০৬:২৮ পি.এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধির সংবাদ অনুযায়ী, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে, অভিযুক্তকে অতিসত্তর গ্রেপ্তার করতে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করতে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’-এর ব্যানারে তারা মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।
মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার নিবন্ধন শুরু
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষক ঘুরে, প্রক্টর কী করে?’, ‘হয়রানির গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘নারীবান্ধব ক্যাম্পাস চাই’সহ নানান স্লোগান দেন। পরবর্তীতে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে নারী নিরাপত্তা মঞ্চের সংগঠক ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া জানান, গত ১২ মে সংঘটিত ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার ঘটনায় অভিযুক্ত এখনও আইনের আওতায় আসেনি।
৪০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করা কিংবা তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি খুলে বলেন, আন্দোলনের মুখে প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিল। সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: কাতারএনার্জি আগামী বছর ৪০ কার্গোর ২৬টি সরবরাহ করবে
সোহাগী আরও বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ১২ মের ঘটনা না, পরবর্তী সময়েও ক্যাম্পাসে একাধিক নিপীড়নের ঘটনার উদাহরণ রয়েছে।
তিনি জানান, প্রশাসনকে বারবার বলেছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়তো তাদের দায়িত্ব নয়, কিন্তু ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। সেই দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
গত আড়াই বছরে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ অভিযোগের কার্যকর সমাধান হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
সোহাগী বলেন, আজকের নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি একটি দিনেই তৈরি হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার ফলেই এই বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ হোক : রিহ্যাবের দাবি
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে প্রশাসনের বিলম্বের সমালোচনা করেন তিনি এবং বলেন, প্রশাসন সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনও প্রকাশ হয়নি।
নারী নিরাপত্তা মঞ্চের পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানান দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নারী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্দোলন আরো শক্তিশালী করা হবে বলেও জানান।
মানববন্ধনে একই সংগঠনের আরেক সদস্য ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিসা জামান জানান, পরিবার নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের প্রত্যাশায় তাদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
লামিসা ঘোষণা দেন, অনেক সময় দেখা যায়, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে বলছেন নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের নয়। তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার—এই প্রশ্ন থেকেই যায়।
আরও পড়ুন: বরিশালে দুই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো পরিবেশ অধিদফতর, বাধা দেয়ায় আটক ১
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করে বলেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের শনাক্তকরণ বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্ট করার মতো কোন তথ্যও দেওয়া হয়নি।
লামিসা আরও জানান, ঘটনায় পরে প্রায় আড়াই হাজার নারী শিক্ষার্থী ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দাবিগুলোর কোনটিই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্তের তথ্য প্রকাশের কথা বললেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। ছুটির মধ্যেও নারী নিরাপত্তা মঞ্চ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ছুটিকালেও ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকায় নারী হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। একজন নারী শিক্ষার্থী প্রতিদিন নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে, সেই ক্যাম্পাসকে নিরাপদ বলা যায় না।
আরও পড়ুন: ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জবাবদিহি সংশ্লিষ্টদেরই করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন