বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৩৯ পি.এম
সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান যৌথভাবে একটি বিশাল সামরিক জোট গঠন করছে। গত শুক্রবার, তিন দেশের নেতারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছেন।
এই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর যদি সশস্ত্র হামলা হয়, তাহলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে ধরা হবে। পাশাপাশি, তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার বিস্তার ও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়তে থাকায়, এই চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সামরিক শক্তির দিক থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একত্রিত হলে এটি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট। সৌদি আরব পৃথিবীর অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক, তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী এবং পাকিস্তান হলো একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।
২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচকের অনুযায়ী, তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা স্থল, আকাশ এবং নৌ—তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য।
তিন দেশের সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এর মধ্যে পাকিস্তানের সক্রিয় সেনাসদস্য প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, তুর্কির রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার এবং সৌদি আরবের প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার।
সক্রিয় সেনাবাহিনীর সাথে সাথে, তিন দেশের রিজার্ভ ও আধাসামরিক বাহিনীও রয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময়ে সম্মিলিত জনবল বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই জনশক্তি তিন দেশের সামরিক জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। পাকিস্তান বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতা ও বড় পেশাদার সেনাবাহিনীর কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আকাশপথে তিন দেশ মিলে একটি বড় শক্তি তৈরি করছে। তাদের সম্মিলিত সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৪১৫টি। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে।
পাকিস্তানের হাতে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৯৭টি সামরিক বিমান, তুরস্কের রয়েছে ১ হাজার ১০১টি এবং সৌদি আরবের প্রায় ৯১৭টি। তুরস্কের সামরিক বিমানশক্তির সাথে যুক্ত হয়েছে দ্রুত বিকাশমান ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। পাকিস্তানের রয়েছে যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও আকাশ প্রতিরক্ষায় দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। সৌদি আরবের বিমানবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উন্নত যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।
ফলস্বরূপ, তিন দেশের বিমান সক্ষমতা শুধুমাত্র সংখ্যার দিক থেকেই বৃহৎ নয়; প্রযুক্তিগত এবং যুদ্ধে সক্ষমতার দিক থেকেও বৈচিত্র্য রয়েছে।
স্থলবাহিনীর ক্ষেত্রেও তিন দেশের সম্মিলিত শক্তি উল্লেখযোগ্য। তাদের হাতে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৪৬টি ট্যাংক এবং ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যান। এর সাথে রয়েছে হাজার হাজার আর্টিলারি ব্যবস্থা এবং একাধিক রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা।
ট্যাংকের সংখ্যায় পাকিস্তান এগিয়ে। দেশটির হাতে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬৭৭টি ট্যাংক, তুরস্কের রয়েছে ২ হাজার ২৮৪টি এবং সৌদি আরবের ১ হাজার ৮৫টি। স্থলযুদ্ধে পাকিস্তানের বিশাল সেনাবাহিনী ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা, তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।
নৌসক্ষমতার দিক থেকেও তিন দেশের সম্মিলিত শক্তি উল্লেখযোগ্য। তাদের কাছে রয়েছে প্রায় ৩৪৪টি নৌযান, এর মধ্যে ৩৩টি ফ্রিগেট, ২৪টি করভেট এবং ২২টি সাবমেরিন রয়েছে।
তুরস্কের নৌবাহিনী তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় হওয়ায়, সমুদ্রভিত্তিক সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরব সাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌদি আরবের অবস্থান পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে।
অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকেও তিন দেশ শক্তি প্রকাশ করছে। ২০২৬ সালে, তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে সৌদি আরব, প্রায় ৬৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
এই চুক্তি বিষয়টি এমন যে, এটি শুধু সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও বড় অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড দেস রোশেসের মতে, সৌদি আরবের জন্য অস্ত্র সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা খুব জরুরি।
এই চুক্তি শুধু সামরিক নয়, বরং প্রতিরক্ষা শিল্প এবং অস্ত্রবাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই জোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পায় এবং সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের বৃহত্তম ক্রেতাদের মধ্যে একটি।
চুক্তির ভাষা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। সদ্য স্বাক্ষরিত চুক্তিটি অন্তত মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন শক্তিশালী সামরিক কাঠামোর জন্ম দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা, থানা এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সহ ছিনতাই প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা জরুরি। মাদক কারবারি ও এর সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
থানা এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে কোনো প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিএমপি কমিশনার।
ছিনতাই প্রতিরোধের জন্য ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সিটিটিসি ও ডিবিকে ২৪ ঘণ্টা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশও দেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে হবে। মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বুধবার (১২ আগস্ট) আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট ভবনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক সব প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় জোরালো ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে নেতানিয়াহুর সরকারের দখলীকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন, যা বিশ্বের সামনে সংঘটিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ধ্বংসের চেষ্টার কথা জানান।
এছাড়া, এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পদ্ধতির ভিত্তিতে ফিলিস্তিনের দাবিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তুরস্ক কাজ করবে। তিনি বলেন, দখল, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ভূমি দখলের নীতি ক্রমাগত তীব্রতর হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রেসিডেন্ট জানান, ২০২৬ সালে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি এই অবস্থাকে একটি ‘পরিকল্পিত দখলদারিত্ব’ হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, নেতানিয়াহু সরকার বিশৃঙ্খলা ও নতুন সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিনকে বৈশ্বিক আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে দিতে চায়, তবে তারা এ বিষয়টি সফল হবে না। আমাদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানগুলোর স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত উসকানির আমরা বিশেষভাবে তীব্র বিরোধিতা করছি।
এরদোয়ান পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে আঙ্কারার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি গাজার পুনর্গঠন কাজ শুরু করা এবং আল আকসা মসজিদসহ পবিত্র স্থানগুলোর বর্তমান স্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন। একইসঙ্গে, তিনি ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগে অনিয়ম, জাল-জালিয়াতি, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁর নামে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের দাবিও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুর রহিম বিভিন্ন কাজের নিয়ন্ত্রণ, ভুয়া বিল তৈরি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা দপ্তরের অধীন ২৫০ টন উত্তোলন ক্ষমতার উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ দীর্ঘ সময় নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটে অবস্থান করলেও নথিপত্রে সেটিকে সচল দেখিয়ে জ্বালানি ব্যবহারের নামে বিপুল অর্থের বিল তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, জাহাজটির প্রকৃত পরিচালনা ও জ্বালানি ব্যবহারের সঙ্গে নথিতে দেখানো ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানেও নথিপত্রে গরমিলের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন প্রকল্পে বয়া-বিকন বাতি, নৌযান মেরামতসহ নানা কাজের নামে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে যেসব বিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আখি এন্টারপ্রাইজ: টিপি-১৩৫-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
তানিয়া এন্টারপ্রাইজ: এমপি-১২-এর বিল বাবদ ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং স্পিড বোট-১ মেরামতের নামে ৮ লাখ ৮১ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
তানজিল ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস: টিপি-৮০-এর বিল বাবদ ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৫২ টাকা এবং টিপি-১৭৩-এর নামে ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
আলিফ এন্টারপ্রাইজ: টিপি-৪৫-এর ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানোর ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল।
আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগে ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া ও পাবনায় বিপুল সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর মুগদায় একাধিক ফ্ল্যাট, আশুলিয়ায় ভবন, সাভারে বহুতল ভবন ও দোকান, মোহাম্মদপুরে জমি এবং অন্যান্য এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কেরানীগঞ্জ এলাকায় একজন ঠিকাদারের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় বড় একটি ডকইয়ার্ড থাকার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে এসব সম্পদের মোট মূল্য কয়েকশ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আব্দুর রহিম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁকে বরিশালের ডিইপিটিসিতে প্রিন্সিপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু বদলি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাত, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধের সময় আত্মদানকারী মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় অবশেষে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে সর্বসাধারণের জন্য। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে স্মৃতিস্তম্ভটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল।
এটির অবস্থান আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর (কামাউড়া) এলাকায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে, ৩ দশমিক ৬১ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে মৈত্রীস্তম্ভ। বাইরের দিকে এটি দৃষ্টিনন্দন, অথচ ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগের অনেক স্মৃতি রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ ফিতা কেটে মৈত্রীস্তম্ভের উদ্বোধন করেন। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে এবং আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউস সারোয়ার সহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধন হিসেবে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা একত্রিত হতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।
এটি দেখার জন্য মানুষের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মৈত্রীস্তম্ভ দেখতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ স্মরণে ২০১৭ সালে আশুগঞ্জে মৈত্রীস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা এবং ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প খরচ বেড়ে ৪৭ কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে গিয়ে ব্যয় আবারো বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর জেলা গণপূর্ত বিভাগ মৈত্রীস্তম্ভটি আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর উপজেলা প্রশাসন এটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। মৈত্রীস্তম্ভের ভেতরে প্রবেশ করলে দেয়ালে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খোদাই ছবি চোখে পড়ে। অন্যদিকে রয়েছে ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনের শিকল, কারাবন্দির জীবন, ১৯৬২ সালের স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের প্রতিবাদ এবং জাতীয় নেতাদের বিভিন্ন চিত্রসহ মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনা ও তথ্য।
এছাড়াও মিত্রবাহিনীর সদস্যদের ছবি, হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান, গোলাবর্ষণের অস্ত্র ও ট্যাংক, রেডিও এবং অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।স্মৃতিস্তম্ভের মূল অংশের নিচের চারপাশে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেনাসদস্যদের নাম পিতলে খোদাই করে লেখা রয়েছে, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদের ১ হাজার ৪৮২ জন সদস্যের নাম দেখা যায়।
মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্যও স্মৃতিস্তম্ভের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যুদ্ধের ভয়ের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে গিয়ে মানুষ ভারতে পালানোর দৃশ্য এবং বৃদ্ধ মাকে কাঁধে তুলে নেওয়ার চিত্রও এতে রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য এখানে শিশুদের বিনোদন পার্ক, দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা ও সংগ্রহশালা রয়েছে। এছাড়া রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান হিসেবেও ব্যবহারের জন্য কয়েকটি দোকান এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মৈত্রীস্তম্ভটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়নের কারণে প্রকল্পটির উদ্বোধনে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের পরিবেশে চালকলের কারণে ধোঁয়া ও ধুলা জমে মৈত্রীর সৌন্দর্যকে নষ্ট করছিল। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ