ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের বাজারে ইলিশের ছড়াছড়ি, বড় পাঙাশও মিলছে


নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের বাজারে ইলিশের ছড়াছড়ি, বড় পাঙাশও মিলছে

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের পর চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকারে নেমে পড়েছেন হাজার হাজার জেলে। ইলিশ পাওয়ার আশায় চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার নৌ এলাকায় জেলেরা বিচরণ করছেন। কিছু জেলে আড়তে নিয়ে আসছেন ইলিশ, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

এতে নদী উপকূলীয় আড়ত ও শহরের সব বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে। তিন সপ্তাহের অবসর সময় কাটিয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে ইলিশের দাম আগের মতোই রয়েছে। বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আগের দামে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে জেলেদের ইলিশ আহরণ ও কেনাবেচার দৃশ্য দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে অনেক জেলে ইলিশ ধরার জন্য পদ্মা-মেঘনায় নেমে পড়েন। ভোরের আলো দেখা দিতেই তারা মাছঘাটে ভিড় করতে শুরু করেন। হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড় করছে। জেলেরা প্লাস্টিকের ট্রেতে করে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ নিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন: বগুড়ার ৬ এলাকায় বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি, শনাক্ত ৩ রোগী

এই মাছঘাটে প্রায় ২০টি ইলিশের আড়ত রয়েছে। জেলেরা এসব আড়তে এসে মাছের স্তূপ করছেন এবং কিছু সময়ের মধ্যে হাঁকডাকে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এখানে সংরক্ষণ করে ইলিশ বিক্রি করা হয় খুবই কম। শহরে বিক্রির জন্য এক ধরনের খুচরা ব্যবসায়ী এবং বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রির জন্য আরেক ধরনের ব্যবসায়ী এই ঘাট থেকে তাজা ইলিশ ক্রয় করে নিয়ে যান।

গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার জানান, রাতের নদীতে নেমে ভোরে ঘাটে এসে ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন, এভাবে ইলিশ পাওয়া গেলে কয়েক দিনের মধ্যে তাদের ঋণ পরিশোধ হবে।

আরেক জেলে আবুল কালাম খান জানান, তারা ৭ জন মিলে মধ্যরাতে নদীতে নেমেছেন। তাদের পাওয়া ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকায়। তিনি জানান, কিছু সময় পর আবারও ইলিশ শিকারে নামবেন। তিনি মনে করেন, কয়েক দিন পরে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসবে।

ঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইলিশের দাম কমবে না। কারণ চাহিদা বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ছোট সাইজের অর্থাৎ ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ছাতকে রোপা আমন কাটার ধুম, কৃষকরা সন্তুষ্ট

তিনি আরও জানান, কিছু জেলে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ মাছ পাচ্ছেন। বড় সাইজের পাঙাশ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা এবং ছোট সাইজের পাঙাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের আমদানি ভালো থাকলে দাম কমবেশি হতে পারে।

আরেক আড়তদার মো. সেলিম বলেন, সকাল থেকে মাছ আসা শুরু হয়েছে। আজ এবং আগামীকাল পর্যন্ত বোঝা যাবে ইলিশের আমদানি কেমন। কারণ বিগত বছরগুলোতে দুই দিন পরে ইলিশের আমদানি কমে গেছে।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া জানান, নিষেধাজ্ঞার পরে বড় সাইজের ইলিশ বেশি আসছে। ছোট সাইজের ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। ইলিশ পরিমাণে কম পাওয়া গেলেও পাঙাশ মাছ পাওয়ায় জেলেরা লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এই সময় নদীতে ইলিশ ভরপুর থাকত; কিন্তু অভিযান দিয়ে লাভ হয়নি। কারণ এক শ্রেণির জেলে মা ইলিশ মেরেছে। প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: মাকে গলাকেটে হত্যা করা শিক্ষক মামুন হৃদরোগে মারা গেলেন

শুক্রবার শহরের বিভিন্ন বাজারে ব্যাপক ইলিশের আমদানি দেখা যায়। তবে বেশ কিছু মাছ নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধরা ইলিশ হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিকালের বাজার হিসেবে পরিচিত শহরের বিপণীবাগ বাজারে এমন চিত্রই দেখা যায়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় দুটি অভিযান কঠোর থাকায় জেলেরা সুফল পাচ্ছেন। তারা ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ পাচ্ছেন। সরকারিভাবে পাঙাশ বেড়ে ওঠার জন্য প্রকল্প দেওয়া হলে এটি ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, কার্যকর নভেম্বর থেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ এম


যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, কার্যকর নভেম্বর থেকে

যুক্তরাজ্যের সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে, যারা সেখানে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার নিয়মে কিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। সহজভাবে বলা যায়, যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে হলে শিক্ষার্থীদের পকেটে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি অর্থ থাকতে হবে।

কী পরিবর্তন আসছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এর প্রভাব কী হবে, তা এক নজরে দেখা যাক:

খরচ বাড়ল লন্ডনে

যদি আপনি লন্ডনে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে জীবনযাত্রার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ১,৫২৯ পাউন্ডের পরিবর্তে এখন থেকে ১,৫৭০ পাউন্ড দেখাতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত সর্বোচ্চ ৯ মাসের হিসাব দেখাতে হয়। ফলে আগের ১৩,৭৬১ পাউন্ডের পরিবর্তে এখন দেখাতে হবে ১৪,১৮০ পাউন্ড। এর ফলে বছরে আপনার খরচ বেড়ে যাচ্ছে ৩৬৯ পাউন্ড।

লন্ডনের বাইরেও বেড়েছে খরচ

লন্ডনের বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম খরচে পড়াশোনা করতে চাইলে, সেখানে খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতদিন প্রতি মাসে ১,১৭১ পাউন্ড দেখাতে হতো, যা বেড়ে এখন ১,২০৩ পাউন্ড হবে। ৯ মাসের হিসাবে এই অঙ্কটি ১০,৫৩৯ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১০,৮২৭ পাউন্ডে পৌঁছাবে। অর্থাৎ, লন্ডনের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড বেশি দেখাতে হবে।

টাকার হিসাবটা কীভাবে করবেন?

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন—জীবনযাত্রার এই বাড়তি খরচ আপনার ইউনিভার্সিটির টিউশন ফির সাথে যুক্ত নয়। টিউশন ফি আলাদাভাবে দিতে হবে। এছাড়া ভিসার আবেদন করার ফি এবং হেলথ সারচার্জের খরচও রয়েছে। তাই যুক্তরাজ্যে যাওয়ার মোট বাজেট নির্ধারণের সময় এই সবগুলো খরচ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

টাকা দেখানোর নিয়মকানুন

আপনি যদি আগামী ৩০ নভেম্বর কিংবা তার পরে ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে নতুন এই বর্ধিত নিয়মটি আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে। ভিসার আবেদন করার আগে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই পুরো অর্থ টানা ২৮ দিন ধরে ঠিকঠাক থাকতে হবে।

টাকা কার অ্যাকাউন্টে থাকতে হবে?

চিন্তার কিছু নেই, এই অর্থ আপনার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকতে পারে, অথবা আপনার বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টেও থাকতে পারে। ব্যাংক ব্যালেন্স ছাড়াও, আপনি চাইলে স্টুডেন্ট লোন বা অফিসিয়াল কোনো স্পনসরশিপের কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করতে পারেন। তবে, আপনি যদি ইতোমধ্যে বৈধভাবে অন্তত এক বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে থাকেন, তাহলে নতুন করে এই আর্থিক প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন সাধারণত হবে না।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে হামলার কারণে ঢাকা-সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ এম


সৌদি আরবে হামলার কারণে ঢাকা-সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা-সৌদি রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এই রুটে শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধের কারণে শুক্রবার পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশের ৩৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১৫টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, ইন্ডিগো এয়ারের ৩০টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।

এতে সৌদিগামী ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ করছে বেবিচক।

এর আগে, গত ১১ অক্টোবর হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট বন্ধ রাখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এছাড়া, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতি সনাক্ত করেছে পেট্রোবাংলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ এম


ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতি সনাক্ত করেছে পেট্রোবাংলা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতি পেট্রোবাংলা সনাক্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসটিকে থার্মোজেনিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গ্যাসের উৎস ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই সময় গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে তা বন্ধ করার জন্য রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে আপাতত পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা আগুন নেভানোর বা গ্যাস বের হওয়ার পথ বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের মতে, জোর করে আগুন নেভানো বা গ্যাসের পথ বন্ধ করা হলে ভূগর্ভে গ্যাস জমে উচ্চচাপ তৈরি হতে পারে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে।

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, "প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক বলে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে কিছুটা তেলের মিশ্রণ বা উচ্চ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতিও রয়েছে।" গ্যাসের উৎস ও পরিমাণ নিশ্চিত করতে ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই সময় আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মো. শোয়েব আরও জানান, পর্যবেক্ষণ শেষে যদি আগুনের শিখা একই রকম থাকে বা উচ্চতা বাড়ে, তাহলে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। মূল কূপের পাশ দিয়ে বিকল্প কূপ খনন করে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে। তবে গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, "কোনোভাবেই জোর করে আগুন নেভানো যাবে না। গ্যাস বের হওয়ার পথও বন্ধ করা যাবে না। এতে ভূগর্ভে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।" এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

আশপাশের স্তর থেকেও বের হচ্ছে গ্যাস

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আশপাশের কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাস জ্বলতে দেখা গেছে বলে জানান পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা। ভূগঠনের পরিবর্তনের কারণে এসব স্তর দিয়ে গ্যাস বের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বাপেক্স ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূগর্ভে গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক মজুত পাওয়া গেলে সেখানে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, "এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।"

২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা, তবু মানুষের ভিড়

গত ২৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। মাটির প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর পর গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে গ্যাসে আগুন ধরে যায়। শুক্রবার পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে আগুন জ্বলছিল।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি জানতে বাপেক্সের কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

আদেশে ঘটনাস্থল ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়া ও লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও প্রতিদিন ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। বিশেষ করে বিকেলের দিকে মানুষের সমাগম বাড়ছে। অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "বাপেক্সের পক্ষ থেকে আগে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল। তাঁদের আশা ছিল, এর মধ্যে আগুনের তীব্রতা কমবে। কিন্তু আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।"

আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, "আগুনের কারণে সড়কে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। যানবাহন নিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে।"

স্থানীয় শহিদুল আলম বলেন, "প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেকে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ঘটনাস্থলের কাছে যাচ্ছেন। এভাবে মানুষের ভিড় চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

গ্যাসের আগুনের কারণে একদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি, অন্যদিকে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১ নভেম্বর সেন্টমার্টিন খুললেও পর্যটকরা যেতে পারছেন না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ এম


১ নভেম্বর সেন্টমার্টিন খুললেও পর্যটকরা যেতে পারছেন না

দীর্ঘ বিরতির পর আগামী রোববার (১ নভেম্বর) থেকে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য খুলছে। তবে প্রথম দিন থেকেই দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে না। জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও দাফতরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আগামী ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। তবে ১ নভেম্বর থেকেই সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন শুরু হবে।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন স্কোয়াবের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য তিনটি জাহাজ অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়াও আরও সাতটি জাহাজ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল ও পর্যটকের সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে ২৭ অক্টোবর তা সংশোধন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এর ধারাবাহিকতায় ২৯ অক্টোবর তিনটি জাহাজ পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাহাজ চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদফতরের ভয়েজ লাইসেন্স, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট এবং জেলা পরিষদের অনুমতি প্রয়োজন। এসব অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে জাহাজ চলাচল শুরু করা যাবে। বর্তমানে তিনটি জাহাজ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও আরও সাতটি জাহাজ প্রস্তুত করার কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সাধারণ সম্পাদক আখতার নুরও একই ধরনের আশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন পাওয়ার কথা থাকলেও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে দেরি হয়েছে। গতকাল সেই ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। এখন ভয়েজ লাইসেন্স ও রুট পারমিটসহ আরও কিছু অনুমোদন নিতে হবে। শুক্র ও শনিবার থাকায় এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে।

আখতার নুর আশা প্রকাশ করেছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া যাবে। এরপর ৩ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।

দৈনিক যেতে পারবেন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক

এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে অনলাইন নিবন্ধন, কিউআর কোড এবং ট্রাভেল পাসের সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমা কার্যকর করতে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কিউআর কোড যুক্ত ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে। এর ফলে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না।

তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। দ্বীপটির প্রতিবেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই পর্যটকের সংখ্যা সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাহাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সরকারের অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হবে। এরপর পর্যটকদের ট্রাভেল পাস দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে পর্যটন বোর্ড।

মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী আরও জানান, পরিবেশ সুরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। তবে এটি শুধুমাত্র সাময়িক উদ্যোগ নয়, স্থায়ী সমাধানের দিকেও যেতে হবে। প্রতিটি স্থানে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। সরকার নিয়মিত এসব কার্যক্রম তদারক করবে।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের অনলাইন নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জাহাজ চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিনের সমুদ্রযাত্রা শুরু হচ্ছে না। ফলে দ্বীপ ভ্রমণের জন্য নিবন্ধন শুরু হলেও জাহাজে ওঠার অপেক্ষায় থাকতে হবে পর্যটকদের আরও কয়েক দিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%