০৫:৪৯ পি.এম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এই মোট ঋণের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ হচ্ছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ ৪৭ হাজার ১৫১ কোটি টাকা।
রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্য মো. গোলাম রুহুলের লিখিত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। এ সময় সংসদের সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বেড়ে ওঠা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের চাপ কমাতে সরকার কর এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব আয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১০.৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করে ঋণনির্ভরতা কমানোই সরকারের উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: রাজারবাগ ও কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ, মোহাম্মদপুরে ট্রাকে আগুন
তিনি উল্লেখ করেছেন, ঋণ ব্যবস্থাপনার ব্যয় এবং ঝুঁকি কমাতে এবং ঋণ কার্যক্রমকে পরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালনার জন্য সরকার মিডিয়াম-টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর এবং সুসংগঠিত হবে।
আমির খসরু আরও বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগের রিটার্ন বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে। সুদ ব্যয়ের চাপ কমানোর লক্ষ্যে সরকার ইনভেস্টমেন্ট প্রোফাইল ডাইভারসিফিকেশনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সুকুক, অ্যাসেট সিকিউরিটাইজেশনসহ বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় উৎস থেকে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করলেও কনসেশনাল লোন বা স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় অর্থ বিভাগ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণের স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকি মূল্যায়নে ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস পরিচালনা; রফতানি আয়, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদার করা; সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দায়দেনার উপর নজরদারি বৃদ্ধি করা।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন