১২:১৪ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সাজিনাজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার জন্য আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ৩য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়, ভুক্তভোগী শিশুর মা আমাতুল মাকনুনের পক্ষে।
এ অভিযোগের মধ্যে সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরীসহ মোট ৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালটির সহযোগী কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. মো. তামিম সাফায়েত চৌধুরী।
এছাড়া, অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ডাক্তার ও নার্সকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সি সেকশনে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন আমাতুল মাকনুন।
এ সময় নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদ লিঙ্ক রোডস্থ সাজিনাজ হাসপাতালে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার শুরুতে শিশুর শারীরিক অবস্থার অন্যান্য সবদিক স্বাভাবিক থাকলেও শ্বাসকষ্ট ছিল।
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
৩০ মে বাদি (শিশুটির মা) দেখতে পান নবজাতকের বাম হাতে ব্যান্ডেজ করা। কর্তব্যরত চিকিৎসক সামান্য বিষয় বলে তা এড়িয়ে গেলেও পরের দিন দেখা যায়, শিশুর বাম হাতের তালু কালো হয়ে গেছে এবং আঙুলে পচন (গ্যাংগ্রিন) শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে শিশুর শরীরে সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা ও পরের দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, সাজিনাজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুর বাম হাতে ভুল স্থানে আইভি ক্যানুলা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে রক্তনালী কাটা পড়েছে, যা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
বাদিপক্ষের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্পেশালিস্ট থেকে মতামত সংগ্রহ করতে নির্দেশও দিয়েছেন সিআইডিকে।
আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কাউনিয়ায় পুলিশের আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান
এর আগে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ করে ভুক্তভোগী মা আমাতুল মাকনুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করেন। বিষয়টি নিয়ে 'ভুল চিকিৎসা সাজিনাজ হাসপাতালে, গ্যাংগ্রিন সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু' শিরোনামে একটি সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের ৫ দিন পরে আইনি প্রক্রিয়ায় যান ভুক্তভোগী।
অপর দিকে, হাসপাতালটির পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোন পক্ষই আমাদেরকে অভিযোগ করেনি। আমরা নিজেদের উদ্যোগে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য। যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তবে উক্ত হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তদন্ত কমিটি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে হাসপাতালটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: মাইশার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক লরি চালককে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন