শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০৪ এম
গাজীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়ার ফলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা দুপুরের পর কাজে যোগ না দিয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবি জানান। পরে জরুন এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
একপর্যায়ে, কোনাবাড়ী বিসিক শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। এরপর বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অধিকাংশ কারখানা কর্তৃপক্ষ এ সময় ছুটি ঘোষণা করে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, "কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও রাতযাপনের সুযোগ চালুর কথা থাকলেও, নির্ধারিত দিনে জাহাজ চলাচল শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ‘প্রয়োজনীয় অনুমোদন জটিলতা’ কারণে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ার কারণে।
তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে, প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী ৪ অথবা ৫ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভার পরেই এই তথ্যগুলো সামনে আসে।
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত ২৫ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও রাতযাপনের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে তিনটি জাহাজের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। তবে জাহাজ চালুর জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি আবশ্যক। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব।
হোসাইন ইসলাম বাহাদুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ১ নভেম্বর থেকে ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের জন্য অনলাইন সফটওয়্যার চালুর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। বর্তমানে তিনটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে এবং আরও সাতটি জাহাজ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে সার্ভিস শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে জাহাজ চলাচলের জেটি ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার’ (টুয়াক)-এর সাধারণ সম্পাদক আকতার নুর। তিনি বলেন, জাহাজ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত ঘাটের পন্টুনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেখানে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের সিদ্ধান্ত হয়। ২৫ অক্টোবরের প্রাথমিক নির্দেশনায় শুধু নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার নিয়ম থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজ মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং পর্যটকদের জন্য পূর্বে নির্ধারিত ১০০ টাকার পরিবেশ সংরক্ষণ ফিও বাতিল করা হয়েছে। তবে আগের নিয়মানুযায়ী কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কারাগারে আটক ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে প্রাইভেট মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদ, গাজীপুর এবং যুব জমিয়ত বাংলাদেশ, গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে এটি আয়োজন করা হয়।
সূত্র থেকে জানা যায়, যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন গণপিটুনির শিকার হন। পরে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর প্রাইভেট মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল রশীদ আকন্দ, টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতের আমির আনোয়ার হোসেন, মুফতি আমিরুল ইসলাম, আব্দুল করীম নাটোরী, মাওলানা কেরামত আলী, আলমাস হোসেন ও সেলিম হোসাইন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁরা একইসঙ্গে শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা। এ সময় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রধান ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম।
এই তথ্যটি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রোসাটমের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। রোসাটম হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, রূপপুর প্ল্যান্ট সাইটে পৌঁছানোর পর জ্বালানি কন্টেইনারগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল সংরক্ষণাগারে স্থানান্তর করা হয়। প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে সব জ্বালানি অ্যাসেম্বলিকে বাধ্যতামূলক ভিজুয়াল এবং ইন্সট্রুমেন্টাল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশ, জেনারেল কনট্রাক্টর এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কমিশনের মাধ্যমে এই পরিদর্শন পরিচালিত হবে, যা পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৬ সালে রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন ইউনিট-১-এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানির প্রারম্ভিক লোডিং সম্পন্ন করবে।
এরপর রিঅ্যাক্টরটি এ মাসেই তার সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি স্তরে পৌঁছাবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ এবং পরবর্তী পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক অপারেশনের আগে ইউনিটটিকে পাওয়ার অ্যাসেনশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাভ করতে হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেখানে রাশিয়ার নকশা করা দুটি জেনারেশন ৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এই প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার এবং প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্ট্রোকের ঝুঁকি চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে স্ক্রিনিং ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উল্লেখ করেন, রোগীর চাপ কমানোর জন্য শুধুমাত্র নতুন হাসপাতাল নির্মাণ যথেষ্ট নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং ওয়ার্কারদের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মীরা বছরে তিন থেকে চারবার প্রতিটি পরিবারে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন। এর ফলে স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে পরিচিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রোগীর স্বজনেরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না কোন হাসপাতালে গেলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাবে। এই সমস্যার সমাধানে জেলা পর্যায়ে কল সেন্টার ও কেন্দ্রীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকরা রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে তাকে উপযুক্ত হাসপাতালে নিতে সহায়তা করবেন।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, স্ট্রোক বিশ্বব্যাপী মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, ধূমপান, স্থূলতা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের একপাশ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা উচিত।
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের আয়োজনে সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সচিব অধ্যাপক ডা. ফিরোজ কাদের এবং বাডাসের মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।
এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. একরামুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরী, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইসড (সিআরপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর এবং অনলাইনে যুক্ত ছিলেন স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আইরিশ গ্রানওয়াল্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ