০৫:৫৭ পি.এম
২০১৯ সালে পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনার ফলস্বরূপ, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। পাকিস্তানের একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান জানিয়েছেন, ভারতীয় বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার ‘পাক-ভারত বিজনেস কাউন্সিল’-এর চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কাসুরি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালুর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
কাসুরি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আবার শুরু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি, বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতের প্রসার ঘটবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে মেধাবীদের প্রতিশোধ: বিজ্ঞানের জয়, মাহা নীতির হার
একটি বিবৃতিতে কাসুরি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন দূরবর্তী দেশ থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ও পণ্য আনার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে, পণ্য পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
তিনি জানান, পাকিস্তানের ওষুধশিল্প ভারতের সহজলভ্য কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ভারত থেকে এসব কাঁচামাল আমদানি করতে পারলে বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় সম্ভব হতো।
দেশে তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্পেও বাড়তি খরচের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বর্তমানে বস্ত্রকলগুলোকে ব্রাজিল, মিসর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে কাসুরি জানান।
কাসুরি আরো বলেন, ভারত এসব পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হলেও পাকিস্তানকে চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, লোহা ও ইস্পাত, শাকসবজি এবং ভারী যন্ত্রপাতির মতো পণ্য দূরবর্তী দেশগুলো থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আল-সাইয়েদের খুতবার ভিডিও নিয়ে নতুন আলোচনা
তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আবার শুরু হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে এবং দ্রুত ও সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ভারতের তেল শোধনাগারগুলো পাকিস্তানের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সেখান থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করলে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে।
কাসুরির মতে, ভারতের কৃষি ও শিল্পপণ্য সহজলভ্য হলে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচ কমে যাবে। ফলে দেশটির বিভিন্ন শিল্প খাত উপকৃত হতে পারে।
দেশে তুলা চাষের জমি কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাসুরি। তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে যেসব এলাকায় তুলা চাষ হতো, সেসব এলাকার কৃষকেরা এখন আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এতে পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশে তুলার উৎপাদন বাড়াতে উন্নত কৃষিনীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
কাসুরি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন। এর ফলে বিনিয়োগ, পর্যটন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার দখলে ইউক্রেনের আজভ সাগর উপকূলে শত শত হোটেল ও রিসোর্ট
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান বেশি ভারতীয় পর্যটককে আকৃষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে যারা দেশটির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান এবং নিজেদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ও গ্রাম দেখতে আগ্রহী, তাদের জন্য পাকিস্তান হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য।
আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে কাসুরি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারতের দেওয়া আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, কঠিন সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলো কীভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারে, এটি তার একটি উদাহরণ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ নষ্ট করা উচিত নয়। অমীমাংসিত বিরোধগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কাসুরির ভাষায়, ‘পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বন্ধন রয়েছে। এই বন্ধন দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে।’
আরও পড়ুন: এবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমনের অবিশ্বাস্য জয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন