০৪:০৮ এম
দীর্ঘ বিরতির পর আগামী রোববার (১ নভেম্বর) থেকে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য খুলছে। তবে প্রথম দিন থেকেই দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে না। জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও দাফতরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আগামী ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। তবে ১ নভেম্বর থেকেই সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন শুরু হবে।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন স্কোয়াবের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য তিনটি জাহাজ অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়াও আরও সাতটি জাহাজ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল ও পর্যটকের সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে ২৭ অক্টোবর তা সংশোধন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এর ধারাবাহিকতায় ২৯ অক্টোবর তিনটি জাহাজ পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে ট্রাক-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত
তিনি আরও বলেন, জাহাজ চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদফতরের ভয়েজ লাইসেন্স, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট এবং জেলা পরিষদের অনুমতি প্রয়োজন। এসব অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে জাহাজ চলাচল শুরু করা যাবে। বর্তমানে তিনটি জাহাজ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও আরও সাতটি জাহাজ প্রস্তুত করার কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সাধারণ সম্পাদক আখতার নুরও একই ধরনের আশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন পাওয়ার কথা থাকলেও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে দেরি হয়েছে। গতকাল সেই ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। এখন ভয়েজ লাইসেন্স ও রুট পারমিটসহ আরও কিছু অনুমোদন নিতে হবে। শুক্র ও শনিবার থাকায় এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে।
আখতার নুর আশা প্রকাশ করেছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া যাবে। এরপর ৩ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।
দৈনিক যেতে পারবেন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক
আরও পড়ুন: সাত দিনের সফরে ফ্রান্স যাচ্ছেন আইজিপি
এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে অনলাইন নিবন্ধন, কিউআর কোড এবং ট্রাভেল পাসের সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমা কার্যকর করতে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কিউআর কোড যুক্ত ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে। এর ফলে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। দ্বীপটির প্রতিবেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই পর্যটকের সংখ্যা সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাহাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সরকারের অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হবে। এরপর পর্যটকদের ট্রাভেল পাস দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে পর্যটন বোর্ড।
মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী আরও জানান, পরিবেশ সুরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। তবে এটি শুধুমাত্র সাময়িক উদ্যোগ নয়, স্থায়ী সমাধানের দিকেও যেতে হবে। প্রতিটি স্থানে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। সরকার নিয়মিত এসব কার্যক্রম তদারক করবে।
আরও পড়ুন: জাপানি গণমাধ্যমে তারেক রহমানের সফর : ব্যাপক আগ্রহ ও কৌশলগত গুরুত্ব
আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের অনলাইন নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জাহাজ চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিনের সমুদ্রযাত্রা শুরু হচ্ছে না। ফলে দ্বীপ ভ্রমণের জন্য নিবন্ধন শুরু হলেও জাহাজে ওঠার অপেক্ষায় থাকতে হবে পর্যটকদের আরও কয়েক দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন