প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের সেভেন সিস্টার্সের অন্তর্গত অরুণাচল প্রদেশের কিছু ভূখণ্ড দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চীনের বিরুদ্ধে। চীনা সেনাবাহিনীর বাধার মুখে, ভারতীয় সেনাবাহিনী নিজেদের সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টহল পয়েন্টে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি এমনটি দাবি করা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারের মিত্র আঞ্চলিক রাজনীতিবিদদের একটি অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে। খবর ইন্ডিয়া টুডে’র মাধ্যমে এসেছে এই তথ্য।
অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সীমান্তে অরুণাচল প্রদেশের কিছু ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে চীন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টহল পয়েন্টে প্রবেশ করতে দেয় না চীনা সেনারা।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল নয়াদিল্লির রাজনীতিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় চীনের কথিত ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে নীরব থাকার জন্য মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো কঠোর সমালোচনা করেছে।
এটি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়ে আলোচনা চলছে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে। ভারতের চীনের সঙ্গে ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সীমান্তজুড়ে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের মতো অঞ্চল প্রবাহিত এই সীমান্ত।
এমনকি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা কোথায়, তাতেও ভারত ও চীনের মধ্যে মতানৈক্য বিদ্যমান। এই রেখাটি দুই দেশের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের মধ্যে ধারণাগত বিভাজনরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে, চীনা বাহিনীর ভারতীয় ভূখণ্ড দখল নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভারতীয় সেনাবাহিনী 'ভুল এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ নাকচ করার ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে কম দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, "নয়াদিল্লি সবসময় চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় জোর দিয়ে এসেছে যে, সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি এবং এসব এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমরা এটাও বলেছি যে, সীমান্ত পরিস্থিতি আমাদের বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলবে।"
নয়াদিল্লির মতো সতর্কতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিংও। নতুন করে সীমান্তে কোনো উত্তেজনার বিষয়টি তারা স্বীকারও করেনি, আবার অস্বীকারও করেনি।
বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, "এই মুহূর্তে চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল।" গত সপ্তাহে দুই দেশ চীন-ভারত সীমান্তবিষয়ক ৩৬তম বৈঠক করেছে। দুই পক্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে রক্ষা করতে সম্মত হয়েছে।
এর আগে, চীনের কথিত ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দলকে রাজ্যের প্রত্যন্ত ওই এলাকায় পাঠায় পিপলস পার্টি অব অরুণাচল। এই পিপলস পার্টি অব অরুণাচল বিজেপির নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক জোট নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের অংশ।
ওই এলাকা পরিদর্শনের পর অনুসন্ধানী দলটি জানিয়েছে যে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের তাসিং এলাকার ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী টহল দিতে পারে না। এই সময়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, বর্ষার আগের ও বর্ষাকালের প্রবল বৃষ্টিপাত এবং এর ফলে সৃষ্ট ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। অন্যদিকে, এই সময়জুড়ে সীমান্ত এলাকায় অধিকতর সক্রিয় থাকে চীনা বাহিনী। এর ফলে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় পক্ষের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের সহসভাপতি কালিং জেরাংয়ের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা অনুসন্ধানী দলকে জানিয়েছেন যে, ২০২৩ সালে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের পর ভারতীয় বাহিনী সীমান্তের একটি টহল পয়েন্ট শেরা-৫ ছেড়ে দেয়।
জেরাং বলেন, "পূর্বপুরুষদের সময় থেকে ব্যবহার করে আসা শিকারের জমি হারানোর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। মাঠপর্যায়ের এসব অনুপ্রবেশের ঘটনা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এসব ভূখণ্ড দখল নতুন বা হঠাৎ করে ঘটেনি; বরং বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে এর বিস্তার ঘটেছে।"
তিনি আরও বলেন, "কেন্দ্র ও রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারগুলো সীমান্ত এলাকার মানুষকে পিঠ দেখাচ্ছে।"
গত মাসে স্থানীয় একটি উপজাতীয় সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটিও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি দেয়। তাতে সংগঠনটি জানায়, চীনের ভূখণ্ড দখল বহুগুণ বেড়েছে এবং যতটা সম্ভব বেশি জমি দখলের উদ্দেশ্যেই তা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন