ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আবার শুরু হচ্ছে যুদ্ধ? মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা


আবার শুরু হচ্ছে যুদ্ধ? মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর কি ইরানে নতুন হামলার সূচনা হবে? এই প্রশ্নটি বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট বার্তা এবং ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যুদ্ধ আবার শুরু হলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, বিমানের টিকিট পাওয়া বা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে কি না—এ নিয়ে চারদিকে চলছে নানা আলোচনা।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে কূটনৈতিক বা সামরিক—কোনো পক্ষই জয় বা সমাধানের মুখ দেখেনি। ট্রাম্প একদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে আলোচনার কথাও বলছেন। পাল্টা জবাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশ পাওয়ার পর ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তারা কেবল তেল ক্ষেত্র নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রসহ পুরো অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে দেবে।

সংঘাতের এই উত্তাপে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছেন উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা লাখ লাখ বিদেশি নাগরিক ও চাকরিজীবী। দীর্ঘ দিন নিরাপদ মনে করলেও, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের পরিবারগুলো নীরবে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষের সেই নিরাপত্তাবোধে বড় ধাক্কা লেগেছে। নিরাপত্তা আশঙ্কায় বড় বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাতিল হচ্ছে, সৌদি আরবে অফিসের কাজ ঘরে বসে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাহরাইন থেকে শুরু করে আবুধাবির বাসিন্দারা সবাই এক অজানা আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন।

আরও পড়ুন: ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক সাহা আটক

এর মধ্যেই ব্যাকস্টেজে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চিঠি ও বার্তার আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের দেওয়া ৭টি শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে আলোচনা সফল হয়ে আপাতত সংঘাত থামবে, নাকি আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক বিধ্বংসী যুদ্ধের রূপ নেবে—সেই উত্তর পাওয়ার জন্যই এখন অপেক্ষা করছে বিশ্ব।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবীন কর্মকর্তাদের পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করতে আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


নবীন কর্মকর্তাদের পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করতে আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন যে, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে হবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার যেন কোনো অবস্থাতেই না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএস (পুলিশ) ও বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে নতুন যোগদানকৃত কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই আহ্বান জানান।

এ সময় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের জন্য নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, তবে তা যেন কর্মজীবনে কোনোভাবেই প্রতিফলিত না হয়।

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুপিরিয়র সার্ভিসে আপনাদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সমুন্নত রাখা এবং এর মাধ্যমে দেশের সকল কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন ও সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে আপনাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।’

তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সার্ভিস লাইফে সর্বদা শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশ পালন করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের তুলনায় পুলিশ ও আনসার সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এখানে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেখানে বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও প্রেজেন্স অব মাইন্ড অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৬৫ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ১৯ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এই সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ রোববার স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, নরওয়ে এবং বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে। নরওয়ে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।

তিনি বলেন, নরওয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রসারে সবসময় সহায়তা করে আসছে।

স্পিকার আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকার গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তৎকালীন বিরোধীদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘২৪ জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানো হয় এবং দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়।

স্পিকার জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করে চলেছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। রোহিঙ্গা জনগণের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন। তিনি বলেন, নরওয়ে এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে সারাবিশ্বের শান্তিরক্ষায় একটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, নরওয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তার এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সবসময় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধিদের সফর বিনিময় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম এবং জুলাই সনদ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় স্পিকার ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য নরওয়ের কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে নরওয়ের দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসি উত্তরণে তিন বছরে অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


এলডিসি উত্তরণে তিন বছরে অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা

বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে সরকার আগামী তিন বছরকে অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের সময় হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাকে নিয়ে পাঁচ পক্ষের অংশীদারিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা।

রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব তথ্য জানান।

উপদেষ্টা বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য পাওয়া বাড়তি তিন বছরকে সরকার শুধুমাত্র সময় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে না। বরং এই সময়টিকে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। তাই উত্তরণকে টেকসই করার জন্য অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। এ লক্ষ্যে ‘গ্র্যাজুয়েশন থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

তিন কারণে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর পেছনে তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান ড. তিতুমীর। এগুলো হলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দুর্বল অর্থনীতির কারণে অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট বাহ্যিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত পূর্বপ্রস্তুতির অভাব।

তার মতে, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে রয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য হলো উত্তরণের পর যেন অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।

ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতে সংস্কার

সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং রপ্তানিপণ্যের তালিকা সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।

এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সেপা) করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ড. তিতুমীর বলেন, বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা বা কম্প্যাক্ট গড়ে তুলতে পারলে এসব লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। এলডিসি উত্তরণ নিয়ে প্রতিটি আলোচনায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ উদ্যোগ সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশলেরও অংশ।

সংস্কারে পাঁচ পক্ষের অংশীদারি

সরকারের উদ্যোগে পাঁচ পক্ষকে যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এগুলো হলো বাংলাদেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা। তার মতে, এ ধরনের সর্বসম্মত অংশীদারি আগে দেখা যায়নি।

জাতিসংঘের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবে জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক।

এ ছাড়া সরকারের চিহ্নিত অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)। আইএমএফের চলমান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক জ্বালানি অবকাঠামো

টেকসই শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তাকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিতুমীর। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে ভাসমান টার্মিনালের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার অপচয় ও সিস্টেম লস কমানো এবং এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপদেষ্টার মতে, মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ

এলডিসি উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে এফটিএ ও সেপা করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

উপদেষ্টা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা এ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাঁচ পক্ষের অংশগ্রহণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা বাড়াবে বলে তিনি মনে করেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাড়তি তিন বছর কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে শুধু পরিকল্পনা ঘোষণা যথেষ্ট নয়; ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে বাস্তব সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময় বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সান্তাহারকে আধুনিক শহরে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ, সংসদ সদস্যের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


সান্তাহারকে আধুনিক শহরে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ, সংসদ সদস্যের উদ্যোগ

উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃহত্তর রেলওয়ে জংশন সান্তাহার শহরকে আধুনিক শহরে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এবং দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে, বগুড়ার আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৭ বছর ধরে উন্নয়নবঞ্চিত এই শহরটিকে আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলভিত্তিক প্রথম শ্রেণির সান্তাহার পৌর শহরে বসবাসকারী প্রায় দুই লাখ নাগরিকের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের উপযোগী শহর গড়ার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার মন্তব্য করেন, "রেলভিত্তিক এই শহরের চারপাশে প্রায় ৫০০ একর সম্পত্তি রয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে শহরে অপরিকল্পিতভাবে নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, এর ফলে শহরবাসী বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকূলতার মধ্যে বসবাস করে আসছে।

এছাড়াও, শহরের মূল প্রবেশপথসহ শহরের রেলগেট থেকে হার্ভে সরকারি বিদ্যালয় সড়ক, সান্তাহার-নওগাঁ সড়ক, সান্তাহার-সরকারি কলেজ ভায়া রানীনগর সড়ক এবং সান্তাহার-তিলকপুর ভায়া জয়পুরহাট সড়কসহ শহরের সব ছোট সড়ক সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

শহরের পাশে একটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণ, যানজট নিরসনের জন্য শহরের প্রাণকেন্দ্রে জনগুরুত্বপূর্ণ রেলগেটে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং শহরের ২ নম্বর রেলগেট থেকে পোঁওতা রেলগেট পর্যন্ত একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়াও, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলসেতু পর্যন্ত রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে সান্তাহার শহরের বাইপাস রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরবাসীর প্রয়োজনীয় চাহিদার যথাযথ প্রতিফলন ঘটলে, শহরটি একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর লাভ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%