১২:৪৬ এম
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য প্রদান করেন। ছবি: পিএমও
গভীরভাবে বেসরকারি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে লাইসেন্সিং ও অনুমোদন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার করার ঘোষণাও দেন সরকার। এর জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে, যেখানে আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদন পর্যন্ত সকল কার্যক্রম একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কার্যকরী হবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এই সব বিষয় সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫২২ জন
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থায় আবেদন জমা প্রদান, যাচাই, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা সকল কিছু একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সেবাসমূহকে সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি অনুমোদন ও লাইসেন্স সেবার জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) নির্ধারণ করা হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, অনাপত্তি বা ছাড়পত্র প্রদান না করে, তাহলে ‘ডিমড’ বা স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে, যেন তারা দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে পারেন। একই সঙ্গে, কোম্পানির নাম ছাড়পত্র, নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ এবং সনদ প্রদানসহ সম্পূর্ণ নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা দশ দিনের মধ্যে প্রদানের বিষয়টি সহজীকৃত হবে। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ বছরের মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি বিনিয়োগকারী ভিসা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বড় এবং কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য সহায়তা কর্মকর্তা, প্রকল্পভিত্তিক কেস ম্যানেজার এবং সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্কের ব্যবস্থা থাকবে। একইসঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আধুনিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা আরও জোরদার করতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির সম্প্রসারণ, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা পরিচালনা সহজতর করতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে ডিজিটাল বিনিয়োগসেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন এবং লাইসেন্স প্রদানসহ সমস্ত কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
এছাড়া নির্বাচিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প সুবিধা চালু করবে। এর আওতায় জমি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক অনুমোদন পূর্বেই প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন