ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

এক ফ্রেমে সারা আলি ও হেনরি ক্যাভিল!


এক ফ্রেমে সারা আলি ও হেনরি ক্যাভিল!

যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা 'রয়্যাল অ্যাসকট'। এটি রাজকীয় আভিজাত্য এবং ড্রেস কোডের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন। তবে এবারের রয়্যাল অ্যাসকট ভারতীয় সিনেপ্রেমীদের জন্য একটি দারুণ চমক নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়েছেন হলিউড এবং বলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা।

বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান এবং 'সুপারম্যান' খ্যাত হলিউডের মেগাস্টার হেনরি ক্যাভিল এই অনুষ্ঠানের অতিথি। রয়্যাল অ্যাসকটের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে তারা ছবিও তুলেছেন।

অনুষ্ঠানের আভিজাত্য বজায় রেখে দুজনেই নজরকাড়া লুকে হাজির হয়েছিলেন। সারা আলি খানের পরনে ছিল আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের সাথে রয়্যাল অ্যাসকটের ঐতিহ্যের সাথে মানানসই মার্জিত পোশাক ও হ্যাট।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু

অন্যদিকে, ব্রিটিশ জেন্টলম্যান লুকে থ্রি-পিস স্যুট এবং ক্লাসিক ডার্বি হ্যাটে উপস্থিত ছিলেন হেনরি ক্যাভিল। ছবিতে দুই তারকার সাবলীল আড্ডা ও হাসিমুখের উপস্থিতি তাদের রসায়নকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সারার এই উপস্থিতি এবং হেনরি ক্যাভিলের মতো বিশ্বখ্যাত তারকার সাথে কুশল বিনিময়কে অনেকেই দেখছেন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে। কান চলচ্চিত্র উৎসব কিংবা আন্তর্জাতিক ফ্যাশন উইকের পর, এই আয়োজন সারার বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে।

সারা আলি খানকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘পতি পত্নী অউর ওহ দো' চলচ্চিত্রে। তবে খুব শীঘ্রই তিনি পর্দায় ফিরবেন নতুন একটি অবতারে। শোনা যাচ্ছে, একটি স্পাই কমেডিতে অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানার বিপরীতে দেখা যাবে তাকে।

পর্দায় ফেরার আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হেনরি ক্যাভিলের সাথে সারার এই রাজকীয় সাক্ষাৎ, তার বৈশ্বিক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে—এটা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শিশুদের আঁকায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে টিসিজেএ’র ফল উৎসব, দেশের ফলের পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


চট্টগ্রামে টিসিজেএ’র ফল উৎসব, দেশের ফলের পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগ

দেশীয় ফলের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (টিসিজেএ) চট্টগ্রাম শাখার ‘ফল উৎসব-২০২৬’৷

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে উৎসবমুখর পরিবেশে এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে৷

সংগঠনের সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মামুনের সঞ্চালনায় উল্লেখযোগ্য এই ফল উৎসবের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন৷

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান৷ বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অমল কান্তি দাস ও তন্ময় দাস। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন৷

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ফল চাষ সম্প্রসারণের গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, দেশীয় ফল শুধু সুস্বাদুই নয় বরং স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ নতুন প্রজন্মকে এসব দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে টিসিজেএ-এর এমন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে৷

পরে অতিথিরা প্রদর্শনীতে রাখা বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ফল ঘুরে দেখেন এবং আয়োজকদের এই গঠনমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন৷ গণমাধ্যমকর্মী, তাদের পরিবার এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়৷ আয়োজকরা জানান, দেশে ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং পুষ্টি সচেতনতা গড়ে তুলতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

অনুষ্ঠানে টিসিজেএ’র সহসভাপতি সনজীব দে বাবু, সহসম্পাদক বাসু দেব, অর্থ সম্পাদক পারভেজ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সাইমুন আল মুরাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজিম উদ্দিন এবং নির্বাহী সদস্য রবিউল হোসেন টিপু, জহিরুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালদ্বীপে অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে বাংলাদেশ হাইকমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


মালদ্বীপে অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে বাংলাদেশ হাইকমিশন

মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণে মানবিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছে। দেশটিতে কঠিন অবস্থায় থাকা গুরুতর অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপদ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে বিমানের টিকিট প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ সহায়তা গ্রহণকারী দুই প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে বিমানের টিকিট হস্তান্তর করেন হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। এ সময় মিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্যাহও উপস্থিত ছিলেন।

সহায়তা গ্রহণকারীদের মধ্যে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নরুল ইসলাম (৫০) রয়েছেন, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ফুসফুসজনিত যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি একই জেলার মো. আজিজ প্রামাণিক (৫৫) সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যার জন্য তার দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই দুই প্রবাসী বাংলাদেশির শারীরিক জটিলতা, আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক পরিস্থিতিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার পর তাদেরকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘প্রবাসে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জীবিকার প্রয়োজনার্থে বিদেশে অবস্থানরত কোনো নাগরিক অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা প্রতিকূল মানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সে সম্পর্কে রাষ্ট্রের নৈতিক ও প্রতিষ্ঠাত্মক দায়িত্ব রয়েছে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘প্রবাসী কর্মীরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শ্রমনিষ্ঠা, সততা ও সক্ষমতার প্রতিনিধিত্বও করছেন। এজন্য তাদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুরক্ষিত রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

হাইকমিশনার এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সংরক্ষণ, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ ও যেকোনো মানবিক সংকটে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য হাইকমিশনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এখন ঢাকার ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


এখন ঢাকার ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ভিত্তিতে ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগটি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ঢাকার ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনকে এ প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বাস্তবায়ন কার্যক্রমে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন ডিএমপির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত সভায় এই পরিকল্পনার কথাটি উপস্থাপন করা হয়।

সভা সূত্রে জানানো হয়েছে, ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন কার্যক্রমে সিটি করপোরেশন যুক্ত থাকবে। প্রধান সড়কগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করতে ধাপে ধাপে এ আধুনিকায়ন মডেলটি পরিচালনা করা হবে।

সভায় জানানো হয় তথ্য, প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ বা বিশেষ তহবিলের প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্টদের আস্থা রয়েছে, পুলিশের নিজেদের তহবিল থেকেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছিল।

দেশীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এসব সিগন্যাল বাতি তৈরি করেছে। বাতিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণেও সক্ষম।

সিগন্যাল স্থাপনের প্রকল্পের অর্থায়ন করছে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন। নিয়ন্ত্রণের কাজটি করছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করছে।

চলতি বছরের ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এসব ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপি। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজিত হয়েছে।

পুলিশ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত, দেশের পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এই প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনের ৬ আমলে অশেষ রহমত ও ফজিলত পেতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


জুমার দিনের ৬ আমলে অশেষ রহমত ও ফজিলত পেতে হবে

ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়েছে। এটি মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন। কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের গুরুত্ব, ফজিলত ও বিভিন্ন আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে।

হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আগের জাতিগুলো জুমার দিনের মর্যাদা জানতে পারেনি। ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রবিবারকে বিশেষ দিন হিসেবে গ্রহণ করেছে। এরপর আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মতকে জুমার দিনের মর্যাদা দান করেছেন।

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৬)

জুমার দিন শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে হযরত আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বিষয় রয়েছে—

১. এ দিন আল্লাহ তাআলা প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন।

২. এ দিনই তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।

৩. এ দিনেই তার মৃত্যু হয়েছে।

৪. জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল করা হয়, যদি সে হারাম কিছু না চায়।

৫. এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৬ আমলের মধ্যে প্রথমটি হলো জুমার নামাজ আদায় করা। এটি জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মুছে দেয়, যদি বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।”

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩)

দ্বিতীয় আমল হলো জুমার দিন গোসল করা। হজরত আউস বিন আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে, দ্রুত মসজিদে যায় এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব দেওয়া হয়।”

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)

তৃতীয় আমল হলো আগে আগে মসজিদে যাওয়া। জুমার নামাজের জন্য আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

যে ব্যক্তি প্রথমে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করার সওয়াব পায়। এরপর যারা আসে তারা যথাক্রমে গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার মতো সওয়াব লাভ করে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)

চতুর্থ আমল হলো জুমার দিনে বেশি বেশি দোয়া করা। জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয়। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম তখন আল্লাহর কাছে ভালো কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।”

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

পঞ্চম আমল হলো সুরা কাহাফ পাঠ করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোয় আলোকিত থাকবে।”

(আল মুসতাদরাক, ২/৩৯৯)

ষষ্ঠ আমল হলো বেশি বেশি দরুদ পড়া। জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের ফজিলত রয়েছে।

হজরত আউস বিন আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“জুমার দিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।”

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

জুমার দিনের আরও কিছু আমল হলো, হাদিস অনুযায়ী জুমার দিনে নখ কাটা, শরীর পরিষ্কার করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, উত্তম পোশাক পরা, মসজিদে গিয়ে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং খুতবার সময় চুপ থাকা উত্তম আমল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ

উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইজা নুদিয়া লিস সালাতি মিন ইয়াওমিল জুমুআতি ফাসআউ ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া জারুল বাইআ, জালিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তালামুন।

অর্থ: “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।”

(সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

সুতরাং, জুমার দিনের মর্যাদা বুঝে নামাজ, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে দিনটি কাটানো উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%