ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকায় শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সিরিজ প্রদর্শনী


ঢাকায় শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সিরিজ প্রদর্শনী

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের প্রযুক্তি, কাঁচামাল এবং আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশন্স ২০২৬’। এই আয়োজন পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ আয়োজিত এবারের প্রদর্শনীতে একই সাথে অনুষ্ঠিত হবে ‘২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’, ‘২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬-সামার এডিশন’ এবং ‘৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’শহরের মধ্যে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সংবাদ সম্মেলনে সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম, গ্রুপ সিইও এস. এস. সারওয়ার, নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম এবং গ্রুপ ডিরেক্টর অভিষেক দাস উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রদর্শনীতে ৩৭টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৭৫টি কোম্পানি অংশ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ হাজার ২৪৫টির বেশি বুথ ও প্যাভিলিয়ন থাকবে। চার দিনের আয়োজনে ১৬ হাজারের বেশি ব্যবসায়িক দর্শনার্থী আসবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।

টেক্সটেক বাংলাদেশ প্রদর্শনীতে পোশাক ও টেক্সটাইল উৎপাদনের বিভিন্ন মেশিনারি, অটোমেশন প্রযুক্তি, স্মার্ট ম্যাটেরিয়ালস এবং আধুনিক উৎপাদন সরঞ্জামের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শোতে বিভিন্ন ধরনের সুতা, কাপড়, ট্রিমস এবং অ্যাকসেসরিজ প্রদর্শনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সোর্সিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ডাই + কেম বাংলাদেশে টেক্সটাইল উৎপাদনে ব্যবহৃত ডাইস্টাফ, বিশেষায়িত কেমিক্যাল এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সমাধান তুলে ধরা হবে।

ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব এবার বিশেষভাবে দেওয়া হয়েছে। এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন জোন’। হল বি-তে এ বিশেষ জোনে পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানায় প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো এবং স্মার্ট ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হবে। এখানে ইআরপি, অটোমেশন, ক্লাউডভিত্তিক সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি এবং ডিজিটাল মেশিনারিজসহ আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করার আশা রয়েছে।

আরও পড়ুন: মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: শামা ওবায়েদ

আয়োজকেরা বলছেন, বৈশ্বিক পোশাক ও টেক্সটাইল বাজারে বর্তমানে উৎপাদনের স্বচ্ছতা, দ্রুত সরবরাহ, টেকসই উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নমনীয়তার বিষয়গুলো ক্রেতাদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর এবারের আয়োজন দেশের শিল্পের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি চারটি আন্তর্জাতিক সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়েছে। এসব সেমিনারে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের নতুন প্রযুক্তি, টেকসই উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে।

চার দিনের প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি কারখানা মালিক, প্রস্তুতকারক, প্রধান নির্বাহী, উৎপাদন ব্যবস্থাপক, মার্চেন্ডাইজার, সোর্সিং কর্মকর্তা, বায়িং হাউস প্রতিনিধি, প্রকৌশলী, ডিজাইনার, আমদানিকারক এবং সরবরাহকারীরা অংশ নেবেন।

এভাবে সহযোগিতাসহ নতুন প্রযুক্তি ও কাঁচামাল সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি নতুন সরবরাহকারীদের সাথে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি হবে বলে আয়োজকেরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২

সেমস-গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী এবং ক্রেতাদের যোগাযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। দেশের ব্যবসায়ীদের বিদেশে গিয়ে ক্রেতা বা সরবরাহকারী খোঁজার পরিবর্তে ঢাকাতেই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।

সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, মরক্কো, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় তাদের টেক্সটাইল সিরিজের বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে এবারের ২৫তম ধারাবাহিক আয়োজনের মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংযোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশদ তথ্য পাওয়া যাবে আয়োজকদের সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে।

আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্র থেমে থাকবে না, তবুও এগিয়ে যেতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে বর্তমান সরকার: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে বর্তমান সরকার: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : সরকার শহীদ পরিবারগুলোর উপযুক্ত পুনর্বাসন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়ন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।

আজ বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় সভাপতির বক্তৃতায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয় এবং নবগঠিত জুলাই অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধার কল্যাণে কাজ করা হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ থাকবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই’২৪ এর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও আহতদের সেবায় সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, এ উদ্দেশ্যে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

সভায় উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আহতদের চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের ও শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসন এবং তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা। দলের সব মত গুলির ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান একটি সহনীয় পর্যায়ে থাকতে পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।

অন্যদিকে, তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের এবং শহীদদের তালিকায় যে সকল ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ এবং জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পায় এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহীদ পরিবার বাদ না পড়েন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫ এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সরকারের মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগস্টের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


আগস্টের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার

২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে মোট রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্টের প্রথম ১৮ দিনে এ পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ২০ লাখ ডলার। এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের রেমিট্যান্স ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে বুধবার এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ আগস্ট একদিনেই দেশে প্রবাসীরা ৮ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের ৩৯৮ কোটি ডলারের তুলনায় ২১.৩ শতাংশ বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অরুণাচলে ভারতের ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে চীন, স্থানীয়দের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


অরুণাচলে ভারতের ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে চীন, স্থানীয়দের অভিযোগ

ভারতের সেভেন সিস্টার্সের অন্তর্গত অরুণাচল প্রদেশের কিছু ভূখণ্ড দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চীনের বিরুদ্ধে। চীনা সেনাবাহিনীর বাধার মুখে, ভারতীয় সেনাবাহিনী নিজেদের সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টহল পয়েন্টে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি এমনটি দাবি করা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারের মিত্র আঞ্চলিক রাজনীতিবিদদের একটি অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে। খবর ইন্ডিয়া টুডে’র মাধ্যমে এসেছে এই তথ্য।

অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সীমান্তে অরুণাচল প্রদেশের কিছু ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে চীন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টহল পয়েন্টে প্রবেশ করতে দেয় না চীনা সেনারা।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল নয়াদিল্লির রাজনীতিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় চীনের কথিত ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে নীরব থাকার জন্য মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো কঠোর সমালোচনা করেছে।

এটি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়ে আলোচনা চলছে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে। ভারতের চীনের সঙ্গে ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সীমান্তজুড়ে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের মতো অঞ্চল প্রবাহিত এই সীমান্ত।

এমনকি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা কোথায়, তাতেও ভারত ও চীনের মধ্যে মতানৈক্য বিদ্যমান। এই রেখাটি দুই দেশের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের মধ্যে ধারণাগত বিভাজনরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে, চীনা বাহিনীর ভারতীয় ভূখণ্ড দখল নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভারতীয় সেনাবাহিনী 'ভুল এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ নাকচ করার ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে কম দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, "নয়াদিল্লি সবসময় চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় জোর দিয়ে এসেছে যে, সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি এবং এসব এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমরা এটাও বলেছি যে, সীমান্ত পরিস্থিতি আমাদের বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলবে।"

নয়াদিল্লির মতো সতর্কতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিংও। নতুন করে সীমান্তে কোনো উত্তেজনার বিষয়টি তারা স্বীকারও করেনি, আবার অস্বীকারও করেনি।

বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, "এই মুহূর্তে চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল।" গত সপ্তাহে দুই দেশ চীন-ভারত সীমান্তবিষয়ক ৩৬তম বৈঠক করেছে। দুই পক্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে রক্ষা করতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে, চীনের কথিত ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দলকে রাজ্যের প্রত্যন্ত ওই এলাকায় পাঠায় পিপলস পার্টি অব অরুণাচল। এই পিপলস পার্টি অব অরুণাচল বিজেপির নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক জোট নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের অংশ।

ওই এলাকা পরিদর্শনের পর অনুসন্ধানী দলটি জানিয়েছে যে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের তাসিং এলাকার ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী টহল দিতে পারে না। এই সময়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, বর্ষার আগের ও বর্ষাকালের প্রবল বৃষ্টিপাত এবং এর ফলে সৃষ্ট ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। অন্যদিকে, এই সময়জুড়ে সীমান্ত এলাকায় অধিকতর সক্রিয় থাকে চীনা বাহিনী। এর ফলে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় পক্ষের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের সহসভাপতি কালিং জেরাংয়ের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা অনুসন্ধানী দলকে জানিয়েছেন যে, ২০২৩ সালে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের পর ভারতীয় বাহিনী সীমান্তের একটি টহল পয়েন্ট শেরা-৫ ছেড়ে দেয়।

জেরাং বলেন, "পূর্বপুরুষদের সময় থেকে ব্যবহার করে আসা শিকারের জমি হারানোর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। মাঠপর্যায়ের এসব অনুপ্রবেশের ঘটনা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এসব ভূখণ্ড দখল নতুন বা হঠাৎ করে ঘটেনি; বরং বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে এর বিস্তার ঘটেছে।"

তিনি আরও বলেন, "কেন্দ্র ও রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারগুলো সীমান্ত এলাকার মানুষকে পিঠ দেখাচ্ছে।"

গত মাসে স্থানীয় একটি উপজাতীয় সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটিও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি দেয়। তাতে সংগঠনটি জানায়, চীনের ভূখণ্ড দখল বহুগুণ বেড়েছে এবং যতটা সম্ভব বেশি জমি দখলের উদ্দেশ্যেই তা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙামাটি–রাজস্থলী সড়কে পিকআপ-জীপ চলাচলে বাধার অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎ ‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি প্রতিনিধি

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


রাঙামাটি–রাজস্থলী সড়কে পিকআপ-জীপ চলাচলে বাধার অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি

রাঙামাটি–রাজস্থলী সড়কে যাত্রীবাহী পিকআপ ও জীপ গাড়ি চলাচলে বাধা, গাড়ি আটকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং চালক-মালিকদের হুমকির অভিযোগ তুলে নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
‎
‎স্মারকলিপিটি রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের পক্ষে গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন এবং পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
‎
‎স্মারকলিপিতে রাঙামাটি যাত্রীবাহী পিকআপ মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং রাঙামাটি জেলা কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ-জীপ গাড়ি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেন, রাঙামাটি থেকে রাজস্থলী রুটে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করছে না। এতে কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলার সাধারণ মানুষ সরকারি-বেসরকারি কাজসহ জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়ছেন।
‎
‎যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দুই সংগঠন যৌথভাবে গত ১৬ আগস্ট থেকে রাঙামাটি–রাজস্থলী রুটে পর্যটকবাহী পিকআপ ও জীপ গাড়ির মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
‎
‎তবে অভিযোগ করা হয়, ওই দিন গাড়ি চলাচল শুরু করতে গেলে চট্টগ্রাম ও রাউজান থেকে আসা কিছু ব্যক্তি এবং চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি ও চালক সমিতির লোকজন এতে বাধা দেন। সকাল ৭টার দিকে সড়কে বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পিকআপ ও জীপ গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হয় এবং কয়েকটি গাড়ি আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
‎
‎এ ছাড়া রাজস্থলী থেকে যাত্রী নিয়ে রাঙামাটির উদ্দেশে আসা একটি পিকআপ-জীপ গাড়িকে কাপ্তাইয়ের রাইখালী এলাকায় যাত্রী নামিয়ে হয়রানি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়। গত ১৭ আগস্ট একই এলাকায় আবারও গাড়ি আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, পিকআপ ও জীপ গাড়ি চলাচল অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানো হতে পারে এবং রাঙামাটি থেকে কোনো কার, মাইক্রোবাস বা অন্যান্য যানবাহন রাউজানের ওপর দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় পিকআপ ও জীপ গাড়ির মালিক এবং চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
‎
‎আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, রাঙামাটি–রাজস্থলী সড়কে দীর্ঘ প্রায় দুই থেকে তিন বছর নিয়মিত যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। স্থানীয় মালিক ও শ্রমিকরা জেলার অভ্যন্তরে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাত্রী পরিবহন করতে চাইলে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে স্মারকলিপিতে।
‎

‎
‎এ অবস্থায় রাঙামাটি–রাজস্থলী রুটে যাত্রীসেবা দিতে গিয়ে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ও হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে পিকআপ ও জীপ গাড়ি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।
‎
‎স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি যাত্রীবাহী পিকআপ মালিক সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহিন আল মামুন ও নির্মল বড়ুয়া মিলন, সভাপতি প্রজেশ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক লিটন চাকমা, রাঙামাটি জেলা কার, মাইক্রোবাস ও জীপ গাড়ি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন, লাইন সম্পাদক বাবু টুলু বড়ুয়া এবং প্রচার সম্পাদক মো. আরাফাত হোসেনসহ অন্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%