ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাইযোদ্ধা চন্দন সূত্রধর, শোকের ছায়া বেরোবিতে


ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাইযোদ্ধা চন্দন সূত্রধর, শোকের ছায়া বেরোবিতে

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। বড় ভাই আনন্দ সূত্রধর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চন্দন সূত্রধর বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার মাথায় এখনো বুলেট রয়ে গেছে, এ তথ্য জানিয়েছেন সহপাঠী ও শিক্ষকরা। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায়। তার বাবার নাম অনীল সূত্রধর এবং মায়ের নাম সন্ধ্যা সূত্রধর।

আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, জেমসের কনসার্টসহ নানা আয়োজন

চন্দনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার সহপাঠী আজিজুর রহমান বলেন, "ডেঙ্গুতে আমার বন্ধুকে হারাতে হবে, এটা কখনো কল্পনাও করিনি। একজন প্রাণবন্ত মানুষ এভাবে অকালে চলে যাবে, বিষয়টি মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তার চলে যাওয়ায় আমরা একজন বন্ধুকে হারিয়েছি, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো বিষয় নয়, এটি ভয়াবহ প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আর কোনো পরিবার যেন এভাবে প্রিয়জনকে না হারায়।"

জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ত্বহা হুসাইন বলেন, "খবরটি শুনে আমি মর্মাহত। হঠাৎ করে তার চলে যাওয়া যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। ছেলেটি খুবই ভালো ছিল। সে একজন জুলাইযোদ্ধাও ছিল। মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে কথা হতো।"

চন্দনের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ পরীক্ষার্থীর ২০ জনই ফেল, পাস করেছেন মাত্র ৪ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ এম


২৪ পরীক্ষার্থীর ২০ জনই ফেল, পাস করেছেন মাত্র ৪ জন

ঢাকার ধামরাইয়ের যাদবপুর ভবন মোহন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন পাস করেছেন, বাকি ২০ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে।

গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা যায়। ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসে না এবং অনেকেই ক্লাস চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকে, যা শ্রেণিকক্ষে পরিবেশকে নষ্ট করছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পাঠদানে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে আগে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ চালু থাকলেও বর্তমানে শুধুমাত্র মানবিক শাখা সক্রিয় রয়েছে। এ বছর কেবল মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা আক্তার বলেন, "এ বছর প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র চারজন পাস করেছে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই দায়ী করে বলেন, "আমাদের ধারণা ছিল শিক্ষার্থীরা আরও ভালো করবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী কেবল একটি বিষয়ে ফেল করেছে। বিশেষ করে আইসিটি বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস ও যথাযথ পাঠদান না হওয়ায় ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।"

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-মামুন জানান, "ধামরাই উপজেলায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষার সার্বিক ফলাফল সন্তোষজনক নয়। আগামীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আরও ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে কাউন্সেলিং করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিবন্ধীদের বন্ধু শিক্ষক আলী তানভীরের মানবিক উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ এম


প্রতিবন্ধীদের বন্ধু শিক্ষক আলী তানভীরের মানবিক উদ্যোগ

মানবিকতা পেশা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যস্ততার সীমারেখায় আবদ্ধ নয়, এর একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন চকরিয়ার তরুণ শিক্ষক আলী তানভীর। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রতিবন্ধী শিশু ও অসহায় পরিবারের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

তার উদ্যোগের ফলস্বরূপ ১১০ প্রতিবন্ধী শিশু কৃত্রিম পা, হুইলচেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ পেয়েছে। মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেকেই তাকে ভালোবেসে ডাকেন ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’ হিসেবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা আলী তানভীর বর্তমানে বান্দরবানের লামা আদর্শ গার্লস হাই স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরির চেষ্টা তার দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

করোনা মহামারিতে শুরু মানবিক পথচলা

২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে আলী তানভীর নিজ এলাকা চকরিয়ায় মানবিক কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথমে তিনি এলাকার অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুদের খোঁজখবর নিতে শুরু করেন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করতেন। সময়ের সাথে সাথে তার উদ্যোগের পরিধি বৃদ্ধি পায়, এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে যুক্ত হন।

এখন পর্যন্ত তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিছু পরিবারকে তিনি আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন, আবার কিছু পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং চিকিৎসাসেবা পেতে সহযোগিতা করেছেন। তার উদ্যোগের মাধ্যমে ১১০ প্রতিবন্ধী শিশু বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ পেয়েছে, যেমন কৃত্রিম পা ও হুইলচেয়ার।

ফেনীর বন্যায় সহায়ক উপকরণ হারিয়ে ফেলা ১০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্যও নতুন করে প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করেন আলী তানভীর। এছাড়া সীতাকুণ্ডের ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের সময় লাশ বহনের কাজে সহযোগিতা করেন তিনি। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা তার মানবিক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

রূপসী ও তামান্নাদের স্বপ্নপূরণের চেষ্টা

আলী তানভীরের সহযোগিতায় নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে রূপসী ও তামান্নার মতো শিশুরা। ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের গোড়ালি হারায় রূপসী। দুর্ঘটনার পর তার চিকিৎসা ও পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে রূপসীর পাশে দাঁড়ান আলী তানভীর। চিকিৎসার পাশাপাশি তার শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতেও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি।

রূপসীর মা জানান, মেয়ের চিকিৎসা ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে তানভীর সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে রূপসী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

অন্যদিকে, জন্মগতভাবে দুই হাত ও এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া তামান্নার জন্য ২০২২ সালে কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করেন আলী তানভীর। তবে বিদ্যালয় দূরে হওয়া এবং যাতায়াত ও ওঠানামার অসুবিধার কারণে তামান্নার পক্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করা সম্ভব হয়নি।

তামান্নার বাস্তবতা তুলে ধরে আলী তানভীরের উদ্যোগের পাশাপাশি উঠে এসেছে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা। চিকিৎসা কিংবা সহায়ক উপকরণ দিলেই তাদের সব সমস্যা সমাধান হয় না। প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহজ প্রবেশাধিকার, নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ। এসব সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন শুরুতেই বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতার হাত

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই মানবিক উদ্যোগ? জানতে চাইলে আলী তানভীর বলেন, ‘প্রথমে প্রতিবন্ধী শিশুদের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিই। যেসব পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ, তাদের স্থানীয় অর্থোপেডিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ দেওয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি জানান, অনেক পরিবারের পক্ষে সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির ছবি ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। তার ফেসবুক বন্ধুরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সেই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণের ব্যবস্থা করা হয়।

এভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা কাজে লাগিয়ে অসহায় পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তার এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সহায়তাবঞ্চিত পরিবারগুলো উপকৃত হচ্ছে, অন্যদিকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মানবিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আলী তানভীরের মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা সাথীর মতো অনেকেই। ২০২০ সাল থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে তানভীরের সঙ্গে পরিচয় সাথীর। সরাসরি সব সময় অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও তানভীরের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।

সাথী বলেন, ব্যস্ততার কারণে সরাসরি যেতে না পারলেও আমি তানভীরের মাধ্যমে সমাজের এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। প্রতিবন্ধীদের প্রতি তার ভালোবাসা দেখে আমি তাকে ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’ বলে ডাকি।

সাথীর দেওয়া এই নাম যেন আলী তানভীরের মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিচয় হয়ে উঠেছে। তার উদ্যোগে শুধু একজন ব্যক্তি নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত অনেক মানুষও অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ব্যক্তিগত সামর্থ্যের সঙ্গে অন্যদের সহযোগিতাকে যুক্ত করে তিনি গড়ে তুলেছেন মানবিক সহমর্মিতার একটি পরিসর।

সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন অধিকার নিশ্চিত করা

প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা এখনো সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর্থিক অসচ্ছলতা, প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণের অভাব, চিকিৎসাসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা অনেক শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আলী তানভীরের মতো মানুষের উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।

শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য ও মানুষের সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে আলী তানভীর যে পথচলা শুরু করেছেন, তা কেবল আর্থিক সহায়তা কিংবা প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার কর্মকাণ্ড প্রতিবন্ধী শিশুদের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও তৈরি করছে।

রূপসীর পড়াশোনা এগিয়ে চলা যেমন আশার গল্প, তেমনি তামান্নার বিদ্যালয়ে যেতে না পারার বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন সমান সুযোগ ও উপযোগী পরিবেশ।

প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কেমন ভবিষ্যৎ দেখতে চান আলী তানভীর?

প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে আলী তানভীর বলেন, আমি এমন একটি সমাজ দেখতে চাই, যেখানে প্রতিবন্ধী শিশুরা নিজেদের অসহায় মনে করবে না। তাদের পরিবারকে সন্তানের চিকিৎসা, পড়াশোনা কিংবা চলাচলের ব্যবস্থা করতে গিয়ে অসহনীয় কষ্টের মুখোমুখি হতে হবে না। প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশু যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সহায়ক উপকরণ ও শিক্ষার সুযোগ পায় এবং নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যেতে পারে। শুধু সহানুভূতি দেখানো নয়, তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। আমি চাই, আমার এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও মানুষ অনুপ্রাণিত হোক এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসুক।

ব্যক্তিগত উদ্যোগ, মানুষের ভালোবাসা আর সম্মিলিত সহযোগিতাকে পুঁজি করে আলী তানভীরের এই পথচলা প্রমাণ করে, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন আন্তরিক ইচ্ছা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা।

পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ১১০ শিশুর চলার পথ সহজ করতে ভূমিকা রাখা এই তরুণ শিক্ষক তাই অনেকের কাছে কেবল একজন সহায়তাকারী নন; তিনি ভরসা, সহমর্মিতা ও নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। ভালোবেসে যাকে তারা ডাকেন ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুরে কাকলী রানী দাসের তিন সন্তানের জন্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ এম


সৈয়দপুরে কাকলী রানী দাসের তিন সন্তানের জন্ম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাকলী রানী দাস নামের এক গৃহবধূ একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকদের মধ্যে দুটি কন্যাসন্তান এবং একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর মা ও তিন নবজাতক সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার দুপুরে শহরের বাঙ্গালীপুর মোড়ে অবস্থিত পদ্মা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে এই শিশুগুলোর জন্ম হয়। কাকলী রানীর স্বামী বিদ্যুৎ চন্দ্র দাস (২৮) পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ডাঙ্গারহাট গ্রামের চক সন্ন্যাসী শাহাপাড়ায়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই কাকলী রানী উক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নাহিদ আক্তার বৃষ্টির তত্ত্বাবধানে ছিলেন। রোববার দুপুরে তার পরিচালনায় সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিন নবজাতকের জন্ম হয়।

একসঙ্গে তিন সন্তান লাভের খবরে ওই পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। চিকিৎসক ডা. নাহিদ আক্তার বৃষ্টি জানান, অস্ত্রোপচারের পর মা ও তিন নবজাতক আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সাংবাদিক আলিফ হত্যা

দুই আসামির জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ এম


দুই আসামির জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তাজুল ইসলাম। এই ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন পাঁচজন, যার মধ্যে তাজুল নিজেই আলিফকে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকালে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। বিকাল পৌনে ৪টায় শুরু হওয়া জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ রোববার রাতে বলেন, দুই আসামি জানিয়েছেন যে, তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিক আলিফের পূর্বে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের ফলস্বরূপ তাকে হত্যা করা হয়। আসামিরা তাজুলের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতেন এবং সীমান্ত এলাকায় তাদের ব্যবসা ছিল। আলিফ তাদের ব্যবসায় বাধা দিতেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতেন, যার কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

ওসি আরও জানান, দুই আসামির বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী পাঁচজন ছিলেন। তাজুল আলিফকে গুলি করার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লোকজন ঘটনাস্থলে আসতে শুরু করলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

জবানবন্দিতে তাজুল ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম এসেছে বলে জানান ওসি। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের স্বার্থেই আপাতত তাদের নাম গোপন রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, তাজুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের সঙ্গেও তার বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এলাকায় নিজ নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও পরিচালনা করেন তিনি।

সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) এর আগে জানিয়েছিলেন, আলিফ তাজুলের চোরাচালান ও অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য পেয়ে তা র‍্যাবকে দিয়েছিলেন। প্রায় চার বছর আগে র‍্যাব (বর্তমানে এসআরবি) তাজুলকে গ্রেফতার করেছিল।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, আলিফ তাজুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তাজুলের বাড়িঘরের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাজুলের ধারণা ছিল, আলিফ তার কাছে থাকা অস্ত্রের তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এর আগেও আলিফের ওপর হামলা হয়েছিল।

গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন আলিফের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

গত শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে ইমরান ও সাব্বিরকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেফতার করা হয়।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারব। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিয়েছেন আলিফের স্ত্রী

এদিকে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি কাজে যোগ দেন। দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকছেন আনন্দিতা।

গারো সম্প্রদায়ের এই নারী আলিফের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তার নাম রাখা হয় খাদিজা আক্তার।

আনন্দিতা সাংমা বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর একজন নারী আমাকে ফোন করে সহযোগিতার কথা বলেছেন। আমার ব্যাংক হিসাবের নম্বর চেয়েছেন। এরপর আরও অনেকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। চাকরির ব্যবস্থা হওয়ায় আপাতত অন্য কারও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই, তাজুল ইসলাম, শুটার শামীমসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্বামীকে আর কখনো ফিরে পাব না; কিন্তু যারা তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, আমার দুই সন্তানকে এতিম করেছে, আমাকে স্বামীহারা করেছে, তাদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%