বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ এম
চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজে সর্বোচ্চ রপ্তানি কনটেইনার তোলার নতুন রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে। গতকাল বুধবার, মায়েরস্ক বিনটুলু জাহাজে ১ হাজার ৭৮৪ টিইইউএস রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১১ নম্বর জেটি থেকে এই জাহাজীকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে একটি জাহাজে সর্বোচ্চ রপ্তানি কনটেইনার জাহাজীকরণের নতুন রেকর্ড।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফারেত হামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, জাহাজটিতে ১৪৭ টিইইউএস খালি কনটেইনারও ছিল। সব মিলিয়ে, জাহাজটিতে মোট ১ হাজার ৯৩১ টিইইউএস কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজীকরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ১৮ জুন রপ্তানি পণ্যবাহী লোড কনটেইনার জাহাজীকরণের রেকর্ড ছিল ১ হাজার ৪৩৯ টিইইউএস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের (ইউএনএএমএ) দুই কর্মী আটক হয়েছে। মঙ্গলবার সংস্থাটি জানায় যে, তাদের সঙ্গে গত দুই দিন ধরে জাতিসংঘের কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি। এ তথ্যটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছে।
ইউএনএএমএ এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৯ আগস্ট রোববার, পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স’-এর কর্মকর্তারা জাতিসংঘের দুই আফগান পুরুষ কর্মীকে আটক করেন।
এই বিষয়ে আফগান সরকার এএফপির কাছে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দপ্তর আটক ব্যক্তিদের বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি এবং তাদের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ ও এর কর্মকর্তাদের বিশেষ মানবাধিকার ও দায়মুক্তির বিষয়গুলো মেনে চলতে আমরা কার্যত কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকীর কিছু দিন আগে এই আটকের ঘটনা ঘটে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসে।
স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আফগানিস্তানজুড়ে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা কাজ করছে। চলতি সপ্তাহে ইউএনএএমএ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে দেশটির কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা সংস্থার বলপ্রয়োগ, গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত বিষয় স্পষ্ট করার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে তালেবান কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তান শাসন করছে এবং তারা ইসলামী আইনের কঠোর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করে আসছে। আফগান নারীদের জাতিসংঘের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি জাতিসংঘের নারী কর্মীরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।
গত জুনে, হেরাত প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছে প্রায় ২০ জন ত্রাণকর্মীকে আফগানিস্তানের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ আটক করেছিল। তাদের দাড়ি যথেষ্ট লম্বা না হওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়।
একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে এএফপির জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘের অংশীদার বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরাও ছিলেন, কিন্তু পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। জুনের শুরুতে তালেবান সরকারের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ কয়েক ডজন নারীকে আটক করেছিল। সরকারি পোশাকবিধি লঙ্ঘনের কারণে তাদের শরীর পুরোপুরি ঢেকে রাখার জন্য চাদর বা বোরকা পরিধান না করার অভিযোগে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ)-এর একজন হাসপাতালকর্মীও ছিলেন, যিনি ওই আটকের তীব্র নিন্দা জানান। এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিরল এক বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করা হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত দুজন নিহত হয়।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে আফগানিস্তান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটি এখন নানা সংকটের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও পাকিস্তান থেকে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের দেশে ফিরে আসার বিষয়টিও অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচনের তফসিল অবিলম্বে ঘোষণার জন্য চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এ দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি। শাখা সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা. মুহিউদ্দিন খানের নেতৃত্বে শিবিরের নেতাকর্মীরা স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে ভোটের তফসিল দ্রুত ঘোষণা, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী নির্বাচন-রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান হয়।
শিবিরের নেতারা উল্লেখ করেন, বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা সময়সূচি জানানো হয়নি। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তাই দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার দাবি উত্থাপন করেছেন তারা।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ ও নেতৃত্ব বিকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডাকসু শুধুমাত্র ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্র নয় বরং শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং সার্বিক কল্যাণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ছাত্রশিবিরের দাবি, ২০২৫ সালে ডাকসু পুনর্গঠনের পর শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক সেমিনার আয়োজন, আন্তর্জাতিক জার্নাল ও ই-রিসোর্সে প্রবেশাধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম, পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন, মেডিকেল সেবার সম্প্রসারণ, হলের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার মতো উদ্যোগ। সংগঠনটির মতে, এসব কার্যক্রম একটি সক্রিয় ডাকসুর ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণ।
স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়ে মুহিউদ্দিন খান বলেন, ডাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বাভাবিক ও চিরাচরিত প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ডাকসু কবে হবে, কীভাবে হবে এবং এর বাজেট কোথায়’- এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মুহিউদ্দিন খান আরো বলেন, পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো ইউজিসিকে চিঠি পাঠানো হয়নি এবং ডাকসুর জন্য বাজেটও বরাদ্দ করা হয়নি। তাই দ্রুত বাজেট ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা প্রয়োজন।
অতীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তিগুলো শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশের সুযোগ সীমিত করতে ডাকসুকে অকার্যকর রাখার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের স্পষ্ট সময়সূচি ও রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক।’ দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার করার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ‘নব্বইয়ের হাওয়ার পূর্বাভাস’ তারা লক্ষ্য করেন এবং ডাকসুকে আগের মতো অকার্যকর বা বন্ধ করে দেওয়ার যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তবে তা তারা মেনে নেবেন না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে ডাকসুর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, শাহবাগ থানায় হামলাসহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন হামলার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়েও কথা বলেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, এসব ঘটনার বিচার দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব হবে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়েছে, আগামী রবি ও সোমবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলে তা প্রকাশের দাবিতে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সার সংকট নিরসন এবং ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ (সংশোধিত)’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষকের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় কৃষক শক্তি আহ্বান জানিয়ে এসেছে।
বুধবার, এক সংগঠনের আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিস এক যৌথ বিবৃতিতে সার সংকট নিরসনে ৮ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
বিজ্ঞাপন
কৃষক শক্তির প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—অভিযোগ কেন্দ্র: কৃষকের অভিযোগ জানানোর জন্য সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা চালু করতে হবে; কঠোর তদারকি ও শাস্তি: নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকের প্রতি যেকোনো হয়রানির বিরুদ্ধে নীতিমালায় কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; ডিলারশিপ বাতিল: ডিলার কর্তৃক সংঘটিত অনিয়ম প্রমাণিত হলে অবিলম্বে ডিলারশিপ বাতিলের বিধান নিশ্চিত করতে হবে; সাব-ডিলার নিয়োগে কৃষকদের অগ্রাধিকার: সাব-ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহী কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
সংগঠনটি আরও প্রস্তাব দিয়েছে—অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি বন্ধ: ডিএপি সারের সরকারি মূল্য ১০৫০ টাকা হলেও বিভিন্ন এলাকায় ১৭০০ টাকা থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আমন মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকটের শঙ্কা: ডিলারশিপ পুনর্বণ্টনকে কেন্দ্র সারের বাজারে অরাজকতার আশঙ্কা করছে জাতীয় কৃষক শক্তি। যা আমন মৌসুম মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ডিলারশিপ পুনর্বণ্টন যেন আসন্ন আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য সরকারকে আহ্বান করছি।
কৃষক শক্তির প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—জৈব সারে প্রণোদনা: রাসায়নিক সারের বেশিরভাগ আমদানি করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে বেড়ে যায়। সেইসাথে বৈদেশিক মুদ্রাও ব্যয় করতে হয় এর পিছনে। আমরা যদি রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমাতে পারি জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধি করার মাধ্যমে, তাহলে কৃষি উৎপাদন খরচ কমবে। সেইসাথে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ও কমবে। তাই জৈবসার ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ খাতে কৃষককে প্রণোদনা প্রদানের আহ্বান করছি। কৃষক ভর্তুকি বহাল: দেশি ও আন্তর্জাতিক নানা মহল কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভর্তুকি হ্রাস করার জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করছে বলে জানা যাচ্ছে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, কৃষকের উৎপাদন খরচ ও খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো মহলের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার ভর্তুকি যেন বহাল রাখা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে, নির্ধারিত মূল্যে ও সহজলভ্যভাবে সার পৌঁছে দেওয়া কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম পূর্বশর্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ সংশোধন করেছে বর্তমান সরকার।
নতুন ব্যবস্থায় একই পরিবারের একাধিক ডিলারশিপের সুযোগ রহিত করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ডিলার ইউনিট পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ দুটি সিদ্ধান্তকে জাতীয় কৃষক শক্তি সাধুবাদ জানাচ্ছে। তবে সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।
সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা বাতিল করা হলে ডিলারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠবে এবং কৃষকরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বেন। এই সিন্ডিকেট সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে কৃষককে বাধ্য করার সুযোগ পাবে, যার ফলে সারের বাজারের সুস্থ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাবে।
জাতীয় কৃষক শক্তি মনে করে, যথাযথ স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে পুরনো মধ্যস্বত্বভোগী কাঠামোর পরিবর্তে নতুন ডিলার সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার আশঙ্কা থেকে যায়।
রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থনৈতিক ক্ষমতা বা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ডিলারশিপ কেন্দ্রীভূত হলে একটি ইউনিয়ন/পৌরসভার তিনজন ডিলার মিলে একটি স্থানীয় সিন্ডিকেটে পরিণত হতে পারেন। তাই ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় সুপারিশ নয়; যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতাকেই একমাত্র ভিত্তি করতে হবে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সারের সংকট ও সরবরাহে ঘাটতির যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও জাতীয় কৃষক শক্তি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সারের সংকট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার দ্রুত সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থার তদারকি এবং কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি বন্ধে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সারের বরাদ্দ হতে হবে একটি ওয়ার্ডের চলমান ফসলের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের কৃষক সেই ওয়ার্ডের ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার গ্রহণ করবেন।
যেহেতু স্মার্ট কৃষি কার্ডে কৃষকের জমির পরিমাণ ও সারের চাহিদা ইনপুট দেওয়া হচ্ছে, সেহেতু সার সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে একে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করতে হবে। নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেশের যেকোনো ডিলারের কাছে কী পরিমাণ সার সরবরাহ করা হয়েছে, কতটুকু মজুত আছে এবং সেখান থেকে কোন কৃষক কী পরিমাণ সার কিনছেন—তা যেন সবার কাছে দৃশ্যমান হয়। এটি নিশ্চিত করা গেলে কোনো ডিলার সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে পারবেন না।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে সার বিক্রি করে আসা বিপুলসংখ্যক খুচরা বিক্রেতার জীবিকার বিষয়টিও সরকারকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। যোগ্য পুরনো খুচরা বিক্রেতাদের নতুন ব্যবস্থায় অনুমোদিত বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যারা এ ব্যবস্থায় থাকতে পারবেন না, তাদের বিকল্প জীবিকার জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের বিদ্যমান দোকান ও অবকাঠামোকে ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগও সৃষ্টি করা যেতে পারে।
জাতীয় কৃষক শক্তি মনে করে, সার কোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের সম্পদ নয়; এটি কৃষকের উৎপাদনের অপরিহার্য উপকরণ। তাই নতুন নীতিমালার বাস্তবায়ন হতে হবে কৃষককেন্দ্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।
ডিলার সিন্ডিকেট নয়, কৃষকের সরাসরি সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নীতিমালার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খুচরা বিক্রেতাদের পুনর্বাসন করতে হবে এবং চলমান সার সংকট দ্রুত দূর করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি ছক কষেছিল ইরান—ইসরাইলি গোয়েন্দাদের এমন দাবিকে পুরোপুরি ভুয়া বলে সন্দেহ করছে তুরস্ক।
ইসরাইল দাবি করেছিল যে, ইরানের একটি গোপন দল আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পের বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে। এই সতর্কতার পর, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস রবিবার তড়িঘড়ি করে ট্রাম্পের বিমান ও যাত্রাপথ পরিবর্তন করে এবং তাকে কড়া নিরাপত্তায় সরিয়ে নেয়।
তবে, তুরস্কের কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি ছিল ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের একটি সাজানো নাটক। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল—ইরানের সাথে যুদ্ধ থামিয়ে ট্রাম্প যে চুক্তির আলোচনা করছিলেন, তা যেকোনো মূল্যে বানচাল করা। পাশাপাশি, তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ করা এবং তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া।
নতুন আরেকটি তথ্যের ভিত্তিতে, তুরস্ক আরও জানিয়েছে যে, ন্যাটো সম্মেলনের মতো ওই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তুরস্কে এ ধরনের বড় হামলা চালানোর কোনো বাস্তব সুযোগ বা সাহস ইরানের নেই। আঙ্কারার এক সূত্রের মতে, যে হামলার কোনো অস্তিত্বই ছিল না বা কোনো পরিকল্পনাই ছিল না, মূলত সেই কাল্পনিক হামলার হিরো সাজতেই ইসরাইল এই মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছিল।
সূত্র: মিডলইস্ট আই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ