ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ময়মনসিংহ বোর্ড, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি


ময়মনসিংহ বোর্ড, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ফলস্বরূপ, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এবং পাঠদানের মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যদি সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং এমপিও বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে ৩১৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন পাস করেছেন, যার গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষার্থী।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, দশ হাজার টাকা জরিমানা

শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এই জেলার সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। এছাড়া, নেত্রকোনার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জন, জামালপুরের চারটি প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানের আটজন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

ব্যর্থতার দিক থেকে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ‘এইচ এ ডিজিটাল কলেজ’। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬ জন অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যর্থতা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ‘এমবিশন মডেল কলেজ’-এর, যেখানে পরীক্ষা দেওয়া ১৬ জনের কেউই পাস করতে পারেননি।

ময়মনসিংহ বোর্ডের শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজ (২৬ জন), ঈশ্বরগঞ্জের কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৬ জন), হালুয়াঘাটের বাঘাইতলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৫ জন), ত্রিশালের আউলিয়া নগর কলেজ (৫ জন), নান্দাইলের অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজ (২ জন), ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং নান্দাইলের বেরীলা কে এ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন)।

নেত্রকোনার পূর্বধলার এমবিশন মডেল কলেজ (১৬ জন), জুবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ (৬ জন), খালিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৪ জন), নেত্রকোনা সদরের ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ (৪ জন), কলমাকান্দা মহিলা কলেজ (২ জন) এবং কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ (১ জন)। জামালপুরের গোয়ালচর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৭ জন), শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা আকন্দ গার্লস স্কুল (৬ জন), নলবেছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৪ জন) এবং এস এম শিক্ষা মুখলেছুর রহমান কলেজ (১ জন)। শেরপুর সদরের মনমথ দে কলেজ (৭ জন) এবং ঝিনাইগাতীর আলহাজ্ব এস এম এ ওয়ারেজ নঈম মডেল কলেজ (১ জন)।

আরও পড়ুন: ব্রহ্মপুত্রের মাঝনদীতে চলন্ত নৌকায় যমজ সন্তানের জন্ম

ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে বহু নামসর্বস্ব ও অচল প্রতিষ্ঠানের চিত্র। সবচেয়ে বেশি ফেল করা তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজের নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমের অস্তিত্ব মেলেনি। স্থানীয়দের মতে, ভাড়া করা ভবনে কিছুদিন কার্যক্রম চললেও বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনিক তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম জানিয়েছেন, কলেজে কাগজে-কলমে ১০ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে সাতজন আছেন, যাদের কেউ কলেজে আসেন না। কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা দীর্ঘ ১০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করে অবশেষে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এবার মাত্র একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। বাধ্য হয়ে গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে কলেজ শাখার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করবেন বলে জানান অধ্যক্ষ।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ জ ম রেজাউল করিম খান বলেছেন, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যেসব কলেজ শুধুমাত্র অনুমতি নিয়ে অস্তিত্বহীনভাবে চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

আরও পড়ুন: আমতলীতে ৪ হাজার ৭শ’ পিচ ইয়াবাসহ স্বামী স্ত্রী আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোয়িং ও এয়ারবাস কেনার সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন সংসদীয় কমিটিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ এম


বোয়িং ও এয়ারবাস কেনার সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন সংসদীয় কমিটিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দুই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান ও ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন উঠেছে। উড়োজাহাজগুলোর রুট, যাত্রী চাহিদা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও জানতে চেয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ প্রশ্ন তোলেন কমিটির সদস্যরা। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপির সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র জানায়, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কিনা, তা জানতে চান কমিটির সদস্য জামায়াতের এমপি কামরুল হাসান। তিনি প্রশ্ন করেন, এই ৩৫টি উড়োজাহাজ কোন কোন রুটে চলবে, এগুলোর যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ও চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কিনা এবং বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে কিনা। এছাড়া, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তিনি জানতে চান।

বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ সময় জানান, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সব উড়োজাহাজ দেশে আসতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, উড়োজাহাজ কেনার অর্থ সফট লোনের মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে এবং উড়োজাহাজ পরিচালনা থেকে অর্জিত আয় দিয়েই এর ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হয়। সূত্র জানায়, বৈঠকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। কমিটির একজন সদস্য জানতে চান, টার্মিনাল নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অর্থের অপব্যবহার হয়েছে কিনা।

বিমানবন্দরের ট্রলি-সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ট্রলির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে। বৈঠকে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও জামায়াতের এমপি কামরুল হাসান ছাড়াও অংশগ্রহণ করেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার ও আবু তালিব। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়) গিয়াস উদ্দিন রিমন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তথ্য চায় সংসদীয় কমিটি। একই দিন সংসদ ভবনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্কিত চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এ সময় কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এগুলো উপস্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, নাজমুল হুদা, এবং আবদুল হান্নান মাসউদ অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে রপ্তানি বাণিজ্যের বিদ্যমান ব্যবধান, সম্ভাবনা ও তা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ এম


নাটোরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় নাটোর জেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো পরীক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। তাদেরকে সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। শিক্ষা বিভাগ জানতে চেয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে।

শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, এবার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি এমপিও ও ১৬টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে, এমন ফলাফলে হতবাক হয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এমন ফলাফল হতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ডিসেম্বরের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবে বলে জানা গেছে।

শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নাটোর সদর উপজেলায় বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়; বাগাতিপাড়া উপজেলায় পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, টিপুরিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ; গুরুদাসপুর উপজেলায় নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস কলেজ, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য এবং বিজনেস ইনস্টিটিউট; লালপুর উপজেলার মাকড়াম উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, রাধাকান্তপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, নেংগোপাড়া আলিম মাদরাসা, রামপুর জামিরিয়া আলিম মাদরাসা; সিংড়া উপজেলার আগাপাড়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ; নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাতারভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান হলো গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কমার্স কলেজ ও নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারীপাড়া ফাজিল মাদরাসা।

নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারীপাড়া দাখিল মাদরাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, "এবার প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস না করায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। প্রতিবছরই ভালো ফলাফল করেন শিক্ষার্থীরা। এবার কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না।" তিনি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করার কথাও জানান।

গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীরা ২৩ জনই বাংলা ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে।" তিনি জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বরে অকৃতকার্যদের যে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণ করলে আশা করছেন সকলেই কৃতকার্য হবেন।

শিক্ষাবিদ সুবিধ কুমার মৈত্রের মতে, "কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা উদ্বেগজনক।" তিনি বলেন, এর পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতাই নয়, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও থাকতে পারে। তাই, শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী জানান, ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন এমন ফলাফল হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনসহ তাদের সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খোঁজ নিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জেলা থেকে উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাইযোদ্ধা চন্দন সূত্রধর, শোকের ছায়া বেরোবিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ এম


ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাইযোদ্ধা চন্দন সূত্রধর, শোকের ছায়া বেরোবিতে

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। বড় ভাই আনন্দ সূত্রধর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চন্দন সূত্রধর বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার মাথায় এখনো বুলেট রয়ে গেছে, এ তথ্য জানিয়েছেন সহপাঠী ও শিক্ষকরা। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায়। তার বাবার নাম অনীল সূত্রধর এবং মায়ের নাম সন্ধ্যা সূত্রধর।

চন্দনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার সহপাঠী আজিজুর রহমান বলেন, "ডেঙ্গুতে আমার বন্ধুকে হারাতে হবে, এটা কখনো কল্পনাও করিনি। একজন প্রাণবন্ত মানুষ এভাবে অকালে চলে যাবে, বিষয়টি মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তার চলে যাওয়ায় আমরা একজন বন্ধুকে হারিয়েছি, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো বিষয় নয়, এটি ভয়াবহ প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আর কোনো পরিবার যেন এভাবে প্রিয়জনকে না হারায়।"

জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ত্বহা হুসাইন বলেন, "খবরটি শুনে আমি মর্মাহত। হঠাৎ করে তার চলে যাওয়া যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। ছেলেটি খুবই ভালো ছিল। সে একজন জুলাইযোদ্ধাও ছিল। মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে কথা হতো।"

চন্দনের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ পরীক্ষার্থীর ২০ জনই ফেল, পাস করেছেন মাত্র ৪ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ এম


২৪ পরীক্ষার্থীর ২০ জনই ফেল, পাস করেছেন মাত্র ৪ জন

ঢাকার ধামরাইয়ের যাদবপুর ভবন মোহন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন পাস করেছেন, বাকি ২০ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে।

গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা যায়। ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসে না এবং অনেকেই ক্লাস চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকে, যা শ্রেণিকক্ষে পরিবেশকে নষ্ট করছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পাঠদানে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে আগে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ চালু থাকলেও বর্তমানে শুধুমাত্র মানবিক শাখা সক্রিয় রয়েছে। এ বছর কেবল মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা আক্তার বলেন, "এ বছর প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র চারজন পাস করেছে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই দায়ী করে বলেন, "আমাদের ধারণা ছিল শিক্ষার্থীরা আরও ভালো করবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী কেবল একটি বিষয়ে ফেল করেছে। বিশেষ করে আইসিটি বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস ও যথাযথ পাঠদান না হওয়ায় ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।"

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-মামুন জানান, "ধামরাই উপজেলায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষার সার্বিক ফলাফল সন্তোষজনক নয়। আগামীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আরও ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে কাউন্সেলিং করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%