১০:৫৫ এম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মেয়ে নুসরাত জাহান, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইংরেজি বিভাগের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তিনি চবির ‘বি’ ইউনিটে ১৫তম, ‘ডি’ ইউনিটে ৩১৯তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘বি’ ইউনিটে ৭৬৬তম হয়ে বাংলা বিভাগে অধ্যয়নের সুযোগ পান।
তবে নুসরাত জীবনকে প্রচলিত ধারার বাইরে থেকে দেখতে পছন্দ করেন। তার বিশ্বাস, ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পেলেও জীবনের পথ কখনো শেষ হয় না। ঢাবি নিয়ে তার অতিরিক্ত কোনো আকর্ষণ ছিল না, বরং তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতেন, “সবাই বলে ঢাবিতে চান্স পেয়ে দেখান, আমি ভর্তি না হয়ে দেখাব।”
নুসরাত জাহান মন্তব্য করেন, "আমি মনে করি জীবনে সবকিছুই এককটা পথ, অ্যাডমিশনে উত্তীর্ণ না হলেও যে জীবনের সব পথ বন্ধ হয়ে যেত এমন নয়। বরং, আরও নতুন নতুন দিগন্ত খুঁজে বের করতাম।" তিনি আরও জানান, ঢাবিতে ৭৬৬ তম হওয়ার পরও তার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে খুব বেশি মুগ্ধতা ছিল না। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে জীবনকে একটু অন্যরকম করে দেখি, আমার মনে হতো ‘সবাই বলে চান্স পেয়ে দেখান। আমি ভর্তি না হয়ে দেখাব।’”
আরও পড়ুন: মাদক নির্মূলে পরিবারকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে: ডিএনসি মহাপরিচালক
তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও তার ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার ইচ্ছা ছিল। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তিনি এখানেই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তার আগ্রহ ছিল এবং তার বাবা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পারিবারিক যোগসূত্রও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের বাইরে ইংরেজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছাও রয়েছে।
চবির এই শিক্ষার্থী বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় চার মাস আগে তিনি প্রথম অ্যাডমিশন নিয়ে সচেতন হন। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়গুলো শুরু থেকেই মনোযোগ দিয়ে পড়তেন। তখন থেকে তিনি অ্যাডমিশন কেন্দ্রীক ধারণা নিতে শুরু করেন এবং এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ না হয় সেজন্যও চিন্তা করতেন। তিনি পুরো সময় রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছিলেন যেখানে কোনো ভালো কোচিং সেন্টারও ছিল না। তার পড়াশোনা ছিল সম্পূর্ণ অনলাইনকেন্দ্রিক।
তিনি বলেন, ঢাবি পরীক্ষার বহুনির্বাচনি অংশে তার ফল খুব ভালো হয়নি। মোটামুটি পাশ মার্ক নিশ্চিত করে তিনি দ্রুত খাতা জমা দিয়ে রিটেন অংশ ভালোভাবে লিখেছিলেন। চবির পরীক্ষাগুলোর ক্ষেত্রে প্রথমে মোটামুটি নিশ্চিত প্রশ্নগুলো দাগিয়ে ফেলতেন। এরপর চিন্তা করে ৫০/৫০ নিশ্চিত প্রশ্নগুলো দাগাতেন। কোনো প্রশ্ন নিয়ে বেশি সময় নষ্ট করতেন না এবং পরীক্ষার শেষ সময়ের জন্য কিছু প্রশ্ন রেখে দিতেন। তিনি আশাবাদী থাকতেন এবং প্রশ্নপত্র পেয়ে প্যানিক করতেন না। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ধীরে সুস্থে ঠান্ডা মাথায় দাগাতেন। এটাই ছিল তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ইবিতে ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন