ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

গুলশানে ‘গোল্ড কিনেন’ এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার উদ্বোধন


গুলশানে ‘গোল্ড কিনেন’ এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার উদ্বোধন

রাজধানীর গুলশানে উদ্বোধন করা হয়েছে স্বর্ণ কেনাবেচা ও সঞ্চয়বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘গোল্ড কিনেন’-এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন সরাসরি ২২ ক্যারেট হলমার্কড ও সার্টিফায়েড গোল্ড বার এবং কয়েন দেখে কেনার সুযোগ পাবেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) গুলশান অ্যাভিনিউয়ের এলিগ্যান্ট স্কয়ার ভবনে এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারটির উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সেন্টারটিতে ০.৫, ১, ২, ৫ ও ১০ গ্রামের গোল্ড বার এবং ২ ও ৪ গ্রামের গোল্ড কয়েন সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকরা সরাসরি এসব স্বর্ণের পণ্য দেখে পছন্দ অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারবেন। পাশাপাশি গোল্ড কিনেন অ্যাপের মাধ্যমে স্বর্ণ কেনা, বিক্রি ও সঞ্চয়ের সুবিধাও পাবেন।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে ভ্রমণের ১০টি নিয়ম ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানা হতে পারে

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বর্ণ কেনা ও সঞ্চয়কে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ, নিরাপদ ও সুবিধাজনক করাই তাদের লক্ষ্য। নতুন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি পণ্য দেখার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে কেনাকাটা করতে পারবেন।

২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে ‘গোল্ড কিনেন’। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২২ ক্যারেট হলমার্কড ও সার্টিফায়েড স্বর্ণ কিনতে ও সঞ্চয় করতে পারেন। গ্রাহকদের কেনা স্বর্ণ ব্যাংকমানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে যেকোনো সময় তা বিক্রির সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় নির্দিষ্ট এলাকায় হোম ডেলিভারি এবং দেশব্যাপী ৬৫০টির বেশি পিকআপ পয়েন্ট থেকে গোল্ড বার বা কয়েন সংগ্রহের সুবিধা রয়েছে।

আয়োজকরা বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে গোল্ড ক্রয় ও সঞ্চয়কে মানুষের জন্য সহজ, নিরাপদ ও সুবিধাজনক করে তোলা। এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন আমাদের পণ্য সরাসরি দেখতে, জানতে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রয় করতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ গ্রাহকদের আস্থা আরও দৃঢ় করবে।

প্রযুক্তি, স্বচ্ছতা ও সুবিধাকে একত্র করে স্বর্ণ কেনাবেচা এবং সঞ্চয়ের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সেরা সময় অক্টোবর-নভেম্বর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কাজে লাগাতে ব্যর্থ, সতর্ক বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কাজে লাগাতে ব্যর্থ, সতর্ক বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের সামনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য জনসংখ্যার অনুকূল বয়সকাঠামো কাজে লাগানোর সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ২০৪৫ সালে দেশে জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সময়কাল শিখরে পৌঁছাবে। তবে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। প্রবীণ জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। এই কারণে কর্মক্ষম জনগণের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারলে জনসংখ্যাগত সুবিধা অর্থনৈতিক চাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় পরিবর্তন এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের হাতে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর জন্য প্রায় দুই দশক সময় রয়েছে। ২০৪৫ সালে এই সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা বেশি সময় পেলেও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে অঞ্চলটি বার্ধক্যপ্রবণ অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশও ২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ জনগোষ্ঠীপ্রধান দেশে পরিণত হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রতিবছর গড়ে ০.৪ শতাংশ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১.১ শতাংশ। তবে, জনসংখ্যার বয়সকাঠামোর এই সুবিধা স্থায়ী হবে না। ২০০০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যার বার্ষিক অবদান কমে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট মন্তব্য করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো আগের তুলনায় দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগণের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখনই নীতিগত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। প্রবীণ জনগণের চাহিদা মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষম জনগণের সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুস্থ প্রবীণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রেখে দ্বিতীয় দফায় জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুকূল বয়সকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সীমিত আনুষ্ঠানিক চাকরি সৃষ্টি, নারীদের শ্রমবাজারে কম অংশগ্রহণ এবং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী, অর্থাৎ ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও অনেককে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীদের ৪৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত। আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি ধীর। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই করেছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানো নির্ভর করছে এখন নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, তরুণদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশের বাধা দূর করতে হবে। প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অবসরকালীন আয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোও জরুরি।

প্রবীণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়া পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘায়ু বাড়লেও সুস্থ ও কর্মক্ষমভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই অনেকের। স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা এবং পেনশন ব্যবস্থাও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত নয়। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগণের মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। প্রবীণদের মাত্র ১০ শতাংশ পেনশন সুবিধা পান, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কভারেজগুলোর একটি।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রথমত, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, ব্যবসায়িক বিধিবিধান সহজ করা এবং শিক্ষা ও দক্ষতার মান উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ জনগণের কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানে বিদ্যমান বাধা দূর করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রবীণদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও কার্যকর পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে বয়স্ক জনগণের জীবনমান ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আনছে। সময় থাকতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা না গেলে এই পরিবর্তনের সুফল ধরে রাখা কঠিন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের বাবার ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জানে আলম লিখন: বরিশাল

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের বাবার ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 

আজ ৩ নভেম্বর—আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাবিধুর একটি দিন। আজ আমার প্রিয় বাবার ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে বাবাকে হারানোর ২৩ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এত বছর পরও তাঁর শূন্যতা আমাদের হৃদয় থেকে একটুও মুছে যায়নি। আজও প্রতিটি স্মৃতি, প্রতিটি মুহূর্তে বাবার অভাব গভীরভাবে অনুভব করি।

২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বাবা শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে চলে যান। সময়ের পরিক্রমায় জীবনের অনেক কিছু বদলে গেছে, বদলে গেছে আমাদের পারিবারিক জীবনও। কিন্তু বাবাকে হারানোর সেই শূন্যতা আজও আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হৃদয়ে গভীরভাবে রয়ে গেছে।

আমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। আমার দেখা জীবনের যতটুকু সময়ে তাঁকে পেয়েছি, কখনো কারও সঙ্গে তাঁকে ঝগড়া-বিবাদে জড়াতে দেখিনি। কারও সঙ্গে মনোমালিন্য কিংবা খারাপ আচরণ করতে দেখিনি। তিনি ছিলেন সহজ-সরল, বিনয়ী ও মাটির মানুষ। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন, কাউকে কষ্ট দিতে চাইতেন না। তাঁর ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় দিক ছিল—তিনি কখনো কারও সঙ্গে অন্যায় করতে চাইতেন না।

বাবার জীবনটাও খুব সহজ ছিল না। ছোটবেলায় তাঁর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর মাকেও হারান। জীবনের শুরুর সময়েই তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দাদির কাছে বড় হয়েছেন, পার করেছেন অনেক কঠিন সময়। শৈশবের সেই অভাব-অনটন ও প্রতিকূলতা তাঁকে জীবনের বাস্তবতা চিনতে শিখিয়েছিল। হয়তো সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও বেশি মানবিক, সহনশীল ও বিনয়ী করে তুলেছিল।

বাবা আমাদের পরিবারের জন্য ছিলেন নির্ভরতার একটি জায়গা, ভালোবাসার আশ্রয়। তাঁর উপস্থিতি আমাদের পরিবারকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছিল। কিন্তু একসময় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। খালা-মামারাও সাধ্যমতো চিকিৎসার ব্যয় বহন করেছেন। সবাই চেয়েছিলেন, বাবা সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। কিন্তু সব চেষ্টা ও প্রত্যাশাকে পেছনে ফেলে একদিন তিনি চিরবিদায় নিলেন।

বাবার মৃত্যুর পর আমাদের পরিবার যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। তাঁর চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি। একজন বাবাকে হারানো মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়; হারিয়ে ফেলা জীবনের এক নির্ভরতার জায়গা, ভালোবাসার আশ্রয় এবং কঠিন সময়ে মাথার ওপর থাকা ছায়া। সময় অনেক দূর এগিয়ে গেছে, কিন্তু বাবাকে হারানোর কষ্ট আজও একই রকম রয়ে গেছে।

আজও বাবার বলা কিছু কথা কানে বাজে। বিশেষ করে জীবনের শেষ সময়ে দেওয়া তাঁর একটি উপদেশ আমার হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তিনি বলেছিলেন—

“জীবনে যতদিন বেঁচে থাকবি, কখনো কারও সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবি না, কাউকে ব্ল্যাকমেইল করবি না। মানুষের সঙ্গে অন্যায় করবি না।”

বাবার এই কথাগুলো শুধু উপদেশ নয়, আমার কাছে জীবনের অন্যতম মূল্যবান শিক্ষা। জীবনের নানা পরিস্থিতিতে তাঁর সেই কথাগুলো মনে পড়ে। মানুষ হিসেবে সৎ থাকা, কারও সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করা এবং অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকার যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও আমার চলার পথের পাথেয়।

বাবা, আপনি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আপনার স্মৃতি, আপনার ভালোবাসা এবং আপনার দেওয়া শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে বেঁচে আছে। পৃথিবীতে কিছু মানুষের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আপনি ছিলেন আমাদের কাছে তেমনই একজন মানুষ। মহান আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা—তিনি যেন আপনার জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, কবরের আজাব থেকে হেফাজত করেন, আপনার কবরকে প্রশস্ত ও নূরে পরিপূর্ণ করে দেন এবং আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।

আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাঁকে ক্ষমা করে জান্নাতবাসী করেন। আমিন।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করছি আমার প্রিয় বাবাকে।

আজ আমার শ্রদ্ধেয় বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। বাবা, তুমি ওপারে যেখানেই থাকো, মহান আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুন এবং শান্তিতে রাখুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের ১২৮৪ বছরের প্রাচীন মসজিদ: দুই সভ্যতার ঐতিহাসিক মেলবন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


চীনের ১২৮৪ বছরের প্রাচীন মসজিদ: দুই সভ্যতার ঐতিহাসিক মেলবন্ধন

চীনের শানসি প্রদেশের রাজধানী শিয়ান। এই শহরটি প্রাচীনকালে ছিল চীনের ঐতিহাসিক রাজধানী ছাংআন। সিল্ক রোড বা প্রাচীন রেশমপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এই নগরীর সঙ্গে আরব, পারস্য ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় যোগাযোগের ইতিহাস বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। ১৩ শতাব্দীর ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো শিয়ানের বিখ্যাত গ্রেট মসজিদ বা হুয়াজুয়ে লেন মসজিদ। এটি ৭৪২ খ্রিষ্টাব্দে তাং রাজবংশের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালে সেই প্রতিষ্ঠাকালের বয়স দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ২৮৪ বছর।

চীনে ইসলামের প্রাচীন উপস্থিতি, মুসলিম বণিকদের ভূমিকা এবং স্থানীয় সভ্যতার সঙ্গে ইসলামের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের বিষয়টি সামনে এসেছে। মসজিদটির বিশেষত্ব হলো, এটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত মসজিদ স্থাপত্যের অনুকরণে নির্মিত নয়। বরং এটি চীনের ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদ, উদ্যান ও ধর্মীয় স্থাপনার স্থাপত্যরীতির সঙ্গে ইসলামের ধর্মীয় পরিচয়কে একীভূত করে গড়ে উঠেছে।

চীনে ইসলামের আগমন: ৬৫১ সালের ঐতিহাসিক যোগাযোগ

চীনে ইসলামের আগমন নিয়ে আলোচনায় ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। তখন চীনে তাং রাজবংশের শাসন চলছিল। অন্যদিকে আরব উপদ্বীপে ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিস্তার ঘটছিল খলিফা হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর শাসনামলে।

দক্ষিণ কোরিয়ার হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হি-সু লি ২০০২ সালে প্রকাশিত তার গবেষণাপত্র ‘দ্য স্প্রেড অব ইসলামিক কালচার টু ইস্ট এশিয়া বিফোর দ্য এরা অব মডার্ন ইউরোপিয়ান হেজিমনি’-তে চীনের প্রাচীন রাজকীয় নথির বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছেন, ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দে আরবের শাসক চীনা সম্রাটের দরবারে একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠান। তাং রাজবংশের ঐতিহাসিক বিবরণে এ যোগাযোগের উল্লেখ রয়েছে। এটি দুই সাম্রাজ্যের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

৬৫১ সালে আরব প্রতিনিধি দলের চীন সফরের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে ওই বছরই চীনে প্রথম মুসলিম বসতি গড়ে উঠেছিল, এমন সিদ্ধান্তও নিশ্চিতভাবে দেওয়া যায় না। চীনে ইসলামের আগমন সম্পর্কে আরেকটি বহুল প্রচলিত বর্ণনা হলো, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) চীনে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন। চীনা মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যবাহী বর্ণনায় তাকে চীনে ইসলামের প্রথম প্রচারকদের অন্যতম হিসেবে সম্মান করা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজু শহরে তার নামের সঙ্গে একটি মসজিদ ও সমাধিস্থানের ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।

কিন্তু ঐতিহাসিক গবেষণায় এ বর্ণনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামি ইতিহাস ও চীনা মুসলিম সমাজ নিয়ে গবেষণাকারী জেমস ডি ফ্রাঙ্কেলের বিশ্লেষণ এবং ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘দ্য মুসলিম মার্চেন্টস অব প্রিমডার্ন চায়না’ গ্রন্থের গবেষণায় বলা হয়েছে, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর চীন সফরের কাহিনি চীনা মুসলিম ঐতিহ্য ও লোককথায় বিস্তৃত হয়েছে। সুতরাং ৬৫১ সালের আরব-চীন কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর চীন সফরের প্রচলিত কাহিনিকে দুটি পৃথক ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাণিজ্যপথ ধরে ইসলামের বিস্তার

চীনে ইসলাম বিস্তারের ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের চেয়ে বাণিজ্য, অভিবাসন, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্কের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীনকাল থেকেই আরব ও চীনের মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। আরব ও পারস্যের মুসলিম বণিকেরা ভারত মহাসাগর, মালাক্কা প্রণালি এবং দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করে চীনের বিভিন্ন বন্দরে যাতায়াত করতেন। অন্যদিকে মধ্য এশিয়া হয়ে স্থলপথের রেশমপথও ছিল মুসলিম বণিক, পর্যটক ও জ্ঞানচর্চাকারীদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

গুয়াংজু, ছুয়ানচৌ ও অন্যান্য বন্দরনগরীতে মুসলিম বণিকদের বসতি গড়ে ওঠে। তাদের অনেকে ব্যবসার প্রয়োজনে চীনে অবস্থান শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈবাহিক ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এভাবেই চীনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিস্তার ঘটে।

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের গবেষণাগ্রন্থে তাং রাজবংশের সময় চীনে আরব ও পারস্যের বণিকদের উপস্থিতি এবং তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিবরণ পাওয়া যায়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, চীনের বিভিন্ন নগরীতে মুসলিম বণিকদের উপস্থিতি ছিল এবং তারা স্থানীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

অষ্টম শতাব্দীতে এসে চীনে মুসলিমদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ৭৫১ সালের তালাসের যুদ্ধ এবং ৭৫৫-৭৫৯ সালের আন লুশান বিদ্রোহের সময়কার ঘটনাবলিও চীন ও মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে মুসলিম জনবসতি বিস্তারের সম্পর্ক নির্ধারণে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

শিয়ানের মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও স্থাপত্যের বিশেষত্ব

শিয়ানের বিখ্যাত গ্রেট মসজিদটির প্রচলিত প্রতিষ্ঠাকাল ৭৪২ খ্রিষ্টাব্দ। এটি তাং রাজবংশের সম্রাট শুয়ানজংয়ের শাসনামলের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। মসজিদটির চীনা নাম হুয়াজুয়ে শিয়াং ছিংজেন দাসি। এটি শিয়ানের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত।

তবে মসজিদটির প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে গবেষণাগত সতর্কতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের গবেষক লরেন্স ই. বাটলার তার ‘মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক আইডেনটিটিজ ইন চায়না’ শীর্ষক নিবন্ধে জানিয়েছেন, মসজিদটির প্রতিষ্ঠা ৭৪২ সালে বলে প্রচলিত ঐতিহ্য থাকলেও এ ধরনের প্রাচীন প্রতিষ্ঠাকালের তথ্য যাচাই করা কঠিন। মসজিদটি পরবর্তী মিং ও ছিং রাজবংশের সময়ে একাধিকবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর বর্তমান স্থাপত্যবিন্যাস মূলত মিং আমলের বৈশিষ্ট্য বহন করে। ১৯৫৬ সাল থেকে এটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত।

স্থাপত্যের দিক থেকে মসজিদটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদে সাধারণত যে বিশাল গম্বুজ, উঁচু মিনার ও খিলান দেখা যায়, শিয়ানের এই মসজিদে তার প্রচলিত রূপ নেই। বরং চীনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সঙ্গে ইসলামের ধর্মীয় প্রয়োজন ও শিল্পরীতিকে সমন্বয় করা হয়েছে।

মসজিদটির রয়েছে একাধিক প্রাঙ্গণ, বাগান, অলংকৃত প্রবেশপথ, কাঠের স্থাপনা এবং চীনা প্যাগোডার আদলে নির্মিত মিনার। এর নামাজের স্থান পশ্চিম দিকে, অর্থাৎ মক্কার কিবলামুখী করে নির্মিত। স্থাপনার বিভিন্ন অংশে আরবি ক্যালিগ্রাফি, কোরআনের আয়াত ও ফুলেল নকশার ব্যবহার রয়েছে।

চীনা স্থাপত্যের কাঠের নির্মাণকৌশল, উঁচু ছাদের কারুকাজ এবং স্থানীয় অলংকরণশৈলীর সঙ্গে ইসলামের ধর্মীয় শিল্পরীতির সমন্বয় ঘটেছে। ফলে স্থাপনাটি একই সঙ্গে চীনা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ইসলামি পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে।

মসজিদটির বর্তমান ভবনগুলোর সবকিছুই তাং আমলের নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার, পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ফলে এর বর্তমান রূপ তৈরি হয়েছে। প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় স্থাপত্যের ধারাবাহিকতাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলামের সহাবস্থান

শিয়ানের এই মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়; এটি সংস্কৃতির পারস্পরিক অভিযোজন ও সহাবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ইসলাম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তারের সময় স্থানীয় সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের সঙ্গে নানা ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কোথাও পারস্যের গম্বুজ ও মিনার, কোথাও তুর্কি স্থাপত্য, কোথাও ভারতীয় মুঘল শিল্পরীতি, আবার কোথাও চীনা প্রাসাদ ও উদ্যানের নির্মাণশৈলী ইসলামি স্থাপত্যে প্রভাব ফেলেছে।

চীনের হুই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে এই সাংস্কৃতিক সমন্বয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তারা চীনা ভাষা, সামাজিক রীতিনীতি ও স্থানীয় স্থাপত্যের অনেক বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করলেও ইসলামি ধর্মীয় পরিচয় ও অনুশীলন বজায় রেখেছেন।

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখানো হয়েছে, চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের মসজিদের স্থাপত্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিফলিত হয়েছে। শিয়ানের গ্রেট মসজিদ এ ধারার অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।

চীনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ ঐতিহাসিক উপস্থিতি

বর্তমান চীনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে হুই ও উইঘুর জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে পরিচিত। এ ছাড়া কাজাখ, কিরগিজ, তাজিক, তাতার, সালার, দংজিয়াংসহ আরও কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলাম প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব জনগোষ্ঠীর ভাষা, জাতিগত পরিচয়, ইতিহাস ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে পার্থক্য রয়েছে।

হুই মুসলিমদের বড় অংশ চীনা ভাষাভাষী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের ইতিহাস আরব ও পারস্যের বণিকদের আগমন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘকালীন সামাজিক অভিযোজনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে উইঘুর মুসলিমদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার তুর্কি ভাষাভাষী সমাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে শিনজিয়াং অঞ্চলে তাদের বসতি, ভাষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে মধ্য এশিয়ার দীর্ঘ ঐতিহাসিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে।

চীনে ইসলামের ইতিহাস তাই কেবল আরব বণিকদের আগমনের ইতিহাস নয়; এটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, বাণিজ্যপথ, ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবর্তনের সম্মিলিত ইতিহাস।

পরিচয় বজায় রেখেও সাংস্কৃতিক সমন্বয়

শিয়ানের প্রায় ১৩ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরে। কোনো ধর্ম বা সভ্যতার বিস্তার সব সময় রাজনৈতিক ক্ষমতা কিংবা সামরিক প্রভাবের মাধ্যমে ঘটে না। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, জ্ঞানচর্চা, নৈতিক আচরণ, সামাজিক আস্থা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ও দীর্ঘমেয়াদে ধর্মীয় ও সভ্যতাগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চীনে মুসলিম বণিকদের ইতিহাস সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস, জীবনাচার ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ও সংরক্ষণ করেছিলেন।

শিয়ানের গ্রেট মসজিদ সেই দীর্ঘ ইতিহাসের একটি দৃশ্যমান স্মারক। এর দেয়াল, প্রাঙ্গণ, কাঠের কারুকাজ ও আরবি ক্যালিগ্রাফি যেন সাক্ষ্য দেয়, ভৌগোলিক দূরত্ব ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ও সভ্যতাগত যোগাযোগের সেতুবন্ধ তৈরি হতে পারে।

ইসলামের ইতিহাসের প্রাথমিক যুগে যারা ব্যবসা, জ্ঞানচর্চা, সামাজিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরেছেন, তাদের অবদান স্মরণীয়। তাদের নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার মধ্য দিয়েই বহু দূরের ভূখণ্ডে ইসলামি ঐতিহ্যের শিকড় বিস্তৃত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনার দিঘলিয়ায় জামায়াত নেতার ঘরে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


খুলনার দিঘলিয়ায় জামায়াত নেতার ঘরে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ১

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকায় জামায়াত নেতার নিজ ঘরে এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের ফলে বসতঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে এবং ঘরের মালিক আহত হয়েছেন। বিকট শব্দের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেনহাটী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সভাপতি এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে ফেরার সময় তিনি দরজার সামনে পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো কিছু বস্তু দেখতে পান এবং সেটি ঘরে নিয়ে যান। ঘরে ওই প্যাকেট রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আসবাবপত্রে আগুন লেগে যায়।

বিস্ফোরণের ফলে জামায়াত নেতা মনিরের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই বিকট শব্দের ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী ও তদন্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে যায়।

দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, "তদন্ত না করে এ বিষয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।" তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা এর আগে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন সময় এ ধরনের বস্তু বা ককটেল জাতীয় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

সুধীজন ও সমাজসংস্কারক সৈয়দ রাশেদুজ্জামান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বারবার এমন ঘটনা ঘটার পেছনে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা রয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের এলাকায় আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গোপন সংগঠন পরিচালনা করে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হতে পারে। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%