ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাঙামাটির জুমিয়ারা পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত, আলোচনা জুম চাষের পদ্ধতি নিয়ে


রাঙামাটির জুমিয়ারা পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত, আলোচনা জুম চাষের পদ্ধতি নিয়ে

রাঙামাটি, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ : সোনালি পাকা ধান সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে শোভা পাচ্ছে। জুমের সাথি ফসলের সমাহারও রয়েছে পাকা ধানের সঙ্গে। জুমিয়ারা এখন পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এই তিন পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের প্রাচীনতম পেশা হলো জুম চাষ, যার কারণে তাদের জুমিয়া বলা হয়। যুগ যুগ ধরে পাহাড়িরা সনাতন পদ্ধতিতে জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

পাহাড়ের ঢালে ফসল চাষের এই পদ্ধতিকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় ‘জুম’, ত্রিপুরা ভাষায় ‘হুঁ’, মারমা ভাষায় ‘ইয়া’, পাংখোয়া ও লুসাই ভাষায় ‘ইকপ্রা’, খেয়াং ভাষায় ‘লউ’ এবং খুমি ভাষায় ‘ল’ বলা হয়। তবে পাহাড়ে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ছাড়া অন্য ভাষাভাষীদের কাছে এটি জুম চাষ নামেই পরিচিত।

আরও পড়ুন: মন কাড়ছে টাটকা-নতুন শীতের সবজি, হাত দেওয়া বারণ!

রাঙামাটির আসাম বস্তি-কাপ্তাই-মোরঘোনা সড়কের পাশের জুম চাষি ননা চাকমা বাসসকে জানান, পাহাড়ের ঢালু এলাকায় প্রথমে চাষের জন্য উপযোগী জমি নির্বাচন করা হয়। পরে নির্ধারিত স্থানে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করা হয়। চাষের জমি পরিষ্কার করে চৈত্র মাসে নির্ধারিত জমির জঙ্গল এক মাসের বেশি সময় ধরে রোদে শুকানোর পর তা আগুনে পোড়ানো হয়। এরপর চৈত্রের শেষ থেকে বৈশাখের শুরু পর্যন্ত জমির আগাছা পরিষ্কার করে সেখানে ধানসহ নানা প্রজাতির ফসলের বীজ বপন করা হয়।

রাঙামাটির বরাদম এলাকার জুম চাষি আনন্দ চাকমা বলেন, জুম চাষে ধানের পাশাপাশি পাহাড়ের মাটিতে দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে সাথি ফসল হিসেবে কলা, ভূট্টা, মারফা, মরিচ, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল, আদা, মিষ্টি কুমড়া, তুলা, তিল, ভুট্টাসহ একসাথে বিভিন্ন প্রজাতির বীজ বপন করা হয়।

পাহাড়ে বিভিন্ন জাতের জুম ধান চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে; হরিণ বিনি, পাধাতটারা, আমেই, কালা কবরক, লঙ লঙ, মেলে (কুকী), কামারাঙ, তোর্গী, বাধেইয়া, কবরক, লেঙদাচিকন, গেলঙ, পাত্তেগী, গুরি, বিনি, কবাবিনি ও লোবাবিনি।

তিনি জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই জুমের ধান পাকা শুরু হয়। ভাদ্র -আশ্বিন মাস থেকেই ঘরে তোলা শুরু হয় জুমের সোনালি ফসল। এ বছর জুমে পোকামাকড়ের উপদ্রব না থাকায় জুমের ফলন ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: মনোহরদীতে এ্যাব মহাসচিবের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

রাঙামাটির কাপ্তাই ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ে পাহাড়ে শোভা পাচ্ছে জুমের সোনালি ফসলের রঙিন আভা।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বাসসকে বলেন, চলতি বছর রাঙামাটি জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জুম চাষ হয়েছে। এতে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার মেট্রিক টন এবং অন্যান্য সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হাজার মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, পাহাড়ের একই জমিতে বারবার জুম চাষ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘনঘন জুম চাষে সামগ্রিক ফলন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে জুম চাষের আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: নর্থবেঙ্গল সুগার মিলসের আখ মাড়াই মৌসুম আজ শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে বারোমারীতে জেলা পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে ফাতেমা রাণী মা মারীয়ার তীর্থোৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ওসমান গনি, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে বারোমারীতে জেলা পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে ফাতেমা রাণী মা মারীয়ার তীর্থোৎসব

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানাধীন বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘ফাতেমা রাণী মা মারীয়ার তীর্থোৎসব-২০২৬’। জেলা পুলিশের সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত খ্রিষ্টভক্তরা নির্বিঘ্নে তাঁদের প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

তীর্থোৎসব উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান ও বারোমারী মিশনের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং পুরো উৎসব প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন শেরপুর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মহোদয় তীর্থোৎসব পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত খ্রিষ্টভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। পাশাপাশি তিনি সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং তীর্থযাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের সবুজ কোলে, পর্তুগালের ঐতিহাসিক 'ফাতেমা নগর'-এর আদলে ১৯৯৭ সালে গড়ে ওঠে এই বারোমারী খ্রিস্টান ধর্মপল্লী। প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ভক্তি আর প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রকৃতির কোলে ডানা মেলা শান্ত এই পাহাড়ি জনপদ।

এ সময় শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ২ এপিবিএন জনাব মান্না দে, সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) জনাব আফসান আল-আলম, নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, রেভারেন্ট ফাদার তরুণ বনোয়ারি, তীর্থোৎসব পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাগণ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পুলিশের পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তীর্থোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজনে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা পুলিশ সর্বদা দায়িত্বশীল ও আন্তরিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনায় ঘরের শত্রু বিভীষণ, বিশ্বকাপে একাদশ ফাঁস করেছিলেন মেসির সতীর্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


আর্জেন্টিনায় ঘরের শত্রু বিভীষণ, বিশ্বকাপে একাদশ ফাঁস করেছিলেন মেসির সতীর্থ

আর্জেন্টিনার সাংবাদিক ফেদে রদাস একটি উল্লেখযোগ্য দাবি উত্থাপন করেছেন। তার মতে, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পূর্বে মেসির এক সতীর্থ দলের গোপন তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। সেই খেলোয়াড় শুরুর একাদশে স্থান পাননি, ফলে তিনি কোচ লিওনেল স্কালোনির একাদশের তথ্য জানিয়ে দেন।

রদাস আরও উল্লেখ করেছেন, ওই খেলোয়াড় একটি অতিরিক্ত তথ্যও দিয়েছিলেন। ফাইনালের প্রস্তুতির সময় অনুশীলনে একজন আহত খেলোয়াড়কে নিয়ে একটি ঘটনা ঘটে, সেই খবরও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে সাংবাদিক ওই খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করেননি। তিনি শুধুমাত্র বলেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষ মানের খেলোয়াড়। দলের অন্য সদস্যদের চেয়ে তার অবস্থান নিচে থাকতে তিনি রাজি ছিলেন না।

রদাস বলেন, ‘আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন, কারণ তিনি যতটা খেলার সুযোগ পেতে চেয়েছিলেন, তা পাচ্ছিলেন না।

‘ওই খেলোয়াড় আমাকে বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরুর একাদশ জানিয়ে দিয়েছিলেন। অনুশীলনে এক আহত খেলোয়াড়কে নিয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার খবরও তিনি আমাকে দিয়েছিলেন।

তিনি ছিলেন একজন দারুণ খেলোয়াড়। কিন্তু তার চেয়ে ভালো কিছু খেলোয়াড় ছিল। এটি তিনি মেনে নিতে পারেননি। তার মনোভাব ছিল মোটামুটি এমন: ‘ও, আমাকে খেলাবে না? তাহলে আমি তোমার লাইনআপ ফাঁস করে দেব।’

ফাইনালে স্কালোনি মাত্র একটি পরিবর্তন করেছিলেন। লুসাইলে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পরিবর্তে আনহেল দি মারিয়া মাঠে নামেন। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল জয়ের দলের সঙ্গে এটি ছিল একমাত্র পার্থক্য।

ম্যাচের শুরুতে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করেন এবং দি মারিয়াও একটি গোল করেন। পরে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুটি গোল করে ম্যাচ ২-২ করে দেন। অতিরিক্ত সময়ে মেসি আবার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু এমবাপে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যান। সেখানে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে আর্জেন্টিনা ৪-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।

ওই বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। তিনি সাত ম্যাচে সাত গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেন। তিনি গোল্ডেন বল জিতেন। ছয়টি ম্যাচে তিনি গোল করেছেন এবং ফাইনালে দুটি গোল করেন। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারেও তিনি গোল করেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।

মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলেছেন। তবে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পরাজিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রহমতের বৃষ্টির আশায় রায় বাঙালি জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল, পঞ্চায়েতি সিন্নি বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


রহমতের বৃষ্টির আশায় রায় বাঙালি জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল, পঞ্চায়েতি সিন্নি বিতরণ

দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও পানির সংকটে অতিষ্ঠ কৃষকসহ সাধারণ মানুষের স্বস্তি কামনায় মহান আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি চেয়ে রায় বাঙালি জামে মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জুমার নামাজ আদায়ের পর মসজিদের মুসল্লিরা সম্মিলিতভাবে মহান আল্লাহর দরবারে রহমত, বরকত ও পর্যাপ্ত বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন।

এ সময় মোনাজাতে এলাকার কৃষকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত পানি, ফসলের সুরক্ষা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসার জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের সুস্থতা কামনা করা হয়।

দোয়া শেষে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে পঞ্চায়েতি সিন্নি বিতরণ করা হয়। মুসল্লি ও উপস্থিত লোকজনের মধ্যে সিন্নি বিতরণের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, মহান আল্লাহর রহমতের আশায় এলাকার মানুষের সম্মিলিত এই দোয়া ও সিন্নি বিতরণ ছিল একটি ধর্মীয় উদ্যোগ। সবাই মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একই হামলায় পরিবারে ১২ সদস্যকে হারানো ইরানির হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


একই হামলায় পরিবারে ১২ সদস্যকে হারানো ইরানির হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা

তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় হামেদ মির্জায়ি তাঁর পরিবারের ১২ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তাঁর ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মুহাদ্দেসাও ছিলেন। তরুণ এই দম্পতি একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছিলেন, সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

২০২৬ সালের ৯ মার্চের সেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা কীভাবে তাঁর পুরো জীবন এলোমেলো করে দিল, আল জাজিরার কাছে তুলে ধরা তাঁর হৃদয়বিদারক অনুভূতির কথা তুলে ধরা হলো:

“বোমা হামলার পর সাতটি মাস কেটে গেছে। কিন্তু আজও, সচেতন হওয়ার মুহূর্তে অনেক দিন আমি নিজেকে সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির সামনেই আবিষ্কার করি—যন্ত্রণা নিয়ে এখনও খুঁজে ফিরি আমার প্রিয়জনদের।

যে বাড়িটিতে হামলা চালানো হয়েছিল, সেটি বানিয়েছিলেন আমার দাদা ও বাবার চাচা। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের জন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাগ করে দিয়েছিলেন। বছরখানেক আগে যখন আমার বিয়ে হয়, আমি ও আমার স্ত্রী সেই একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে উঠেছিলাম। আমরা কেবলই সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমরা তরুণ ছিলাম, সামনে পুরো জীবন পড়ে ছিল। আর ঠিক তখনই নেমে এলো ওই ধ্বংসযজ্ঞ।

মার্চ মাসের ৯ তারিখ ছিল সোমবার। দুপুর ১টার দিকে আমি কাজের উদ্দেশ্যে বের হই। দুপুর আড়াইটার দিকে আমার স্ত্রী আমাকে মেসেজ করে বলে, ফেরার পথে যেন তার জন্য মাথাব্যথার কিছু ওষুধ নিয়ে আসি। সে ঠিক কোন ওষুধটি চায় তা জানতে আমি তাকে ফোন করি, কিন্তু তার নম্বর ব্যস্ত পাচ্ছিলাম। সেদিন আমাদের বাড়িতে মেহমান আসার কথা ছিল, তাই আমি মেহমানের নম্বরে ফোন করি। সেই নম্বরটিও ব্যস্ত পাই। ফোন রেখে আমি ভাবলাম, একটু পর স্ত্রীকে আবারও চেষ্টা করব।

বাড়ি পৌঁছাতে আর মাত্র মিনিট পাঁচেক বাকি, ঠিক তখনই হঠাৎ এক বিকট বাঁশির মতো শব্দ শুনতে পাই। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক তখনই আঘাত হানে।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমার পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠে। তখনও হাতের মুঠোয় ফোন নিয়ে স্ত্রীকে বারবার কল করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তার ফোন ছিল নেটওয়ার্কের বাইরে। একে একে পরিবারের সবাইকে—আমার দাদা, বাবা, মা—ফোন দেওয়া শুরু করি। কারও ফোনই কাজ করছিল না।

এত কিছুর পরও আমি ভেবেছিলাম আমার বাড়িতে হয়তো আঘাত লাগেনি। মনে মনে নিজেকে বলছিলাম, কোনোভাবেই তাদের আমার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা করার কথা নয়। হয়তো আমাদের মহল্লার অন্য কোথাও ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। সেই মুহূর্তে আমার একমাত্র আকুতি ছিল কোনোমতে বাড়ি পৌঁছে দেখা যে, সেটা এখনও অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে।

কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে আমাদের বাড়টিতে। সেখানে পৌঁছে দেখি আশেপাশের সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, কিন্তু আমার পা সরছিল না। আমার ঘর যে মাটির সাথে মিশে গেছে, তা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল এটাই। দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, সেই সুবিশাল ভবনের কেবল কঙ্কালটুকুই অবশিষ্ট আছে।

আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, চারপাশ তখন আগুনে জ্বলছে। আমার মাথায় তখন একটিই চিন্তা—যেকোনোভাবে দ্বিতীয় তলায় উঠে আমার স্ত্রীকে খুঁজে বের করা। কিন্তু দোতলায় ওঠার কোনো সিঁড়ি ছিল না। প্রথম তলার বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধারে সাহায্য করছিলেন।

আমি ভেবেছিলাম অনুসন্ধান চালুর পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কোথাও হয়তো আমার পরিবারের মানুষদের জীবন্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু তাঁরা পাননি। সেই মুহূর্তে কাউকেই পাওয়া যায়নি, এমনকি তার পরবর্তী ঘণ্টাগুলোতেও না। রাত নেমে এলেও ভবনটি থেকে আর কাউকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের বারোটি মানুষ মুহূর্তেই নিখোঁজ হয়ে গেল, অথচ আমি সেই স্থান ছেড়ে এক পা-ও নড়তে পারছিলাম না।

সেই রাত, তার পরের দিন, তার পরের দিন এবং তারও পর থেকে প্রতিটা দিন—আমি বারবার ফিরে গিয়েছি আমার সেই ধ্বংসস্তূপে। টানা ২০ দিন ধরে আমি সেই ধ্বংসস্তূপ, ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ আর বিস্ফোরণের ছাই সরিয়ে আমার প্রিয়জনদের খুঁজেছি। কিন্তু সেখানে কিচ্ছু অবশিষ্ট ছিল না।

আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার শ্যালিকা—যে অতিথি হয়ে এসেছিল—সেও মারা গেছে। আমার বাবা-মা, দাদা-দাদী, আমার ফুফা ও ফুফাতো বোন, আমার চাচা, আমার বাবার চাচাতো ভাই, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তান—সবাই এক হামলায় শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবারের ১২ জন মানুষকে এই হামলায় হত্যা করা হয়েছে, আর মানুষ এখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আমি কেমন আছি?’

আমার খুব মনে পড়ে ওদের কথা। প্রতিটি দিন যাওয়ার সাথে সাথে সেই হাহাকার আরও বাড়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো সময় গড়ালে শোক কিছুটা থিতিয়ে আসবে, মনে হয়তো কিছুটা শান্তি পাব। কিন্তু তা হয়নি। দিন যত যাচ্ছে, আমার নিজেকে তত বেশি নিঃস্ব ও অসুস্থ মনে হয়।

আমি মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলাম। সব সময় ভাবতাম, নিজের ভাইবোন না থাকলেও আমার এক বিশাল পরিবার আছে যাদের সাথে আমি হেসেখেলে বৃদ্ধ হব। আজীবন আমাদের পুরো বড় পরিবারটি পাশাপাশি এক ছাদের নিচে বাস করেছে। অথচ আজ সেই মানুষগুলো, পরিবারের মধ্যে বইতে থাকা সব ভালোবাসা—সবকিছু এক নিমিষে বিলীন হয়ে গেল।

পুরো পরিবারে একমাত্র আমিই বেঁচে আছি। আমার পরিবারের আর কেউ নেই। আমি এখন সম্পূর্ণ একা।

যুদ্ধ যে কখনোই কোনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না—এর জন্য যে কেউ এখনও প্রমাণ চাইলে আমি নিজেই তার জ্যান্ত উদাহরণ। যে কেউ যদি মনে করে যুদ্ধ একটি ভালো বিষয়, তবে তাদের উচিত আমার দিকে তাকানো এবং নিজেকে প্রশ্ন করা: ‘এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কোথায় ভালো কিছু লুকিয়ে আছে?’

যে ভবনে আমার জন্ম, যে ভবনে আমার বাবার জন্ম, যে ভবনে আমি আশা করেছিলাম আমার সন্তানের জন্ম হবে—একটি সেকেন্ডের ভগ্নাংশে তার সবটুকু ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হলো। আমার ঘর আর আমার পরিবারকে এক সাথে মুছে ফেলা হলো। আর যখন আমি তাদের ভীষণ মিস করি, আমি সত্যিই জানি না আমি কার দিকে তাকাব বা কোথায় সান্ত্বনা খুঁজব।

তারা আমাদের বাড়িটি ধ্বংস করার পর সাতটি মাস কেটে গেছে। আজও প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আমি এই ধ্বংসস্তূপের দিকে এসে দাঁড়িয়ে থাকি। কোনোভাবেই জায়গাটা ছেড়ে দূরে যেতে পারি না। মনে হয় আমার পুরো জীবনটাই এখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে, আর প্রতিদিন আমি ফিরে আসি—যদি আমার জীবনের হারিয়ে যাওয়া কোনো অংশ কুড়িয়ে পাই! কিন্তু এখানে আসলে আর কিছুই বাকি নেই।

কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কী ভাবছি বা কেমন বোধ করছি, আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। জীবনে যা কিছু করেছি, সব করেছি পরিবারের হাসিমুখ দেখার জন্য। এখন আমার আর এমন কোনো পরিবারই নেই যাদের জন্য আমি কিছু একটা করতে পারি।

প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করি: ‘আমি কেন এখনও বেঁচে আছি?’ আমার কাছে এর কোনো জবাব নেই।

আমার নিহত পরিবারের সাথে আমার একটাই পার্থক্য—তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে মাটিচাপা পড়ে আছে, আর আমি মৃতদেহের মতো বাইরে হেঁটে বেড়াচ্ছি। এ ছাড়া তাদের সাথে আমার আর কোনো তফাত নেই। পার্থক্য কেবল একটাই, নিহতদের তালিকায় আমার নামটা এখনও ওঠেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%