০৯:৫৬ এম
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লিওনেল মেসি বিশ্ব ফুটবলে সর্বোচ্চ রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চলেছেন। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ছেন, আর এখন তার সামনে অপেক্ষা করছে আরও একটি অনন্য মাইলফলক।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার (২২ জুন) শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। আগামী ডালাসে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে গোল করতে পারলে, মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের একার মালিক হয়ে উঠবেন।
প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, যা তাদের দুর্দান্ত সূচনা নির্দেশ করে। সেই ম্যাচে আক্রমণভাগ ছিল অত্যন্ত ভাল ফর্মে। অপরদিকে, অস্ট্রিয়া জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে। ফলে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার জন্য ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: সাফের আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরে চিকিৎসাসেবার দায়িত্বে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও মেসির দিকে নজর থাকবে। ফুটবল প্রেমী কোটি কোটি সমর্থকরা এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছেন, কারণ আরেকটি গোল মেসিকে ইতিহাসের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
তবে অস্ট্রিয়া সহজে আর্জেন্টিনাকে প্রতিযোগিতা ছাড়তে রাজি নয়। দলের কোচ এবং খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই বলেছেন, তারা নিজেদের সেরাটা উজাড় করতে প্রস্তুত। আর্জেন্টিনার তারকাকেন্দ্রিক আক্রমণভাগ রোধ করতে, সাধারণভাবে রক্ষণাত্মক কৌশলের পাশাপাশি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এদিকে, আর্জেন্টিনা চাইবে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় ধাপ এগিয়ে যেতে। আর সেই লক্ষ্য পূরণের রাতে মেসি নতুন ইতিহাস গড়তে পারবেন কি না, সেটাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ে, মেসি ক্যারিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেছেন। গত ম্যাচে তিনটি গোল করে, তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৬-এ পৌঁছেছে, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজার রেকর্ডের সমান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একটি গোলই মেসিকে শীর্ষে নিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে ১৯ মামলার আসামি ফিরোজ বাবু আটক
এছাড়া, গোল করতে পারলে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়বেন তিনি, যা এর আগে ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতের এবং ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের জর্জিনহো করেছিলেন।
মেসির প্রভাব ৩৮ বছর বয়সে ও অটুট। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ১০টি শটের মধ্যে আটটিতেই মেসির সরাসরি অবদান ছিল। তিনি নিজে ছয়টি শট নিয়েছেন এবং সতীর্থদের জন্য দুটি সুযোগ তৈরি করেছেন।
আরও, আর্জেন্টিনা শক্তি শুধু মেসিতে সীমাবদ্ধ নয়। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ নেতৃত্বে মাঝমাঠে তাদের নিয়ন্ত্রণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পুরো ম্যাচে আলজেরিয়া কোনো শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
অন্যদিকে, জর্ডানকে হারিয়ে আসা অস্ট্রিয়া আত্মবিশ্বাসে রয়েছে। ইউরোপীয় দলটি গত চার ম্যাচে জয়ী হয়েছে, এবং এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে চমক দেখানোর পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় বিএনপি'র পথসভা, অস্থিতিশীল পরিবেশের প্রতিবাদে আহ্বান
অস্ট্রিয়ার তরুণ মিডফিল্ডার পল ওয়ানার বলেন, "আমরা জানি আর্জেন্টিনা কতটা শক্তিশালী দল। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। তবে আমাদের সক্ষমতার উপরও আমাদের বিশ্বাস আছে। যদি আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে আমরা যেকোনো দলকেই চাপে ফেলতে পারব।"
তবে ম্যাচের আগে অস্ট্রিয়া কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অধিনায়ক ডেভিড আলাবা, স্টেফান পোশ, ও আলেসান্দ্রো শপফের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অপরদিকে, আর্জেন্টিনাও রক্ষণভাগের গনসালো মন্টিয়েলের চোট নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এই ম্যাচে জয় পেলে, এবং অন্য ম্যাচে জর্ডানের কাছে আলজেরিয়া পয়েন্ট হারালে, আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২তে প্রবেশ নিশ্চিত করবে। এখন দেখার বিষয়, অস্ট্রিয়ার বাধা অতিক্রম করে মেসি নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন কি না।
আরও পড়ুন: পুষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে বাকৃবি-নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের সমঝোতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন