১১:১৬ পি.এম
আজ বুধবার রাজধানীতে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছিলেন যে, একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, তবে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টনকে প্রতিটি এগ্রিভোল্টাইক উদ্যোগের কেন্দ্রে রাখতে হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত ‘ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ: এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫২২ জন
বাংলাদেশে এগ্রিভোল্টাইকের সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় সরকারি প্রতিনিধি, গবেষক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে, যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরন। এসব প্রভাব দেশের কৃষি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো ও গ্রামীণ জীবিকার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে দেশে নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
তিনি জানান, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ৩.০-এর আওতায় বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশের সীমিত ভূমি এবং উচ্চ জনঘনত্বের বিবেচনায়, বৃহৎ আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীল কৃষিজমির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘এগ্রিভোল্টাইক একটি সম্ভাবনাময় সমাধান। এর মাধ্যমে একই জমিতে সৌর ফটোভোল্টাইক ব্যবস্থা এবং কৃষি উৎপাদন পরিচালনা করা সম্ভব। যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে ফসল চাষ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এই পদ্ধতি বাষ্পীভবন কমাতে, পানির ব্যবহার আরও দক্ষ করতে এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করতেও সহায়ক হতে পারে।’
আরও পড়ুন: শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে একটি সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পে অর্থবহ কৃষি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সৌর কাঠামোর নকশা, প্যানেলের উচ্চতা, ব্যবধান এবং অবস্থা এমন হতে হবে, যাতে তা ফসল উৎপাদনে সহায়ক হয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এগ্রিভোল্টাইক মডেলের কেন্দ্রে কৃষকদের রাখতে হবে। এসব প্রকল্পের কারণে কৃষক যেন জমিতে প্রবেশাধিকার হারিয়ে না ফেলেন অথবা অধিকাংশ সুবিধা অন্যরা ভোগ করার বিপরীতে তারা শুধু সাময়িক ও সীমিত অর্থ না পান। বরং কৃষিভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষিত রেখে প্রকল্পগুলো থেকে কৃষকদের অতিরিক্ত এবং পূর্বানুমানযোগ্য আয় নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌরসেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল গ্রামীণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা বিদ্যুৎ গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা সীমিত এমন এলাকার মানুষের সহনশীলতাকেও বাড়াতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, এগ্রিভোল্টাইকের সম্প্রসারণে উপযুক্ত আর্থিক এবং ব্যবসায়িক মডেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ-৬-এর সহযোগিতামূলক পদ্ধতি এবং জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজমের মাধ্যমে কার্বন অর্থায়ন অতিরিক্ত সহায়তা দিতে পারে। তবে কার্বনবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে পরিবেশগত অখণ্ডতা, অতিরিক্ততা, স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ এবং দ্বৈত গণনা পরিহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় কার্বনবাজার কাঠামোর শর্তাবলি অনুসরণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস (আইজিইএস) ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর, টেরা জাপান এবং ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাপান দূতাবাস, জাইকা, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধিরা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন