০৬:৫৪ পি.এম
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দমাতে এবার ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিচ্ছে ইরান। তেহরানের নেতারা জানিয়েছেন, ইউরোপে হামলার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। যদি ট্রাম্প উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেন, তাহলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ বিষয়ে পৃথক প্রতিবেদনে ইউরো নিউজ ও ইরান ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখ করেছে যে, ইরানের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নেতারা জানিয়েছেন, তারা দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়াকে টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়ার পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য, দেশটি গত মাসে তাদের বাজমার বিমানঘাঁটিতে মার্কিনিদের বিমানগুলোর জন্য রিফুয়েল করার অনুমতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন
এছাড়া, সাইপ্রাসকেও টার্গেট করার চিন্তা রয়েছে। গত মার্চে দেশটিতে ব্রিটিশদের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে আবারও হামলা চালায়, তাহলে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাব-সি ফাইবার অপটিক ক্যাবলকে টার্গেট করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নামে পরিচিত। এতে উল্লেখ করা হয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। তবে, ফলপ্রসূ আলোচনা ছাড়াই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক শীর্ষপদগুলোতে কট্টরপন্থিদেরকে এনে নতুন করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে তাদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
ইরানের সেনাবাহিনীর অন্যতম চৌকস ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণমাত্রার কোনো হামলা চালায়, তাহলে তা শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং, দূরের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোকেও টার্গেট করবে ইরান।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী
যুদ্ধের শুরুতে ইরান কিছুটা ইঙ্গিতও দিয়েছিল। ওই সময় ভারত মহাসাগরে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে দূরপাল্লার মিসাইল হামলা চালিয়েছিল দেশটি। এছাড়া, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত মাসে জর্ডানে ইরানের নিখুঁত হামলায় তিন জন মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনার মাধ্যমে তেহরান দূরে হামলার সক্ষমতা দেখিয়েছিল।
এদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া ইতোমধ্যে ইরানে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক সামগ্রীর একটি চালান পাঠিয়েছে। সম্প্রতি এই বিশাল অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান নিয়ে কাস্পিয়ান সাগর পারি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ।
ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে ব্যবহৃত জাহাজগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে কোম্পানিটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান ও মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে একে অপরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান।
প্রসঙ্গত, এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে তারা। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন