০১:৫৪ পি.এম
এক ইউপি সদস্য ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করেছেন। বয়স, সংসার কিংবা জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব— কোনো কিছুই তাকে শিক্ষার পথে বাধা দিতে পারেনি। তার অদম্য শেখার ইচ্ছাই তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া ইউপি সদস্যের নাম আমিনুল ইসলাম। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে। তিনি মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকের কাছে তিনি নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।
আমিনুল ইসলাম ১৯৯৯ সালে মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর জীবনের প্রয়োজনীয়তার কারণে দীর্ঘ সময় পড়াশোনার সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংসার ও কর্মজীবনের ব্যস্ততায় আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে আসা হয়নি।
আরও পড়ুন: জাল নিবন্ধনের অভিযোগে ৪ মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
তবে, তার মনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটি বেঁচে ছিল। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। সেই উপলব্ধি থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল এলাকার সিটি ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর শুরু হয় নতুন করে শিক্ষাজীবনের পথচলা।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৯ সালে এসএসসি পাসের পর জীবন ও জীবিকার তাগিদে আর শিক্ষাজীবনে ফেরা হয়নি। গত নির্বাচনে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষার অভাবের বিষয়টি অনুধাবন করি। তখন নিজেকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ইচ্ছা জাগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখার কোনো বয়স নেই। সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে মানুষের সেবা করে রাতে বই নিয়ে পড়তে বসতাম। নিয়মিত চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
তিনি জানান, সুযোগ পেলে আগামীতে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করবেন।
আরও পড়ুন: বাকৃবিতে কনসার্ট, হলগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সড়ক সংস্কারের দাবি ছাত্রদলের
আমিনুল ইসলামের এই সাফল্যে গর্বিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘এটি শুধু আমিনুল ইসলামের অর্জন নয়, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের জন্যও গর্বের।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঞা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ। একজন মানুষ এই বয়সে এসে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল করা বর্তমান সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত।’
এমই
আরও পড়ুন: রাকসুর কার্যক্রমকে বিধিবহির্ভূত বলল প্রশাসন, জিএস আম্মারের প্রতিবাদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন