০৫:২২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর কি ইরানে নতুন হামলার সূচনা হবে? এই প্রশ্নটি বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট বার্তা এবং ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যুদ্ধ আবার শুরু হলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, বিমানের টিকিট পাওয়া বা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে কি না—এ নিয়ে চারদিকে চলছে নানা আলোচনা।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে কূটনৈতিক বা সামরিক—কোনো পক্ষই জয় বা সমাধানের মুখ দেখেনি। ট্রাম্প একদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে আলোচনার কথাও বলছেন। পাল্টা জবাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশ পাওয়ার পর ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তারা কেবল তেল ক্ষেত্র নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রসহ পুরো অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে দেবে।
সংঘাতের এই উত্তাপে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছেন উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা লাখ লাখ বিদেশি নাগরিক ও চাকরিজীবী। দীর্ঘ দিন নিরাপদ মনে করলেও, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের পরিবারগুলো নীরবে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষের সেই নিরাপত্তাবোধে বড় ধাক্কা লেগেছে। নিরাপত্তা আশঙ্কায় বড় বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাতিল হচ্ছে, সৌদি আরবে অফিসের কাজ ঘরে বসে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাহরাইন থেকে শুরু করে আবুধাবির বাসিন্দারা সবাই এক অজানা আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন।
আরও পড়ুন: ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক সাহা আটক
এর মধ্যেই ব্যাকস্টেজে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চিঠি ও বার্তার আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের দেওয়া ৭টি শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে আলোচনা সফল হয়ে আপাতত সংঘাত থামবে, নাকি আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক বিধ্বংসী যুদ্ধের রূপ নেবে—সেই উত্তর পাওয়ার জন্যই এখন অপেক্ষা করছে বিশ্ব।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন