০৫:১৬ পি.এম
প্রায় এক যুগ ধরে জানালা এবং দরজা ছাড়া বিদ্যুৎহীন অন্ধকার ঘরে এক বাহ্যিক অযত্নের মধ্যে শিকলবন্দি হয়ে আছেন নূরী খাতুন (৫৫)। অনাহারে ও অর্ধাহারে তার দিন কাটছে। এটা যেন দেখার কেউ নেই।
এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার তেথুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামে। নূরী খাতুন ওই গ্রামের মৃত লবা প্রামানিকের মেয়ে।
তিনি প্রায় এক যুগ ধরে নিজ ঘরে বন্দি থেকে জীবন অতিবাহিত করছেন। তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন যে, প্রায় ৪০ বছর ধরে ডাক্তার, কবিরাজ এমনকি মানসিক হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন না আসায় প্রায় এক যুগ ধরে শিকলবন্দি করে তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে মাদক সেবনে নিষেধ করায় নারীকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
রোববার (৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নূরী খাতুনকে রাখা হয়েছে বাড়ির পেছনের একটি নির্জন ঘরে। এই ঘরের কোনো জানালা, দরজা ও আলোর ব্যবস্থা নেই, ফলে দিনেও অন্ধকারে থাকতে হয়। অবহেলা এবং অনাহারে কাটছে তার দিন। প্রকৃতির ডাক এলে ঘরের মেঝেতে কাজ সারেন। দুরগন্ধে ঘরে প্রবেশ করা দায়- এ যেন মানবিকতার চরম বিপর্যয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অসহায়ত্ব বা অন্য কোনো অজুহাতে আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও, এলাকাবাসীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
স্থানীয়দের দাবি, নূরী খাতুনের প্রতি তার পরিবার দীর্ঘকাল ধরে অত্যাধিক অমানবিক ও নির্মম আচরণ করে আসছে। একজন অসুস্থ ও মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা এবং চিকিৎসার পরিবর্তে শিকলবন্দি রাখার ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, বিষয়টি অমানবিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, র্যালি ও পুরস্কার বিতরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন