১১:২৯ পি.এম
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিনিয়োগের অনিশ্চয়তার কারণে এই মুহূর্তে সরকার বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিডা আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রবাহ এবং বিনিয়োগ সহজীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন মন্তব্য করেন, ‘কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক-এসব দিক থেকেই চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে শুধুমাত্র বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রতিরক্ষা, রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং অন্যান্য কৌশলগত বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।’
তিনি জানান, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের কাজ দ্রুততর এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?
এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রায় ৭৮৩ একর জায়গায় গড়ে উঠতে চলেছে, এবং তার কাজ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে। এছাড়া চীন মোংলা বন্দরে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সেখানে একটি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সম্ভাব্য চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের আয়োজনও করা হচ্ছে।
আশিক মাহমুদ আরো জানান, ‘নতুন সরকারের প্রথম দুই বছর সাধারণত বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বড় আকারের অবকাঠামো এবং শিল্প বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে চীনের কাছে এমন খাতগুলো তুলে ধরা, যেখানে বিনিয়োগ করলে উভয় দেশই লাভবান হবে।’
তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এখনও প্রধান বাধা হয়ে আছে জ্বালানি সংকট। বিডা চেয়ারম্যানের অনুযায়ী, গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের অন্যতম কারণ বলে তিনি জানান।
তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে আমার কাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ জ্বালানি সংকটের সমাধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর এবং শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বাস্তব লক্ষ্য হচ্ছে, জ্বালানি সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। বড় প্রকল্প শুরু করলেও তা থেকে লাভ পেতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটানো।’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন
বিডা চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার জন্য অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী এখনও অপেক্ষা-দেখো নীতি অনুসরণ করছেন। যদিও চলতি বছরে আয়োজিত বিনিয়োগ সম্মেলনের পর প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে, তবুও অনেক বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবে রূপ নিতে সময় নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার দেশীয় বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ বা অকার্যকর শিল্প প্রতিস্থাপনগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতেও বিডা গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে একটি বিনিয়োগ প্রকল্প নিবন্ধন থেকে উৎপাদনে যেতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদনে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ সময় এবং অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিডা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্লাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা করেছে, যেখানে এক জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় আবেদন এবং অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করা যাবে। ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া কমিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার মাধ্যমে দুর্নীতি এবং হয়রানি কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে সরকার ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে চায়। এর মধ্যে সরকারি ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিডা ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২৫টি বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে কিছু উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন