শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ভারতীয় সমর্থিত গোষ্ঠী ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের হামলার চেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনী নস্যাৎ করেছে। পাকিস্তানি বাহিনী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর পূর্বেই পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। শুক্রবার এ তথ্য জানায় জিও নিউজ, যা নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খারান জেলার আলবাত এলাকায় অবস্থিত একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা ড্রোনগুলো পাঠায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
গত মাসে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ড্রোনও পাকিস্তানি বাহিনী ভূপাতিত করেছিল। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সময়মতো ড্রোনগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করে সেগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তজুড়ে মোতায়েন দেশটির বিমানবাহিনী পরিচালিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সচল রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
সূত্র: জিও নিউজ
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালিয়ান ফুটবলে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে এসি মিলান ও ইন্টার মিলান। নতুন স্টেডিয়ামের নাম ‘জেনেরালি স্টেডিয়াম’ রাখা হয়েছে, যা দুই ক্লাবের যৌথ ব্যবহারের জন্য নির্মিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে কিংবদন্তি সান সিরোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে মিলানের দুই জায়ান্ট।
ইতালির ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর মিলানের কাস্তেল্লো স্ফোরজেস্কোতে একটি অনুষ্ঠানে নতুন স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণা করা হয়। স্টেডিয়ামটিতে একসঙ্গে ৭১ হাজার ৫০০ দর্শক খেলা উপভোগ করতে পারবেন। নকশা হবে ডিম্বাকৃতি ও বাটির মতো, যেখানে থাকবে দুটি স্তরের গ্যালারি। মাঠের কাছাকাছি দর্শকদের নিয়ে আসা নকশার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
নতুন স্টেডিয়ামের অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দুই গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারি। এই অংশের ঢাল প্রায় ৩৭ ডিগ্রি হবে, যা জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিখ্যাত ‘ইয়েলো ওয়াল’-এর আদলে তৈরি করা হবে। খাড়া গ্যালারির কারণে দর্শকদের মাঠের আরও কাছে থাকার অনুভূতি সৃষ্টি হবে এবং ম্যাচের সময় আরও তীব্র পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্টেডিয়ামের নকশার দায়িত্বে রয়েছে ফস্টার + পার্টনার্স ও ম্যানিকা। শুধু ফুটবল মাঠ নয়, পুরো এলাকা আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। স্টেডিয়ামের আশপাশে বাণিজ্যিক স্থাপনা, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে এবং ২০৩১-৩২ মৌসুমে নতুন স্টেডিয়ামটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। ইউরো ২০৩২-এর আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যও রয়েছে মিলান ও ইন্টারের। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক জিউসেপ্পে মেয়াজ্জা স্টেডিয়ামের আংশিক ধ্বংসের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ইতালিয়ান ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক ভেন্যু সান সিরোর পরিচিত অধ্যায় ধীরে ধীরে শেষের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুলসুম বেগম পরিবারের কাছে ফিরতে চান। বর্তমানে তিনি নিজের ঠিকানা হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। স্বামী ও সন্তানদের খুঁজছেন তিনি। কুলসুম বেগমের স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় দিন-রাত অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হচ্ছে তাকে। তিনি যে যা পাচ্ছেন, তাই খাচ্ছেন। তার এই অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাশে দাঁড়াই তার জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।
সংগঠনটি কুলসুম বেগমের পরিবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। একইসাথে, তার পরিবার খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে কুলসুম বেগম পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে অবস্থান করছেন। পরিবার হারা এই বৃদ্ধার বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। তার স্বামীর নাম মোক্তার সিকদার (কুদ্দুস)। কুলসুম বেগম চার সন্তানের জননী। তার ছেলের নাম ইব্রাহিম, বড় মেয়ের নাম সুফিয়া, মেজ মেয়ের নাম ফিরোজা, আর ছোট মেয়ের নাম পারুল।
তিনি আরও কয়েকজন স্বজনের নাম উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে তার দেবর জব্বার, হামিদ ও সত্তার অন্তর্ভুক্ত। কুলসুম বেগম জানিয়েছেন, তার স্বামী বাড়িতে ধান চালের ব্যবসা করতেন। যদিও তিনি সবকিছু বলতে পারছেন, তবে তার থানা, জেলা, ইউনিয়ন কিংবা গ্রামের নাম বলতে পারছেন না। তিনি বারবার একটি নাম উচ্চারণ করছেন, সেটি হলো ঝিকরগাছা। কুলসুম বেগমের মুখে একটাই কথা, "আমি বাড়ি ফিরতে চাই।" তাই, পরিবার হারা অসহায় কুলসুম বেগমকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা কামনা করছে পাশে দাঁড়াই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যদি কেউ তার পরিবারের সন্ধান জানেন অথবা তাকে চিনে থাকেন, তবে ০১৭১০৭৮৩২৬৩ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যোগাযোগ : নয়নাভিরাম গাইন (নয়ন) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি পাশে দাঁড়াই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, নীলগঞ্জ, কলাপাড়া, পটুয়াখালী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এই কর্মসূচির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১০ কিলোমিটার। এতে ১৯ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশগ্রহণ করবেন। আয়োজকেরা আশা করছেন, লংমার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব তথ্য তুলে ধরেন। আগামীকালের লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে তৃতীয় দফায় এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। আগের দুটি লংমার্চের তুলনায় এবারের কর্মসূচি সবচেয়ে দীর্ঘ।
তিনি আরও বলেন, লংমার্চের সফলতার জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
সাত দফা দাবির প্রথমটি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের গণরায় অস্বীকার করে রাজনৈতিক সংকট আরো গভীর করছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, অথচ অন্যটির ফলাফল অস্বীকার করা হচ্ছে। এটি দ্বিচারিতা ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
তিনি বলেন, সরকার আন্তরিক হলে আগামী ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ওই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকে এখনো দেশে-বিদেশে চিকিৎসাধীন। জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, সার ও জ্বালানি সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং নতুন করে গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারকে অবিলম্বে এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে। এমনকি সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জেলা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ, ডিলারশিপ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। হাটবাজার, ঘাট, বালুমহাল, পরিবহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজির ধরন বদলায়নি, শুধু চাঁদাবাজদের পরিচয় ও দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে।
লংমার্চে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ মোট ১৯ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কর্মসূচি সফল করতে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
লংমার্চের কারণে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে স্বীকার করেন জামায়াতের এই নেতা। এ জন্য সাধারণ মানুষ, পথচারী, পরিবহনশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে তাঁরা মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করবেন।
লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য, সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, স্লোগান কিংবা প্রতিপক্ষকে আঘাত করে এমন আচরণ করা যাবে না। পথে নতুন কোনো জেলা থেকে গাড়ি বহরে যুক্ত হলে সেগুলো বহরের একেবারে শেষ প্রান্তে যুক্ত করতে হবে।
নিরাপত্তা, চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি। দীর্ঘ যাত্রার জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী সঙ্গে রাখতে হবে। প্রত্যেক গাড়ির টোলের টাকাও নিজ দায়িত্বে প্রস্তুত রাখতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর সকাল ৮টায় ছয় শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। পথে আরো গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরের সংখ্যা দেড় হাজারে পৌঁছাতে পারে।
লংমার্চের পথ হবে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটের ফকিরহাট, রূপসা সেতু হয়ে খুলনা। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে বহর। সেখানে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন লংমার্চের নেতাকর্মীরা।
পথে ছয়টি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল নয়টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর বেলা ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে এবং বেলা ২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা হবে। বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড়ে এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।
শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার লংমার্চ সফল করতে দেশবাসী, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিজের কথার সংশোধনও করেছেন।
তিনি জানান, যে বক্তব্যটি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, সেখানে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
আজ শুক্রবার, তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে বলেন, "সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া আমার বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি শব্দের সংশোধন ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে চাই।" তিনি উল্লেখ করেন, সেদিনের অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, "সমাজে তারা অনেকেই অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন।" এসব বাধা অতিক্রম করে তাদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শব্দ সংশোধন করে বলেন, "বক্তব্যের সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এখানে আমার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।"
ফেসবুক পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, "দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে।" সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ এবং তাদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ