০৮:৪১ এম
যশোরে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) মারা গেছেন। খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুর বিষয়টি খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর সৈয়দ হাসান আলী নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে হার্ট অ্যাটাকের কারণে মামুনের মৃত্যু হয়। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে তার মাকে হত্যা করেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানিয়েছেন, মামুন একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। তার হাজতি নম্বর ৫১০৫/২৫। রোববার কার্ডিয়াক অ্যাটাকের পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। খুলনা কারাগারের সদস্যরা হাসপাতালে তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। রাত ৮টা ২০ মিনিটে মামুনুর রশিদ মামুন মারা যান। জেলর সৈয়দ হাসান আলী জানিয়েছেন, হাজতির লাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় যশোরে পাঠানো হয়েছে। মামুন বাজেদুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে ছিলেন এবং যশোরের ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮)।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, দশ হাজার টাকা জরিমানা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। ৮/৯ বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন। বনিবনা না হওয়ায় পরে মিথিলাকে তালাক দেন। এরপর ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে বিয়ে করেন। ছয় বছর আগে রিনাও তালাক দিয়ে চলে যান। উভয় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে বিচ্ছেদ ঘটেছিল। মামুন তার মায়ের ওপর স্ত্রীদের বিচ্ছেদের জন্য দায় চাপাতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল।
এলাকাবাসির মতে, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর ২৭ আগস্ট তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। বিকালে মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে আঘাত করলে আনোয়ারার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে মামুন বটি ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামুন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন।
আরও পড়ুন: পাবনায় ছাত্রীনিবাস থেকে কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন