি জি এম মনিরুজ্জামান (মিশুক)।
গত শনিবার বিকেলে শ্যামনগর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে ‘গুণীজনের আলোয় আলোকিত হোক সমাজ’ প্রতিপাদ্যে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে। সাহিত্য, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, জনসেবা, কৃষি, ক্রীড়া, সংগীত ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে মেধা ও মননের স্বাক্ষর রাখা কয়েকজন ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আযম মনিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি এবং শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু।
অনুষ্ঠানে যাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়: সাহিত্যে অবদানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কেরামত উল্লাহ, শিক্ষায় অবদানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন কুমার মুখার্জি, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম মিজানুর রহমান, কৃষিতে অবদানের জন্য মনোতোষ মণ্ডল, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার জন্য আলহাজ আরশাদ আলী মোড়ল, সমাজসেবায় আলহাজ আবুল কালাম বাবলা এবং ক্রীড়ায় অবদানের জন্য এস এম ফিরোজ হোসেন।
এছাড়াও মরণোত্তর সম্মাননা পান সাংবাদিকতায় আনোয়ার হোসেন মল্লিক, জনসেবায় বাবু বিশ্বনাথ দাস এবং সংগীতে গীতিকার ও সুরকার অনিমেষ ব্যানার্জি। ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ আশরাফিয়া দাওরা হাদিস মাদ্রাসায় অর্ধশতাব্দী ধরে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা পান হাফেজ আব্দুল আলী। পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ ও মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক জিহাদ আলীকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করবে যেখানে উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করা হবে না।
তিনি রোববার (১ নভেম্বর) ব্লাক কার্বন-জলবায়ু দূষণ বিষয়ক সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, সরকার এমন কিছু প্রকল্প গ্রহণ করতে চায় যা পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার জলবায়ু বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করবে। পরিবেশ নিয়ে ভালো গবেষণা আইডিয়া বা স্টার্টআপ থাকলে সরকার তাতে অর্থায়ন করতে আগ্রহী।
এ সময় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, পরিবেশ রক্ষায় পোড়া ইটের ব্যবহার কমাতে কংক্রিটের ইটের দাম কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দাসেরকাঠি গ্রামের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি দাসেরকাঠি গ্রামের মৃত সৈজদিনের ছেলে।
রবিবার (১ নভেম্বর) আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউখালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশুতোষ বড়াল। মরহুমের ভাগিনা রাকিব উদ্দিন পাভেল জানান, তাঁর মামা কিছুদিন ধরে অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জনপ্রতিনিধি জাকির হোসেনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবীর এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দীন মোহাম্মদসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস/আইএসআইএস)-এর সদস্যপদ গ্রহণের অভিযোগে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে সাতজন ফরাসি নাগরিককে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করেছে ইরাকের একটি আদালত। বাগদাদের কারখ ফৌজদারি আদালত গত ২৭ অক্টোবর এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (যা ইরাকি আইন অনুযায়ী ২০ বছর কারাদণ্ডের সমতুল্য) এবং সপ্তম আসামিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত ফরাসি নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন লাখদার সেবুয়াই, আদেল বু আউন, আনাস আব্দুল রহমান, জিয়াদ আহমদ, মেহদি সিদা এবং বেঞ্জামিন ভ্যান হ্যান (যাবজ্জীবন) এবং ২৪ বছর বয়সী আমজা বেনাবেদ (১৫ বছর কারাদণ্ড)। আদালত তাদেরকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে জানায়, তারা ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, ইরাক ও সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেয়ার সাথে সরাসরি জড়িত ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে :
ইরাকের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী, জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে বিচারক আসামিদের কম বয়সের বিষয়টি বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এই সাজাপ্রাপ্তরা সিরিয়ার কুর্দিশ ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা ৪৭ জন ফরাসি নাগরিকের একটি বড় দলের অংশ ছিলেন, যাদের গত বছর বিচারের জন্য মার্কিন ও ইরাকি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ইরাকে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
রায় ঘোষণার সময় ফরাসি দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ৩০ দিন সময় পাবেন।
২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে আইএসআইএস তাদের খেলাফত ঘোষণা করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক এ জঙ্গি গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। ২০১৯ সালে তাদের আঞ্চলিক পতনের পর থেকে হাজার হাজার বিদেশি জঙ্গি ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছে, যাদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা চলছে।
ফ্রান্সের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইরাকের বাগদাদ আদালতে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)-এর সদস্যপদ গ্রহণের দায়ে সাত ফরাসি নাগরিককে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়ার পর ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তারা ইরাকের এ আইনি রায়কে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ইরাকের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করছে।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে ফরাসি নাগরিকদের বিরুদ্ধে যেসব সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, ইরাকের দণ্ডবিধি অনুযায়ী তাদের এ সাজা (যাবজ্জীবন ও ১৫ বছরের কারাদণ্ড) সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। ফ্রান্স সাধারণত অন্য কোনো স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার হস্তক্ষেপও করে না’।
কূটনৈতিক সূত্র থেকে ফ্রান্স সরকারের অবস্থান এবং তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ : ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, বাগদাদে অনুষ্ঠিত এ বিচার প্রক্রিয়ার পুরো সময় জুড়েই ফরাসি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ফরাসি সরকারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, শুনানিতে আসামিদের তাদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ এবং নথিপত্র স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বন্দিরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী আইনজীবী নিয়োগের পূর্ণ অধিকার পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ফরাসি আইনজীবীদেরও ইরাকি বার অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় ডিফেন্স দেয়ার সুযোগ ছিল। পাশাপাশি শুনানির পুরোটা সময় ফরাসি নাগরিকদের জন্য অনুবাদকের (দোভাষী) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ফ্রান্স যেহেতু বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ডের ঘোর বিরোধী, তাই তাদের নাগরিকদের এ যাত্রায় মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় ফরাসি নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক স্বস্তি দেখা গেছে।
ফ্রান্সে ফেরত এনে তাদের সাজা খাটানো হবে কি না- সেই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি প্যারিস। তবে ফরাসি দূতাবাস জানিয়েছে, সিরিয়া থেকে ইরাকে স্থানান্তরিত বাকি ফরাসি নাগরিকদের বিচারও আগামীতে অনুষ্ঠিত হবে এবং দূতাবাস কর্তৃপক্ষ প্রতিটি শুনানিতে নিবিড় নজরদারি বজায় রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দেশের উগ্রপন্থী নাগরিকদের ইউরোপে ফিরিয়ে নিয়ে বিচার করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকি এড়াতে ফ্রান্স এক প্রকার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইরাকের মাটিতে এ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দিচ্ছে। ইরাকের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর আড়ালে ফরাসি সরকার আসলে তাদের নাগরিকদের দায় সরাসরি এড়াতে চাইছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : এপি, ইউরোনিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ