প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুর প্রতিনিধির রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গাজীপুর জেলা ও প্রশাসন এবং প্রতিনিধিরা একটি মানবিক ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জেলার পাঁচটি আসনের সকল সংসদ তাদের এক মাসের সম্পূর্ণ মূল বেতন এবং জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের এক দিনের মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রবিবার (১২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিশেষ এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
জানা গেছে, দুপুরে সভার সময় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় তার সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত মাসিক মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
একই সঙ্গে তিনি সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এক দিনের বেতন প্রদানের আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এই আহ্বানে তাৎক্ষণিক সংহতি প্রকাশ করেন।
এরপর সভায় উপস্থিত জেলা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট অফিসাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মহতি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য সহমত পোষণ করেন। জেলা প্রশাসক জানান, সভায় অনুপস্থিত অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তারাও এই উদ্যোগে অংশ নেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। এই অর্থ শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, গাজীপুর জেলা প্রশাসন এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই যৌথ অবদান দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, মহানগর পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন