প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভালোবাসার গল্প অনেক রকম হয়ে থাকে। তবে এরকম বিশেষ একটি গল্প খুব কমই শোনা যায়, যেখানে যমজ দুটি ভাই বিয়ে করেন যমজ দুটি বোনকে, এবং কাকতালীয়ভাবে দুই জোড়া নবদম্পতির নামও এক!
নাইজেরিয়ার ইবাদান শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন একটি ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন। যমজ ভাই তাইও ওগুনতোয়ে এবং কেহিন্দে ওগুনতোয়ে বিয়ে করেছেন যমজ বোন তাইও আদেদিরান ও কেহিন্দে আদেদিরানকে। এর আরও মজার বিষয় হলো, ভাই তাইওর জীবনসঙ্গী হয়েছেন বোন তাইও, আর ভাই কেহিন্দে বিয়ে করেছেন বোন কেহিন্দেকে।
গত শনিবার (২০ জুন) রঙিন আয়োজনের এই দ্বৈত বিয়েতে চারজনই পরেছিলেন একইভাবে তৈরি পোশাক। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে ইবাদানের বিশপ আকিনইয়েলে মেমোরিয়াল অ্যাংলিকান চার্চে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
কিন্তু এই প্রেমের গল্পের শুরুটা এতটা সহজ ছিল না। বর তাইও জানান, ‘আমরা সবসময়ই একসঙ্গে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, আর আমাদের ইচ্ছা ছিল যমজ মেয়েদেরই বিয়ে করার।’
কিন্তু শুরুতে, দুই বোন মোটেও এই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। হাসতে হাসতে কনে কেহিন্দে বলেন, ‘আমরা প্রথমে বলেছিলাম, না, আমরা যমজদের সঙ্গে প্রেম করতে চাই না।’
সময়ের সঙ্গে বদলে যায় তাদের সিদ্ধান্ত। বন্ধুত্ব থেকে শুরু হয় সম্পর্ক, আর সেই সম্পর্কই শেষে গড়ায় বিয়েতে। বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করে চারজনই একসাথে নতুন জীবনে পা রাখেন।
বিয়ের আগে ঐতিহ্যবাহী বাগদান অনুষ্ঠান এবং পরে জমকালো ‘হোয়াইট ওয়েডিং’ অনুষ্ঠিত হয়। গত রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে যমজ ভাইরা যৌথ পোস্টে লেখেন, ‘যমজরা বিয়ে করল যমজদের! গতকালের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল অসাধারণ। আমাদের আনন্দের দিনে যারা পাশে ছিলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ আরেকটি পোস্টে তারা লেখেন, ‘চিরদিনের জন্য একসঙ্গে।’
ইয়োরুবা সংস্কৃতিতে ‘তাইও’ নামের অর্থ হচ্ছে ‘যমজদের মধ্যে যে প্রথম পৃথিবীর স্বাদ নেয়’। অন্যদিকে ‘কেহিন্দে’ অর্থ হলো ‘যমজদের মধ্যে পরে জন্ম নেওয়া সন্তান’।
এই অনন্য বিয়ের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে ‘দ্বিগুণ ভালোবাসা’ এবং ‘নিখুঁত কাকতালীয়তা’ বলে অভিহিত করেছেন। একই শহরে, একই সময়ে, একই রকম নামের দুই জোড়া যমজের এই মিলন যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন