ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

হাইকোর্টে চিকিৎসাবর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনের রুল শুনানি


হাইকোর্টে চিকিৎসাবর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনের রুল শুনানি

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাবর্জ্য পরিশোধনের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অথবা কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এবং বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে।

আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন। তিনি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জানান, আদালত গত ২ নভেম্বর রুল শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছে। রিটটি কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) উঠলেই এর ওপর শুনানি শুরু হবে।

২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে ‘হ্যাজারডাস ওয়েস্ট হিপড ইন ওপেন বিনস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উন্মুক্ত স্থানে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়ার বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন, তাই ভাঙা রাস্তায় পড়ছে নতুন পিচ!

প্রতিবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ও সাংবাদিক আহমেদ আল আমীন। নোটিশের কোনো সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে ওই বছরের ১৯ মার্চ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়।

রিটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিবকে বিবাদী করা হয়।

প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসহ রুল জারি করেছিল।

রুলে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য অপসারণ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য পৃথকভাবে অথবা কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসাবর্জ্য অপসারণ, পুনর্ব্যবহার ও পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও প্রকৃতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চায় আদালত।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

রিট আবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সামনে উন্মুক্ত স্থানে স্তূপ করে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া অধিকাংশ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের যথাযথ ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা সারা দেশের চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম দুরবস্থার চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রচলিত পরিবেশ আইন এবং চিকিৎসাবর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। হাসপাতালের বিপজ্জনক বর্জ্য সাধারণ গৃহস্থালির বর্জ্যের সঙ্গে মিশে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। বড় বড় হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর অনেকেরই নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি না থাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রুল শুনানির নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে শব্দদূষণের দায়ে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ পি.এম


চাঁদপুরে শব্দদূষণের দায়ে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

চাঁদপুর, ৩ নভেম্বর ২০২৬ : আজ জেলা প্রশাসন কর্তৃক শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারের দায়ে ছয়টি যানবাহনকে মোট ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে।

এ সময় সাতটি যানবাহন থেকে হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করা হয়েছে।

‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ এর আওতায় মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের ওয়াপদা গেট এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা।

এ সময় প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া।

জানা যায়, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের কারণে বোগদাদ পরিবহননের দুটি গাড়িকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া আইদি পরিবহনের তিনটি গাড়ির মধ্যে একটিকে তিন হাজার টাকা এবং অপর দু’টিকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে একটি ট্রাককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে ছয়টি যানবাহনকে মোট ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় সাতটি যানবাহন থেকে হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। পাশাপাশি শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন যানবাহনে ‘সচেতনতামূলক স্টিকার’ লাগানো হয়।

অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, পরিবেশ সুরক্ষা ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ পি.এম


স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী মো. পারভেজ ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বন্ধুর সহায়তায়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অপর আসামি হাফিজউদ্দীন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পারভেজ ইসলামের সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। নির্যাতন ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে প্রায় নয় মাস আগে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের পর স্ত্রীর অজান্তে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ করেন পারভেজ। পরে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পারভেজ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হাফিজউদ্দীনের কাছে এসব ছবি ও ভিডিও পাঠান এবং দুপক্ষের যোগসাজশে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে তা প্রকাশ করা হয়। এমনকি হাফিজউদ্দীনকে বিয়ে করার জন্যও বাদীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী জানান, মামলার প্রধান আসামি পারভেজ ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবির ৮ শিক্ষার্থীকে হোসনে আরা হায়দার কোরাইশী ট্রাস্ট বৃত্তি প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ পি.এম


ঢাবির ৮ শিক্ষার্থীকে হোসনে আরা হায়দার কোরাইশী ট্রাস্ট বৃত্তি প্রদান

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : হোসনে আরা হায়দার কোরাইশী ট্রাস্ট বৃত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৮ শিক্ষার্থীর মাঝে প্রদান করা হয়েছে।

আজ উপাচার্যের অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে এই বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল মোজাদ্দেদ্দী আল ফেছানী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রাম থেকে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে এখানে আসে। তাঁদের অনেককেই আবাসন ও আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক।"

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, "বৃত্তির অর্থের পরিমাণের চেয়ে এর পেছনের ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মানসিকতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো সামান্য আর্থিক সহায়তাও একজন শিক্ষার্থীর কঠিন সময়ে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দাতার এই সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণে রাখার জন্য আমি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে মেধার স্বাক্ষর রাখা, ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখা এবং নিজেদের অবস্থান থেকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান।

২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—দ্বিতীয় বর্ষের মো. আশরাফুল আলম, হাফেজ উম্মে ফাতিমা, আয়েশা হক তুশিন ও মো. সাজু ইসলাম এবং তৃতীয় বর্ষের মারুফা আক্তার মুন্নি, খাদিজা খাতুন, মো. রাকিবুজ্জামান রাতুল ও মো. সাব্বির।

উল্লেখ্য, মো. আলী হায়দার কোরাইশী ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের মাধ্যমে ‘হোসনে আরা হায়দার কোরাইশি ট্রাস্ট ফান্ড' প্রতিষ্ঠা করেন।

এই ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিএসএস (সম্মান) শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের চারজন এবং তৃতীয় বর্ষের চারজনসহ মোট আটজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতিবছর এককালীন ১০ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় গরমিল, তদন্তের জন্য আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ পি.এম


আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় গরমিল, তদন্তের জন্য আবেদন

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন এবং আর্থিক তথ্যে ১৪ ধরনের অসঙ্গতি, তথ্য গোপন এবং ভুল তথ্য প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। সিরাজুল ইসলাম নামে এক ভোটার এসব অভিযোগের তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে এ আবেদনটি জমা দেন।

আবেদনে ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, ওয়াজ মাহফিল ও আদ-দ্বীন হাসপাতাল থেকে আয়ের তথ্য, নগদ অর্থ, কৃষি ও আবাসিক সম্পত্তি, স্ত্রীর সম্পদ, গাড়ি, বাড়িভাড়া, পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, নির্বাচিত প্রার্থী আমির হামজার দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নের তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন আর্থিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত নথির মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ৩০ জুন তারিখে ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা না থাকার তথ্য আয়কর রিটার্নে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই হিসাবে প্রায় ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কুষ্টিয়া শাখায় আমির হামজার একটি ব্যাংক হিসাবে (হিসাব নম্বর: ২০৫০১৩৩০২০২৬২৭৪১৭) ওই পরিমাণ অর্থ জমা ছিল। অথচ সংশ্লিষ্ট আয়কর রিটার্নে ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় ব্যাংকের নাম ও হিসাব নম্বর উল্লেখ না করার বিষয়টিও তথ্য গোপনের অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আবেদনে আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, আমির হামজা প্রতি জুমার নামাজে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা সম্মানী পান বলে তার নিজের স্বীকৃতির উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে প্রতিবার তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা সম্মানী পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, এসব আয় ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব। কিন্তু নির্বাচনী হলফনামা কিংবা আয়কর রিটার্নে এসব আয়ের কোনো উল্লেখ নেই। আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা, যা হামজা এন্টারপ্রাইজের কাপড় ও বইয়ের ব্যবসা থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নগদ অর্থের হিসাবেও বড় ধরনের পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে আবেদনে। নির্বাচনী হলফনামায় আমির হামজার হাতে নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। অন্যদিকে আয়কর রিটার্নে নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। দুই নথির মধ্যে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ টাকা।

স্ত্রীর সম্পদের তথ্য নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তার দাবি, নির্বাচনী হলফনামায় স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্ত্রীর কৃষিজমির পরিমাণ ও মূল্য নিয়েও দুই নথিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। হলফনামায় স্ত্রী তামান্না সুলতানার কৃষিজমির পরিমাণ ১২ কাঠা বা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মূল্য দুই লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে কৃষিজমির পরিমাণ ১২০ শতাংশ এবং মূল্য ১৭ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে জমির পরিমাণে প্রায় ১০০ শতাংশ এবং মূল্যে ১৫ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে।

এছাড়া দলিল নম্বর ৬৪৯৮/২০২৫-এর মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত দলিলে ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ জমি কেনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জমিটির মূল্য ছয় লাখ টাকা, যার মধ্যে স্ত্রীর অংশের মূল্য ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই জমির তথ্যও নির্বাচনী হলফনামায় প্রকাশ করা হয়নি।

কুষ্টিয়া শহরে নিজের নামে থাকা একটি আবাসিক প্লটের তথ্য গোপনের অভিযোগও রয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, রাহিনী মৌজায় ২০১৪ সালের দলিল নম্বর ২৭৭৬ মূলে আমির হামজার নামে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ জমি রয়েছে। আবেদনকারীর হিসাবে জমিটির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে এ সম্পত্তির উল্লেখ নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

বাড়িভাড়ার আয় নিয়েও দুই ধরনের তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় আমির হামজার স্ত্রীর আয় হিসেবে বাড়িভাড়া বাবদ বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। তবে আবেদনকারীর দাবি, বাড়িটি স্বামী-স্ত্রীর যৌথ মালিকানাধীন হলেও তাদের কারও আয়কর রিটার্নে বাড়িভাড়ার আয় দেখানো হয়নি। বাড়িটির বিদ্যুৎ বিল ও হোল্ডিং ট্যাক্স শুধু আমির হামজার নামে রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোটরযানের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিরাজুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়, আমির হামজার ব্যবহৃত ‘ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৯-১৭৫৭’ নম্বরের একটি গাড়ি রয়েছে, যা ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হস্তান্তর করা হয়। নির্বাচনী হলফনামায় গাড়িটির মূল্য ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও আয়কর রিটার্নে গাড়িটির তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবেও নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে নির্বাচনী ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা। এর বাইরে ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব থেকে আরো ৩৮ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ ৭২ লাখ টাকা দাঁড়ায় বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী। তার অভিযোগ, এই ব্যয় প্রার্থীর জন্য নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়সীমার চেয়ে বেশি।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%