০২:১৪ পি.এম
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ষড়যন্ত্রের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইনাল হারার প্রশ্নই ওঠে না। বরং টানা সফর, ঠাসা সূচি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবের কারণে দলের শারীরিক ক্লান্তি ছিল প্রধান কারণ।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কিছু মানুষ দাবি করেন, মাঠের বাইরের কোনো প্রভাব বা সমঝোতার কারণে আলবিসেলেস্তেরা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচটি হেরেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও এনজো ফার্নান্দেজের পর এমিলিয়ানো মার্তিনেজও এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সম্প্রতি আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন ও এস্তেবান এদুলের অনুষ্ঠানে ‘লস এদুল’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এসব ষড়যন্ত্রতত্ত্ব শুনলে আমার হাসি পায়। পুরো ৫১ দিনের সফর আর আমাদের পরিশ্রম আমি নিজের চোখে দেখেছি। আরও একটি দিন বিশ্রাম পেলে আমরা ভালো অবস্থায় থাকতাম। বিশ্বকাপের ফাইনালে কে হারতে চায়? যত টাকাই দেওয়া হোক, এটা অসম্ভব।”
আরও পড়ুন: আর্সেনাল ১৪ বছর পর অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে হারিয়ে শীর্ষে
আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য বিশ্বাস করার প্রবণতারও সমালোচনা করেছেন। তার কথায়, “আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা আসে, মানুষ তা-ই বিশ্বাস করে। এসব তত্ত্ব কোথা থেকে এসেছে, সেটাই বুঝতে পারি না।”
এনজো ফার্নান্দেজও ফাইনাল নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব আলোচনা এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে তার মা-বাবাও ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, আসলে কী ঘটেছিল। এনজো বলেন, “আমার মা-বাবা ফোন করে জানতে চাইছিলেন, কী হয়েছিল। আসলে কিছুই হয়নি। সব মিথ্যা, সব বানানো কথা। স্পেন আমাদের যোগ্যভাবেই হারিয়েছে। প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানানো উচিত।”
স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বও স্বীকার করেছেন এনজো। তার ভাষায়, “ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। এটা মেনে নিতে হবে এবং স্বীকার করতে হবে যে প্রতিপক্ষই ভালো ছিল।”
পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলেছিলেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। তিনি দাবি করেছিলেন, ফাইনালে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। বরং শারীরিকভাবে প্রায় নিঃশেষ হয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। অ্যাকিলিস টেন্ডনের সমস্যার কারণে নিজেও ফাইনালের আগে ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার।
আরও পড়ুন: ১৪ বছর পর অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে হারিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল
এবার মার্তিনেজও পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে শারীরিক ক্লান্তির কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, টুর্নামেন্টের ঠাসা সূচি, একের পর এক দীর্ঘ সফর এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল।
বিশেষ করে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মধ্যবর্তী সময় নিয়ে অসন্তুষ্ট মার্তিনেজ। তিনি বলেন, “কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের বিশ্বকাপে সবকিছু অনেক বেশি বাণিজ্যিক বিষয়কে কেন্দ্র করে হয়েছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাঝে মাত্র তিন দিন সময় পেয়েছিলাম। এর মধ্যে সফর করতে হয়েছে, অনুশীলনও সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে। আমরা পুরোপুরি ক্লান্ত ছিলাম।”
তবে শারীরিক ক্লান্তির কথা বললেও স্পেনের জয়কে খাটো করেননি মার্তিনেজ। বরং ফাইনালে প্রতিপক্ষ যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তবে ম্যাচের ফল নিয়ে একটি আক্ষেপ এখনও রয়ে গেছে দিবুর। তার বিশ্বাস, ফাইনাল টাইব্রেকারে গড়ালে জয় পেত আর্জেন্টিনাই।
মার্তিনেজের দাবি, স্পেনের ফুটবলাররাও টাইব্রেকারে যেতে চাইছিলেন না। তিনি বলেন, “ওদের বলতে শুনেছিলাম, এখানেই ম্যাচ জিততে হবে, টাইব্রেকারে যাওয়া চলবে না। আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, দিনটা আমারই হবে।”
আরও পড়ুন: রেসিংয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল, জয়ে তিনে উঠল রিয়াল
এনজোও একই আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষায়, “টাইব্রেকারে গেলে আমরাই জিততাম। আমাদের দলে দিবু ছিল। আমরা জানতাম, ওখানে সে কখনো ব্যর্থ হয় না।”
ফাইনালে ১১টি সেভ করেও শেষ পর্যন্ত দলকে শিরোপা জেতাতে পারেননি মার্তিনেজ। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের জয়সূচক গোলটি আটকাতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে টাইব্রেকারে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগও আর পাননি আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন