০৮:২৯ এম
ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ওয়াশিংটন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের ‘বিপুল ক্ষতির’ সম্মুখীন হতে হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মেহরদাদ আখলাঘি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইরানে হামলা চালানোর সাহস করা সম্ভব নয়। তবে যদি হামলা হয়, তাহলে এর ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো অঞ্চলে ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন: গাজায় নিজেদের ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চলেই হামলা চালাল ইসরাইল, নিহত ৯ জনের মধ্যে শিশু এক জন
তিনি বলেন, ‘মানুষ নিশ্চিন্ত থাকতে পারে, সম্ভবত তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর সাহস করবে না। যদি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) হামলা চালায়, তাহলে তাদের নিজেদের এবং পুরো অঞ্চলকে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
এর আগে, ইরানের আইনপ্রণেতারা নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আখলাঘির নিয়োগ অনুমোদন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই তার পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামি পরামর্শ পরিষদের (পার্লামেন্ট) সদস্যরা আজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মেহরদাদ আখলাঘির নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন’। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূত্রপাত হওয়ার প্রায় আট মাস পর এই নিয়োগ অনুমোদন করা হলো।
ইরান সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৭৭টি ভোটের মধ্যে ২৩৭টি ভোট পেয়ে আখলাঘি এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তার পূর্বসূরি আজিজ নাসিরজাদেহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নাসিরজাদেহ নিহত হন। ওই হামলায় দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: আবার শুরু হচ্ছে যুদ্ধ? মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আগে আখলাঘি বলেন, ‘পার্লামেন্ট তার ওপর আস্থা রেখে ভোট দিলে দেশের এক সংবেদনশীল সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমার ওপর বর্তাবে’।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দেশকে রক্ষা করতে হলে সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে, বিভিন্ন ঘটনার পেছনের যুক্তি বুঝতে হবে, প্রভাব বিস্তারকারী প্রবণতাগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’
প্রসঙ্গত, সামরিক পদমর্যাদা না থাকলেও আখলাঘি দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইরানিয়ান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ২০০৭ সালে জাতিসংঘ আখলাঘির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে টোল প্লাজায় মুসলিম ট্রাক চালককে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন