১২:৩৫ পি.এম
ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : ইউক্রেন জানায়, রাশিয়ার হামলায় মানবিক সহায়তা বিতরণের জন্য ব্যবহৃত একটি স্কুলে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনার ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি সফলভাবে শেষ হয়েছে, যা শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল।
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন এলাকায় আবার হামলা শুরু করেছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতীক গাধা ও হাতির ইতিহাস
মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে রাশিয়ার দখলে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই বিরল যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতিটি রবিবার শেষ হয় এবং এ সময় কোনো পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেনি।
যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পর, খেরসনের পাশের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি গ্রামে রাশিয়া দফায় দফায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় একটি স্কুলে মানবিক সহায়তা নিতে এসেছিলেন। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশিত ভিডিওতে হামলায় স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশ থেকে তখনো ধোঁয়া বের হচ্ছিল এবং উদ্ধারকর্মীরা সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দৈনিক ভাষণে বলেন, ‘প্রতি সোমবার ওই স্কুলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো।’
আরও পড়ুন: কৃষ্ণসাগর এখন বিশ্বের সর্বাধিক বিপজ্জনক নৌপথ, রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ও নাবিকের প্রাণহানি
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ সেখানে পৌঁছানোর পরপরই রাশিয়া প্রথম দফায় কয়েকটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা হামলা চালায়। এরপর আবারও হামলা হয়। দ্বিতীয় দফায় আরও কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল আশ্রয়কেন্দ্রটি।’
অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন টেলিগ্রামে জানান, নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ও চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
জরুরি সেবা বিভাগ নিহত দুই উদ্ধারকর্মীর পরিচয় প্রকাশ করেছে, তারা হলেন ৪৪ বছর বয়সী ডেনিস কোনোভালেঙ্কো ও ওলেক্সি সুশচেভস্কি।
বিভাগটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিদিনই তারা মানুষের সহায়তায় বের হতেন। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করে এবং নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে তাঁরা অন্যদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করতেন।’
আরও পড়ুন: নারীদের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতায় গুরুত্ব দিচ্ছেন এমিনি এরদোয়ান
জেলেনস্কি বলেন, ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা যেতে পারত।
তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। রাশিয়া আরও হত্যাকাণ্ডের পথেই এগোতে চায়। এর অবশ্যই জবাব দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন