মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
০৬:৩৭ পি.এম
আজ(৩১ অক্টোবর) শনিবার ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে বার্ষিক সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর
অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান এর
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের অন্যতম সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক
অধ্যক্ষ মাও:মমতাজউদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জননেতা দেলাওয়ার হোসেন, অঞ্চল টিমের সদস্য ও
দিনাজপুর জেলার সাবেক আমীর
মো: আনোয়ারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও জেলার প্রাক্তন আমীর ও অঞ্চল টিমের অন্যতম সদস্য জননেতা মাওলানা আব্দুল হাকিম।।
প্রধান অতিথি বলেন-
ইসলামী আদোলনের পাশাপাশিএকটি
সু-শৃংখল ও গণতান্ত্রিক নিঁখুত চর্চার
রাজনৈতিক সংগঠনের নাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গঠনতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে ও
আবশ্যিকতায় আজ (৩১ অক্টোবর)
২০২৭-২৮ কার্যকালের ঠাকুরগাঁও
জেলা আমীর নির্বাচনে প্রত্যক্ষ গোপন
ব্যালটে ভোট প্রদান করেন সদস্য গণ।
এ সম্মেলনে সর্বমোট ডেলিগেট বা ভোটার
সংখ্যা ৭৯৫ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৪৪৩ জন
ও মহিলা বোন ৩৫২ জন।
সদ্য ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন সম্পর্কে
তিনি বলেন- মনোবল না ভেংগে অতীতের
চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি অর্জনের লক্ষ্যে এখন
থেকেই আবার কাজ শুরু করার
নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি স্থানীয় নির্বাচনে এখন থেকেই
পরিকল্পনা গ্রহণ ও সে অনুযায়ী কর্মসূচী
ও পদক্ষেপ নিতে আহবান জানান।
জনাব দেলাওয়ার হোসেন বলেন-
সদ্য উপনির্বাচনে আপনারা যেভাবে মাঠে-ময়দানে
যে মেধা,শ্রম-ঘাম ও অর্থ খরচ করেছেন
তাঁর জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করছি। তিনি বলেন-
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার খবর পাওয়া
মাত্র আমি ছুটে যাচ্ছি এবং অব্যাহত
রাখবো,ইনশাআল্লাহ্।
আপনার আমাকে সার্বক্ষনিক এলাকার
সমস্যা ও সম্ভাবনা জানাবেন। ভোট ছিনতাইকারী
ও ক্যাংগারু নির্বাচন কমিশন আমাকে
পরাজিত ঘোষনা করলেও আমি মাঠে ই
থাকবো -এ ঘোষনা প্রদান করছি।
সভাপতির বক্তব্যে মরহুম মাওলানা ইয়াকুব
খাঁন ও মাওলানা রজন আলীর জন্য
স্মৃতিচারণ ও দোয়ার আহবান করে
সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
উল্লেখ্য যে ভোটের ফলাফল কেন্দ্রীয়
নির্বাহী পরিষদের মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত
জেলা আমীরের নাম ঘোষনা
ও শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান কেন্দ্রীয়
ইউনিটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন
করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন শুধুমাত্র সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংশোধনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ডাকা হয়েছে। তিনি বলেন, "আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি।" কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।
রিজভী বলেন, "আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী?" বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।
স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী তিন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীর সকলেই অকৃতকার্য হওয়ায় উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাদান ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এবারে একজন ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিক শাখায় মোট আটজন শিক্ষক কর্মরত আছেন।
অন্যদিকে, বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে কেউই পাস করতে পারেননি। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাসসহ মানবিক বিভাগের মোট ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধানদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি বা বেতন-ভাতা চালু হয়নি। এ কারণে অভিযোগ উঠেছে যে শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করেন না। নামমাত্র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও অনেকেই অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিয়া জানান, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমোদন পায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক শাখায় মোট আটজন শিক্ষক যোগদান করেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সম্প্রতি শিক্ষকদের অনেকেই আর নিয়মিত পাঠদান করতে আসেন না।
অন্যদিকে, বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেন, এবারে মানবিক বিভাগ থেকে দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গিয়েছিল। এ কারণে এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার প্রামাণিক বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সকলেই অকৃতকার্য হয়েছেন, যা হতাশাজনক। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গর্ভবতী নারীদের এবং তাদের অনাগত শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, উচ্চ রক্তচাপ এবং নির্ধারিত সময়ের আগে সন্তান প্রসব বা অপরিণত শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের প্রভাবে অপরিণত সন্তান জন্মের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক গবেষণা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ নির্দেশ করছে যে, বসবাসের এলাকার গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে পরবর্তীতে অপরিণত সন্তান প্রসবের আশঙ্কা ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা তাপপ্রবাহের পরবর্তী সপ্তাহে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
অতিরিক্ত গরমের ফলে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো গুরুতর গর্ভকালীন জটিলতা, জন্মগত ত্রুটি এবং প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। চীনে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, অস্বাভাবিক গরমের কারণে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মেক্সিকোর ৮০ হাজার জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, সন্তান জন্মের আগের চার সপ্তাহে তাপপ্রবাহের উপস্থিতি অপরিণত শিশু জন্মের হার গড়ে প্রায় ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে।
গর্ভবতী নারীদের জন্য এই ঝুঁকি বেশি থাকে বেশি বয়সি, দরিদ্র, ধূমপায়ী এবং পূর্বে শারীরিক জটিলতা থাকা নারীদের ক্ষেত্রে। জোহানেসবার্গের গবেষক ও চিকিৎসক দর্শনিকা লাখুর মতো অনেক নারীও তীব্র গরমের কারণে যমজ সন্তান নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়ার মতো জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে তাপপ্রবাহের সময় গর্ভবতী নারীদের জরুরি বিভাগে যাওয়ার, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিংবা নবজাতকদের আইসিইউতে নেওয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, শরীরকে ঠান্ডা রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত গরমে মায়ের শরীর জরায়ু বা প্লাসেন্টায় রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যা ভ্রূণের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। তাপমাত্রা হরমোনের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে জিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অতিরিক্ত গরম জন্মগত ত্রুটি ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ালেও শেষের দিকে তা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য চিকিৎসকেরা গর্ভবতী নারীদের অতিরিক্ত গরম থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার, পর্যাপ্ত পানি পান করার, ঢিলেঢালা পোশাক পরার এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতাই নয়, বরং গর্ভাবস্থায় নারীদের ছুটির সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি ও শীতলীকরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি নীতিমালায় জরুরি পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই অনাগত শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সূত্র: জিও টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ২০তম শিক্ষক উন্নয়ন সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনটি ইংরেজি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। এতে দেশি-বিদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইউআইইউ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ, বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেল্টা) এবং জাপানের টিচার্স হেল্পিং টিচার্সের (টিএইচটি) যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘কালটিভেটিং কমিউনিটি ইন ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনটি তিন দিনব্যাপী ছিল।
২০০৫ সালে বেল্টা ও টিএইচটির যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়। গত দুই দশকে এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষক পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ লাভ করেছেন।
হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে অনলাইন অধিবেশন, ইউআইইউ ক্যাম্পাসে সরাসরি সম্মেলন এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আঞ্চলিক শিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকদের কাছে পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘কালটিভেটিং কমিউনিটি ইন ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। এই আলোচনার সঞ্চালনা করেন জাপানের আকিতা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব ইন্টারন্যাশনাল লিবারেল আর্টসের ডিন এবং টিচার্স হেল্পিং টিচার্সের টিম লিডার অধ্যাপক ড. প্যাট্রিক ডোহার্টি।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেল্টার সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মহিব উল্লাহ, ইউআইইউর ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পিডি সমন্বয়ক ও ক্যামব্রিজ পিডিকিউ কর্মসূচির প্রধান ফেরদৌসী রহমান এবং টিএইচটি দলের সদস্য অধ্যাপক ড. অ্যান ম্যাকলেলান হাওয়ার্ড, অধ্যাপক ড. ক্রিস্টোফার জনসন, অধ্যাপক ড. জশ নরম্যান ও অধ্যাপক সিসিলিয়া সিলভা।
প্যানেল আলোচনায় শিক্ষকদের মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা, শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক সীমানা অতিক্রম করে সহযোগিতামূলক শিক্ষকমণ্ডলী গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউর স্কুল অব হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. শরীফ আহমেদ মুকুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বেল্টার সভাপতি আহমেদ বশীর, বেল্টার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আরিফা রহমান এবং সংগঠনটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. রুবিনা খান। সম্মেলনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন ইউআইইউর ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মারজিয়া শুরভী।
এ ছাড়া বাংলাদেশ, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও প্রশিক্ষকেরা সম্মেলনে অংশ নিয়ে কর্মশালা পরিচালনা এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অধিবেশনগুলোতে লেখার দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষাদান পদ্ধতি, গবেষণাভিত্তিক পাঠের মাধ্যমে সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির বিকাশ, শিশুদের দ্বিভাষিকতা, যৌথভাবে শেখার কৌশল, উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ভাষা শিক্ষায় ডিজিটাল উপকরণের প্রয়োগ এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ