ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি সাময়িক বরখাস্ত


মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি সাময়িক বরখাস্ত

রাজধানীর ভাটারা থানার পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি আয়োজনের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে, ১৯ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উত্তর বিভাগের সদস্যরা ভাটারা থানার পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় বাড়িটিতে অবৈধ মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল বলে ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: নতুন পে স্কেলে তিন মাসের বর্ধিত বেতন কবে পাবেন সরকারি কর্মচারীরা?

অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বদলি-পদায়নে লটারি প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা দুঃখজনক: গণপূর্তমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


বদলি-পদায়নে লটারি প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা দুঃখজনক: গণপূর্তমন্ত্রী

গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বদলি ও পদায়ন-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং তদবির বন্ধের লক্ষ্যে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ লটারি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তবে, কিছু গণমাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা দেখা গেছে, যা গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের মতে, দুঃখজনক।

শনিবার ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশ-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার বা মন্ত্রণালয় যখন কোনো ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করে, তখন অনেক সময় সংবাদে তার ইতিবাচক দিকগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। তিনি একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। কীভাবে তদবির ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা বিবেচনা করে লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তদবির বা প্রভাব যেন কাজ না করে, সে জন্য সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে, সব ক্ষেত্রে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। কিছু মানবিক বিবেচনার বিষয়ও থাকে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য বন্ধ করতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লটারি আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু সেই বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা কিছু গণমাধ্যমে দেখা গেছে। এ ধরনের প্রবণতা সবার জন্যই কষ্টদায়ক।

জাকারিয়া তাহের বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্দশাগ্রস্ত সাংবাদিকদের সহায়তা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোকে উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারেন।

সমাবেশে সংস্থাটির বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের অধিকার ও ভাগ্যোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চাই: ইশরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


জনগণের অধিকার ও ভাগ্যোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চাই: ইশরাক

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, ভাগ্যোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ধোলাইখাল টং মার্কেট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, "ধোলাইখাল পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত এলাকা। এই এলাকার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এখানে ঢাকা শহরের একটি বড় সমাবেশ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ হয় এবং জনগণ আন্দোলনে যুক্ত হয়। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এই মার্কেটের সামনে আমি প্রথম গুলিবিদ্ধ হই।"

তিনি আরও বলেন, মার্কেটের উন্নয়নের মাধ্যমে এর সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী, দোকানমালিক, শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ভাগ্যোন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে চান।

ধোলাইখাল টং মার্কেট স্থায়ী করার বিষয়ে ইশরাক বলেন, "আমার বাবা মেয়র থাকাকালে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসায় কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এখন যেহেতু বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, আপনারা এই ফাইলটা নিয়ে মুভ করেন। যেখানে যেখানে আপনাদের পক্ষে কথা বলার দরকার, সেটা আমি অবশ্যই করব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রি ফায়ার গ্লোরি অ্যাওয়ার্ডে এক মঞ্চে গেমিং তারকারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


ফ্রি ফায়ার গ্লোরি অ্যাওয়ার্ডে এক মঞ্চে গেমিং তারকারা

আলোঝলমলে মঞ্চে, প্রিয় গেমের চরিত্রদের বর্ণিল র‍্যাম্প শো এবং দর্শকদের করতালি। এরপর একে একে মঞ্চে উঠে আসেন দেশের ই-স্পোর্টস অঙ্গনের পরিচিত মুখগুলো। উপলক্ষ ছিল ফ্রি ফায়ার গ্লোরি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬। দেশের ই-স্পোর্টস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে এক ছাদের নিচে মিলিত হলেন দেশের শীর্ষ গেমার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বিনোদন জগতের তারকারা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ঠিক ৫টায় মানিকগঞ্জের একটি রিসোর্টে শুরু হয় এই অনুষ্ঠান। ফ্রি ফায়ারের জনপ্রিয় ক্যারেক্টারদের র‍্যাম্প শোর মাধ্যমে মূল আয়োজনের সূচনা হয়।

এরপর স্বাগত পরিবেশনায় হিপহপ ড্যান্সে মেতে ওঠেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। নাচের পর মঞ্চে জাদু ছড়াতে হাজির হন জাদুকর ম্যাজিক রাজিক। তার সঞ্চালনায় শুরু হয় বছরের সেরাদের স্বীকৃতি দেয়ার পর্ব।

এবারের আসরে ফ্রি ফায়ারের সেরা স্নাইপারের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ‘কেএইচ ফ্লিকার’। সেরা রাশারের খেতাব অর্জন করেছেন ‘টিইসি ব্লেড’, সেরা ক্যাপ্টেন ‘এক্সটুএক্সট্রোভ’ এবং সেরা দল নির্বাচিত হয়েছে ‘টাইটানস ই-স্পোর্টস’। পাশাপাশি সেরা ধারাভাষ্যকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ‘জয় ব্র’।

শুধু খেলোয়াড় বা গেমাররাই নন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররাও। পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন ইটজ কাব্য, ইলুওশন ওয়াইটি, রাদ ভাই ওয়াইটিসহ আরও অনেকে।

তবে পুরো আয়োজনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ই-স্পোর্টস কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘মিস্টার ট্রিপল আর’। ইউটিউবে ৭০ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার থাকা এই ক্রিয়েটরের আসল চেহারা বা পরিচয় নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল দীর্ঘদিনের। অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে ‘ক্রিয়েটর অব দ্য ইয়ার’-এর পুরস্কার জিতে নিলেও রহস্য ধরে রাখেন তিনি; প্রকাশ করেননি নিজের মুখ।

পুরস্কার বিতরণীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান। প্রায় আধা ঘণ্টার সংগীত পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকদের গানে গানে মাতিয়ে রাখেন এই শিল্পী।

একদিকে সেরাদের স্বীকৃতি, অন্যদিকে নাচ, জাদু প্রদর্শন ও গান–সব মিলিয়ে ফ্রি ফায়ার গ্লোরি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ হয়ে উঠেছিল দেশের ই-স্পোর্টস কমিউনিটির জন্য এক ব্যতিক্রমী উৎসব। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের উদীয়মান গেমিং সংস্কৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ৩২টি বাস রুট কমছে, ৬টির উদ্বোধন রোববার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


ঢাকায় ৩২টি বাস রুট কমছে, ৬টির উদ্বোধন রোববার

রাজধানী ঢাকায় বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও যাত্রীবান্ধব করার উদ্দেশ্যে বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোববার (১ নভেম্বর) ৩২টি প্রস্তাবিত রুটের মধ্যে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি রুটগুলোও এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান সংকট ও পরিকল্পনার লক্ষ্য

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত বাস চলাচল, নির্ধারিত স্টপেজ না মানা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক বাস কোম্পানি একই সড়কে যাত্রী সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নামায়, যার ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অন্যদিকে, অনেক এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত বাসের অভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে যাত্রী চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা ও যানবাহন চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় এ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা কমবে, বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ডিটিসিএ-র বক্তব্য

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ‘রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা চলছিল, তা দূর করতেই বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় ৯৮টি সচল বাস রুট রয়েছে। এসব রুটকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানবাহন চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করেই এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হোক।

উদ্যোগের পটভূমি ও সমন্বয়

ডিটিসিএ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ প্রথম নেয়া হয় ২০১১ সালে। সে সময় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের (ডিটিসিবি) মাধ্যমে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০১৯ সাল থেকে ডিটিসিএ পূর্ববর্তী বিভিন্ন সমীক্ষা পর্যালোচনা করে একটি হালনাগাদ পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ৪২টি রুটের প্রস্তাব করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, বাস মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৩২টি রুটের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

জরিপ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ

২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সচল থাকা ৯৮টি বাস রুটের প্রতিটিতে ১৮টি ট্রিপের যাত্রীদের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে বোর্ডিং-অ্যালাইটিং সার্ভে পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ৩৫ হাজারের বেশি বাসযাত্রীর অরিজিন-ডেস্টিনেশন সার্ভে করা হয়েছে। অর্থাৎ যাত্রীরা কোথা থেকে যাত্রা শুরু করছেন এবং কোথায় যাচ্ছেন, সে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীর ৭২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একনাগাড়ে ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা বা ট্রাফিক কাউন্ট করা হয়েছে। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের বর্তমান অবস্থা নিরূপণে ড্রোন ব্যবহার করে ছবি সংগ্রহ, রাস্তার অবকাঠামোগত পর্যালোচনা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং প্রস্তুত করা হয়েছে।

এসব তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট মডেল তৈরি করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যাত্রী চলাচলের প্রবণতা, রুটের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবহন নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

যাত্রী সুবিধা ও বিদ্যমান অবকাঠামো

ডিটিসিএর পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরির হিসাব করা হয়েছে। এটি মোট পার্সন ট্রিপের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রস্তাবিত রুটগুলোর গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান কোনো না কোনো বাস রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে বিদ্যমান বাস চলাচলের পথ ও পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহার করেই নতুন ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বলেন, ‘এই পরিকল্পনা কোনো অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত নয়। আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সচল ৯৮টি বাস রুটের ওপর বিভিন্ন ধরনের জরিপ পরিচালনা করেছি। ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর বোর্ডিং-অ্যালাইটিং তথ্য এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর অরিজিন-ডেস্টিনেশন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া মহানগরীর ৭২টি স্থানে একটানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের অবকাঠামোগত অবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ৩২টি রুটের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, যেখানে যাত্রীর চাহিদা বেশি সেখানে পর্যাপ্ত বাস নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় রুটের পুনরাবৃত্তি কমিয়ে আনা।’

বিমানবন্দর, মিরপুর-১০, কুড়িল, গাবতলী, মহাখালী, ফার্মগেট, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীকে কেন্দ্র করে একাধিক রুটের সংযোগ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে চালু হতে যাওয়া ৬টি বাস রুট

১. গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির (ভায়া আব্দুল্লাহপুর)

২. মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে চুলকুটিয়া (ভায়া সাইন্সল্যাব)

৩. মোহাম্মদপুরের বসিলার ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত (ভায়া শাহবাগ ও মৎস্য ভবন)

৪. মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত (ভায়া সাইন্সল্যাব ও জিগাতলা)

৫. মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ পর্যন্ত (ভায়া মিরপুর ১০)

৬. টঙ্গী কলেজ গেট থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত (ভায়া আব্দুল্লাহপুর)

রুট ও বাস পরিচালনার রূপরেখা

প্রস্তাবিত প্রধান রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে ডেমরা ও কাঁচপুর এবং ঘাটারচর থেকে মিরপুর হয়ে আব্দুল্লাহপুরের ধউর পর্যন্ত। এসব রুটে ৭০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত নন-এসি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি এসি বাস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক এবং উত্তরা এলাকায় তিনটি চক্রাকার (সার্কুলার) বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি রুটে ২০টি করে বাস পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনায় ঢাকা চাকা, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, ফোর স্টার বাস লাইন, পিএনপি সিটি সার্ভিসসহ কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ রয়েছে। বাস রাখার জন্যও বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%