০৯:১৪ পি.এম
স্পেনের সাবেক অধিনায়ক সেসার আজপিলিকুয়েতা মনে করেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপ জিততে হলে লামিনে ইয়ামালের ওপর একা নির্ভর করা চলবে না। তার বিশ্বাস স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দল, যেখানে মিকেল ওয়ারসাবালের মতো ফুটবলাররা নীরবে গুরুত্বপ‚র্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
আজপিলিকুয়েতা বলেন, বিশ্বকাপের মতো একটি দীর্ঘ আসরে একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে একা দলকে শিরোপা জেতানো সম্ভব নয়। অতিরিক্ত একটি নকআউট ম্যাচ, সম্ভাব্য অতিরিক্ত সময়, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং গরম আবহাওয়া—এই সব মিলিয়ে পুরো স্কোয়াডের অবদানই সাফল্যের চাবিকাঠি হবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ২৩ জন মাঠের খেলোয়াড়কেই ব্যবহার করেছিলেন। এবারের জন্যও তিনি একই ধরনের দলগত অবদান প্রয়োজন বলে মনে করেন।
আরও পড়ুন: মার্টিন ওডেগারের গোলে আর্সেনালের স্বস্তির ১-০ জয়
আজপিলিকুয়েতার মতে, এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে মিকেল ওয়ারসাবাল। ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি জয়সূচক গোল করেছিলেন। সেই আসরে সেটি ছিল তার একমাত্র গোল। এরপর থেকে জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড।
তিনি বলেছেন, “ওয়ারসাবালকে হয়তো কিলিয়ান এমবাপ্পে বা হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার বলা হয় না। কিন্তু বড় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা তার রয়েছে। স্পেনে আমরা তার মূল্য বুঝি।”
আজপিলিকুয়েতা আরও বলেন, আগে উইংয়ে খেলামাত্র হলেও গত কয়েক বছরে ওয়ারসাবাল নিজেকে পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। প্রয়োজন পড়লে ডান-বাম দুই দিকেই সরে গিয়ে স্পেস তৈরি করতে পারেন। বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ ইয়ামালকে আটকাতে ব্যস্ত থাকে, তখন তিনি সেই ফাঁকা জায়গার সর্বাধিক ব্যবহার করেন।
সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দুই গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করে আস্থা অর্জন করেছেন ওয়ারসাবাল। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে ফেরান তোরেস এবং বোরহা ইগলেসিয়াসকেও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখতে চান আজপিলিকুয়েতা।
আরও পড়ুন: পিএসজির টানা ১১তম জয়, ত্রোয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করল
তিনি বলেন, “বোরহা ইগলেসিয়াস এখনও বিশ্বকাপে খেলেননি। কিন্তু ভিন্ন ধরনের স্ট্রাইকার হিসেবে কোনো কোনো ম্যাচে তার প্রয়োজন পড়বেই।”
শুধু আক্রমণভাগ নয়, স্পেনের রক্ষণের প্রশংসা কুড়েিয়েছেন সাবেক এই ডিফেন্ডার। তার মতে, এখন পর্যন্ত কোনো গোল না খাওয়া দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গোলরক্ষক উনাই সিমনের অভিজ্ঞতা, আয়মেরিক লাপোর্তের নেতৃত্ব এবং রদ্রির নিয়ন্ত্রণক্ষমতারও প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে রদ্রিকে তিনি রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আজপিলিকুয়েতার বিশ্বাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করার সক্ষমতার কারণেই স্পেন রক্ষা বিভাগে এতটা শক্তিশালী।
আরও পড়ুন: সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১
শেষে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, অনেক খেলোয়াড়ই অনূর্ধ্ব পর্যায় থেকে তার অধীনে খেলেছে। তাই কোচের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অনেকটা অভিভাবকের মতো। এই আস্থা ও ঐক্যই দীর্ঘ টুর্নামেন্টে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
তার মতে, “লামিনে ইয়ামাল অবশ্যই দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে স্পেনের শক্তি শুধুমাত্র একজন নয়, পুরো দল। আর এই দল এখনও প্রতিদিন আরও উন্নতি করছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন