১১:২৮ পি.এম
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি ২৯ জুলাই বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে দায়ের করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল। মাল দায়েরের সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার বিকালে হবিগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের রশিদপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পুলিশের ৪ টি ব্যারিকেড ও বিধিনিষেধের মুখে পড়ে দলটির নেতাকর্মীরা। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে পৌঁছে মামলাটি দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: সমবায়ের হাত ধরেই বদলাবে গ্রামীণ মানুষের জীবন প্রতিমন্ত্রী টুকু
মামলা দায়েরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার পদযাত্রা শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। এই হামলায় উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি হিসেবে এবং বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াজকে দ্বিতীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর দাবি, হামলার সময় এনসিপির গাড়িবহর থেকে ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ চুরি করে নেওয়া হয়। এছাড়া প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন হামলায় আহত জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী মুবিন এবং দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী নাহিদ উদ্দিন তারেক।
আরও পড়ুন: নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে
মামলা দায়ের শেষে রাত ১০টার দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জের রশিদপুর এলাকা ত্যাগ করে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এদিকে মামলা দায়েরের পর হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, হাসিনার আমলেও আমাকে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করা হয়েছিল। এখনও আমাকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলো। তারা যদি (এনসিপি) জুলাই যোদ্ধা হয়ে থাকে, আমিও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা।
তিনি আরও বলেন, এই মামলাই প্রমাণ করে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে তাদেরও কোনো পার্থক্য নেই। তবে থানায় গিয়ে এই মামলা দেওয়াই প্রমাণ করে বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিককে বাক স্বাধীনতার পূর্ণ অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। আমি এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আরও পড়ুন: যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মিজানুর, সদস্য সচিব শরিফুল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন